‘বিগ বস ২০’ থেকে বাদ পড়ার পর সলমন খান সঞ্চালিত রিয়্যালিটি শোয়ে নিজের অভিজ্ঞতা নিয়ে মুখ খুললেন বক্সার মেরি কম। অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার কারণ থেকে শুরু করে প্রতিযোগীদের আচরণ—সব নিয়েই কথা বলেছেন তিনি। পাশাপাশি প্রিয়াঙ্কা চোপড়া অভিনীত নিজের বায়োপিক নিয়েও হতাশা প্রকাশ করেছেন এই কিংবদন্তি বক্সার। তাঁর দাবি, ছবিতে ধরা পড়েনি তাঁর সংগ্রাম ও কঠোর পরিশ্রমের একাংশও।

বিগ বসে যোগ দেওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করে মেরি বলেন, “এই ধরনের অনুষ্ঠানের অভিজ্ঞতা অর্জন করতেই বিগ বসে এসেছিলাম। এত বছর ধরে অনুষ্ঠানটি দেখেছি। কিন্তু নিজে অংশ না নিলে এর অভিজ্ঞতা বোঝা যায় না। আমি চেয়েছিলাম, মানুষ আমার জীবনের পথচলা সম্পর্কে জানুন। বক্সিংয়ের যাত্রাটা আলাদা। কিন্তু পৃথিবীর বহু মানুষ হয়তো আসল মেরি কমকে চেনেন না। এই অনুষ্ঠানের পরে তাঁরা বুঝেছেন, আমি শুধু একজন বক্সার নই, একজন মা এবং একজন মানুষও।”

তিনি আরও বলেন, “এত বছর ধরে অনেকে ধরে নিয়েছিলেন, আমি রান্না করতে জানি না, ঘরের সাধারণ কাজকর্মও পারি না। সেই ধারণাগুলো ভুল প্রমাণ করার সুযোগ ছিল এটি।”

অনুষ্ঠানে নিজের আচরণ নিয়ে ওঠা প্রশ্নের জবাবে মেরি বলেন, “আমি কোনও অভিনয় করিনি। যাঁরা আমাকে খুব ভালো করে চেনেন, তাঁরা সেটা বুঝবেন। আমার মনে হয়েছিল, এটাই উপযুক্ত সময়। মানুষ আমাকে অন্যভাবে বিচার করেছিলেন, কিন্তু আমি তা নিয়ে মাথা ঘামাইনি। আমি জানি, মানুষ আমাকে ভালোবাসেন। এখন তাঁরা আসল মেরি কমকেও চিনেছেন।”

নিজের দীর্ঘ কেরিয়ারের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “জীবনে এত কঠোর পরিশ্রম করে যে মানুষটি এই জায়গায় পৌঁছেছেন, তাঁকেই দেখাতে চেয়েছিলাম। আমি আমার গোটা জীবন উৎসর্গ করেছি। ক’জন পারেন ২০ বছর ধরে খেলে যেতে? আমি কতটা খাঁটি, তা নিজের কাজ দিয়েই প্রমাণ করেছি। সাত সপ্তাহ ধরে ভান করে থাকা যায় না। কখনও কখনও ভাবতাম, এভাবে কী করে থাকব! তবে অভিজ্ঞতাটা উপভোগ করেছি।”

ভাষার বাধা, অসম্মানের অভিজ্ঞতা

‘বিগ বস ২০’-তে যথেষ্ট সক্রিয় ভূমিকা না নেওয়ার জন্য বারবার সমালোচনার মুখে পড়েছেন মেরি কম। ভাষাগত সমস্যাও তাঁর সামনে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল। অনুষ্ঠানে কখনও অসম্মানিত বোধ করেছেন কি না, সেই প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, “মাঝেমধ্যে নিজেকে অসম্মানিত মনে হয়েছে। পরে বুঝেছি, এটা এমন একটা খেলা, যেখানে অন্যকে উসকে দেওয়া হবে, আঘাত করা হবে। ঝগড়া করা আর কৌশলে অন্যকে চালানো হয়তো ওদের খেলার পদ্ধতি। কিন্তু আমি অকারণে ঝগড়া করতে চাইনি।”

নিজের বক্তব্য বোঝাতে সমস্যার কথাও স্বীকার করেছেন মেরি। তাঁর কথায়, “যখন মেজাজ হারিয়েছি, তখন হিন্দি ভাষা ও ব্যাকরণে তেমন দখল না থাকায় নিজের কথা ঠিকভাবে বোঝাতে পারিনি। ফলে আমার কিছু কথা হয়তো ভুলভাবে শোনাতে পারে। খারাপ কিছু বলার উদ্দেশ্য আমার কখনও ছিল না।”

প্রতিযোগীদের সঙ্গে তর্কবিতর্কের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “প্রত্যেকেই নিজের নিজের জায়গায় ভালো ছিলেন। উদিতির সঙ্গে যখন আমার তর্ক হয়েছিল, তখন আমিও পাল্টা জবাব দিয়েছি। বাস্তব জীবনে আমি এমন নই। মাহি যখন বলল, ‘আমি কে, আমার নাম কী?’—তখনও আমি হতবাক হয়ে গিয়েছিলাম। কাউকে এভাবে অসম্মান করা ভালো নয়। আমার খারাপ লেগেছিল। কিন্তু আমি জানতাম না, আমাকে এই ধরনের খেলা খেলতে হবে। অনেকেই আমার ভাষাগত দুর্বলতার সুযোগ নিয়েছেন।”

বায়োপিক নিয়ে হতাশা, দ্বিতীয় পর্বে না

বিগ বসের অভিজ্ঞতার পাশাপাশি নিজের জীবন অবলম্বনে তৈরি প্রিয়াঙ্কা চোপড়া অভিনীত বায়োপিক নিয়েও কথা বলেছেন মেরি কম। ২০১৪ সালে মুক্তি পাওয়া ‘মেরি কম’ ছবিটি তাঁর জীবনের সংগ্রামকে যথাযথভাবে তুলে ধরতে পারেনি বলেই মনে করেন তিনি। আপাতত ছবিটির দ্বিতীয় পর্ব তৈরির সম্ভাবনাও নাকচ করেছেন বক্সার।

মেরি বলেন, “এখন আর দ্বিতীয় পর্ব হওয়া উচিত বলে মনে করি না। সবাই আমার গল্প জানেন। আমার কেরিয়ার ও জীবনের পথচলা ইতিমধ্যেই ছবিতে এবং আমার ‘আনব্রেকেবল’ বইয়ে তুলে ধরা হয়েছে। তবে বায়োপিকটি বাস্তবের যথাযথ প্রতিফলন ছিল না। গল্পের কিছু অংশ আমার বাস্তব বলে মনে হয়নি। আমার সংগ্রাম ও কঠোর পরিশ্রমের মাত্র ১০ শতাংশ সেখানে দেখানো হয়েছে। বইটি পড়লেই কেবল আমার সংগ্রাম আর পরিশ্রমের কথা বুঝতে পারবেন।”

ভবিষ্যৎ নিয়ে কী ভাবছেন মেরি?

জীবনের আগামী অধ্যায় নিয়ে খুব বেশি পরিকল্পনা করতে চান না মেরি কম। আপাতত শান্তি ও সুখেই বাকি জীবন কাটাতে চান তিনি। ব্যক্তিগত জীবনেও নতুন করে ভালোবাসা আসবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্নের জবাবে মেরি বলেন, “জীবনের বাকি সময়ে কী হবে, তা জানি না। তবে ভবিষ্যৎটা যেন নির্বিঘ্ন ও সুখের হয়, সেটাই চাই। আমার জীবনে আবার ভালোবাসার জায়গা হবে কি না, মানুষ তা জানতে চান। ভবিষ্যতে তেমন কিছু ঘটলে তখনই সিদ্ধান্ত নেব।”