মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে 'ভোটচুরি' ও ভোটার তালিকায় গরমিলের অভিযোগে রাজধানী দিল্লিতে নজিরবিহীন শক্তিপ্রদর্শন করল বিরোধী ‘ইন্ডি’ (INDIA) জোট। রবিবার সকাল থেকেই রামলীলা ময়দানে আছড়ে পড়ে হাজার হাজার সমর্থকের ভিড়। কনট প্লেস ও মিন্টো রোডের সংযোগস্থল থেকে একটি হুডখোলা গাড়িতে চেপে রামলীলা ময়দানের উদ্দেশ্যে রওনা হন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী এবং কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে। তাঁদের সঙ্গেই একই মিছিলে হুডখোলা গাড়িতে পাশাপাশি বসে যাত্রা করেন পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব, তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সিপিআই(এম)-এর সাধারণ সম্পাদক এম এ বেবি।

INDIA bloc mega rally: Opposition leaders, thousands of supporters ...

রবিবার ভোর সাড়ে ৫টা থেকেই রামলীলা ময়দানে জমায়েত শুরু করেন বিরোধীদের শরিক দলের কর্মী-সমর্থকেরা। বামপন্থী ছাত্র সংগঠন এসএফআই, আইসা-সহ একাধিক সংগঠনের কর্মী ও সুজন চক্রবর্তীর মতো প্রবীণ নেতারাও এই কর্মসূচিতে অংশ নেন। বিরোধীরা প্রায় ১০ লক্ষ মানুষের জমায়েতের দাবি করলেও, রামলীলা ময়দানের ধারণক্ষমতা অনুযায়ী ৫০ থেকে ৫৫ হাজার মানুষের জায়গা নিশ্চিত করতে এবং আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে রামলীলা চত্বরেই মোতায়েন করা হয়েছে প্রায় ১০ হাজার পুলিশ ও আধাসেনা। পুরো শহর জুড়ে বসানো হয়েছে ২৫০টির বেশি সিসিটিভি ক্যামেরা।

হুডখোলা গাড়িতে অখিলেশ যাদব, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

তবে বিরোধী জোটের এই মেগা সমাবেশকে কেন্দ্র করে দিল্লির রাজনৈতিক উত্তাপ চরম আকার ধারণ করেছে। একই দিনে ১৯৮৪ সালের শিখবিরোধী অশান্তিতে নিহতদের স্মরণে দিল্লির অন্য প্রান্তে পাল্টা প্রতিবাদ মিছিলে নামছে বিজেপি। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরী ও দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তার নেতৃত্বে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। বিজেপি শিবিরের অভিযোগ, ইচ্ছা করেই শিখ দাঙ্গার বর্ষপূর্তির দিনে এমন রাজনৈতিক কর্মসূচির ডাক দিয়েছে কংগ্রেস। জোড়া রাজনৈতিক কর্মসূচি ঘিরে রাজধানী জুড়ে তৈরি করা হয়েছে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বেষ্টনী।