রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর টলিপাড়ার অন্দরে দীর্ঘদিনের জট ও অচলাবস্থার অবসান ঘটিয়ে শুরু হয়েছে বাংলা সিনেপাড়ার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ফেডারেশন নির্বাচন। প্রাক্তন সভাপতি স্বরূপ বিশ্বাসের ‘আধিপত্য’ ও একনায়কতন্ত্রের অধ্যায় পেরিয়ে এই প্রথম সম্পূর্ণ গণতান্ত্রিক ও শ্রম কমিশনের নিয়ম মেনে ২৬টি গিল্ডের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। শনি ও রবিবার দু’দিন শুটিং বন্ধ রেখে টেকনিশিয়ান ও এনটি ওয়ান স্টুডিওতে চলছে এই ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া। পুরো নির্বাচন প্রক্রিয়ার ওপর কড়া নজরদারি চালাচ্ছেন অভিনেতা তথা রাজ্যের তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের উপদেষ্টা মিঠুন চক্রবর্তী ও বিধায়ক-তারকা রুদ্রনীল ঘোষ।

নির্বাচনকে স্বচ্ছ ও শান্তিপূর্ণ রাখতে এ বার বেশ কিছু কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ভোটার, প্রার্থী এবং নির্বাচন কমিশন ছাড়া অন্য কাউকে ভোটগ্রহণ কেন্দ্রের ভেতরে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না। নিরাপত্তার খাতিরে স্টুডিও চত্বর সিসিটিভি ক্যামেরায় মোড়ার পাশাপাশি পর্যাপ্ত পুলিশি বন্দোবস্ত করা হয়েছে। স্টুডিওর বাইরে প্লাস্টিকের চেয়ারে বসে পুরো প্রক্রিয়ার ওপর নিজে নজরদারি চালিয়ে মিঠুন চক্রবর্তী স্পষ্ট ভাষায় জানান, আগে যেখানে ‘সিলেকশন’ বা মনোনীত করার প্রবণতা ছিল, এবার সেখানে অবাধ ও সুস্থ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় ভোট হচ্ছে।

টলিউডের দীর্ঘদিনের বিতর্কিত ‘ব্যান কালচার’ ও কাজ বন্ধ রাখার হুমকি প্রসঙ্গে মহাশক্তিশালী বার্তা দিয়ে মিঠুন বলেন, “গণতন্ত্রে কারও কাজ বন্ধ করা যায় না। যে যার সঙ্গে ইচ্ছা কাজ করবেন। কেউ বিশৃঙ্খলা বা বদমাইশি করার চেষ্টা করলে তা কঠোর হাতে দমন করা হবে।” পাশাপাশি মুম্বইয়ের মজদুর ইউনিয়নের দীর্ঘ অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে কলাকুশলীদের সমস্ত বকেয়া ও কাজের সমস্যা সুরাহা করার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। নতুন নেতৃত্বের হাতে ফেডারেশন পরিচালিত হলে বাংলা চলচ্চিত্র জগতের কাজের পরিবেশ ও সংস্কৃতি সম্পূর্ণ বদলে যাবে বলেই আশা প্রকাশ করেছেন শিল্পীরা।