মুম্বাইয়ের ফরে নার্স আঞ্চলিক রেজিস্ট্রেশন অফিস (FRRO) কর্তৃক জারি করা ‘লিভ ইন্ডিয়া’ নোটিসের বিরুদ্ধে বলিউড অভিনেতা ইমরান খানের করা মামলায় সোমবার কড়া মনোভাব ব্যক্ত করল বম্বে হাইকোর্ট। গত মাসে মুম্বাইয়ে ককরোচ জনতা পার্টির (CJP) আয়োজিত বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ মিছিলে অংশ নেওয়ার অভিযোগে তাঁকে ভারত ছাড়ার নোটিস দেওয়া হয়েছিল। এদিন শুনানিকালে হাইকোর্ট স্পষ্ট জানিয়ে দেয় যে, কেবল একটি মুচলেকা দিয়ে পার পাওয়া যাবে না, অভিনেতাকে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে হবে।
প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ শুনানির সময় অভিনেতার আইনজীবীকে উদ্দেশ্য করে বলেন, “আপনি যদি অন্য কোনো দেশে ভারতীয় নাগরিক হিসেবে এমন আইন লঙ্ঘন করতেন, তবে পরবর্তী ফ্লাইটেই আপনাকে ভারতে ফেরত পাঠানো হতো। আপনি এতদিন ধরে ভারতে বাস করছেন, কিন্তু আগে কোনো দিন কোনো প্রতিবাদে অংশ নেননি। এত বছর পর হঠাৎ কেন প্রতিবাদে নামতে গেলেন?” আদালত আরও কড়া সুর চড়িয়ে মন্তব্য করে, “আমেরিকায় যান, সেখানে গিয়ে ভোট দিন বা প্রতিবাদে অংশ নিন। কিন্তু ভারতে থেকে কোনো প্রতিবাদ করা এখানে বরদাস্ত করা হবে না।”
আদালতে এফআরআরও (FRRO)-র পক্ষে সলিসিটর জেনারেল যুক্তি দেন যে, মার্কিন নাগরিকত্বধারী ইমরান খান একজন ওভারসিজ সিটিজেন অফ ইন্ডিয়া (OCI) কার্ডহোল্ডার। ওসিআই কার্ডধারীদের মৌলিক ও রাজনৈতিক অধিকার ভারতীয় নাগরিকদের মতো নয়। একজন পরিচিত অভিনেতা এবং ইনস্টাগ্রামে বহু অনুগামী থাকা সত্ত্বেও তিনি জেনেশুনে বিতর্কিত আন্দোলনে অংশ নিয়েছিলেন। অন্যদিকে ইমরান খানের আইনজীবী দাবি করেন যে, তাঁর মক্কেল দু-তিন বছর আমেরিকা ছাড়া সারা জীবন ভারতেই কাটিয়েছেন এবং তাঁর কাজ ও পরিবার সবই ভারতে রয়েছে।
সব পক্ষের বক্তব্য শুনে বম্বে হাইকোর্ট স্পষ্ট করে যে, ওসিআই কার্ডধারী হিসেবে ভারতে কোনো রাজনৈতিক বিক্ষোভ বা আন্দোলনে অংশ নেওয়া বেআইনি। তবে আদালতের নির্দেশে ইমরান খান নিঃশর্ত ক্ষমাপত্র পেশ করার পর আগামী ৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত তাঁর ভারত ছাড়ার নোটিসের ওপর অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ বজায় রাখা হয়েছে।
পাঠকের মন্তব্য ০
শালীন ও বিষয়ভিত্তিক আলোচনা করুন। মন্তব্য অনুমোদনের পর প্রকাশ হবে।
মন্তব্য করতে আপনার বাংলাস্ফিয়ার অ্যাকাউন্টে লগইন করুন। সদস্যতা কেনার প্রয়োজন নেই।
এখনও কোনো অনুমোদিত মন্তব্য নেই।