নয়া দিল্লি:

দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে ব্যক্তিগত জীবন এবং অনুভূতির ক্ষেত্রে যিনি সবসময় অন্তরালে থাকতে পছন্দ করেছেন, এবার সেই সোনিয়া গান্ধী নিজেই নিজের জীবনের গল্প তুলে ধরতে চলেছেন পাঠকদের সামনে। আগামী ১০ নভেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশিত হতে চলেছে কংগ্রেসের সংসদীয় দলের চেয়ারপার্সন সনিয়া গান্ধীর বহুল প্রতীক্ষিত আত্মজীবনী তথা স্মৃতিকথা ‘বিলঙ্গিং: এ জার্নি অফ লভ’ (Belonging: A Journey of Love)। বইটির প্রকাশকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যে জাতীয় রাজনীতি ও সাহিত্য মহলে শুরু হয়ে গেছে তীব্র জল্পনা।

বিশ্বজুড়ে এই বইটি প্রকাশ করছে স্বনামধন্য প্রকাশনা সংস্থা ‘অ্যালফ্রেড এ নপ’। তবে ভারতে এর প্রকাশনা নিয়ে কিছুটা জটিলতা তৈরি হয়েছিল। মূল খসড়ার সম্পাদনা ও পরিমার্জন নিয়ে ‘পেঙ্গুইন র‍্যান্ডম হাউস’-এর সঙ্গে মতবিরোধ দেখা দেওয়ায় সোনিয়ার প্রতিনিধিরা সেখান থেকে সরে আসেন। পরবর্তীতে বিখ্যাত প্রকাশনা সংস্থা ‘হার্পার কলিন্স ইন্ডিয়া’ (HarperCollins India)-র হাত ধরেই আগামী ১০ নভেম্বর ভারতের বাজারে আসছে এই ঐতিহাসিক স্মৃতিকথা।

বইটির বিষয়বস্তু প্রসঙ্গে জানা গেছে, যুদ্ধবিধ্বস্ত ইটালিতে কেটে যাওয়া তাঁর শৈশব, ভারতের সঙ্গে তাঁর আত্মিক ও গভীর যোগসূত্র, এবং দেশের প্রথম মহিলা প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর সান্নিধ্য ও রাজনৈতিক জীবনের নানা অজানা অধ্যায় এতে স্থান পেয়েছে। পাশাপাশি, প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধীর সঙ্গে তাঁর প্রথম সাক্ষাৎ, পরিণয় সূত্র এবং পরবর্তীতে রাজীব গান্ধীকে যখন প্রধানমন্ত্রী হওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল, সেই সময়ে সোনিয়ার ঘোর বিরোধিতার মতো চাঞ্চল্যকর স্মৃতিও উঠে এসেছে এই বইয়ে। ব্যক্তিগত জীবনের মর্মান্তিক ট্র্যাজেডি থেকে শুরু করে ভারতীয় রাজনীতির কুশীলব হিসেবে তাঁর চার দশকের অভিযাত্রার এক জীবন্ত দলিল হতে চলেছে এই আত্মজীবনী।

বইটি প্রকাশের আগেই রাজনৈতিক মহলে বড় ধরনের শোরগোল পড়ার ইঙ্গিত দিয়ে সোনিয়া গান্ধী নিজেই জানিয়েছেন, এই বই ঘিরে একটি ‘তামাশা’ তৈরি হওয়া অনিবার্য। সম্প্রতি ইনস্টাগ্রাম ও এক্স-এ একটি ভিডিয়োবার্তার মাধ্যমে তিনি জানান, বহু বছর ধরে তাঁকে নিয়ে যা লেখা হয়েছে, তার বড় অংশই মনগড়া বা অতিরঞ্জিত। অন্যের কলমে নিজের জীবনকে সংজ্ঞায়িত হতে না দিয়ে নিজেই বাস্তব সত্য সকলের সামনে তুলে ধরতে এই বই লিখেছেন তিনি। পাঠকদের প্রতিক্রিয়া নিয়ে তিনি বলেন, ‘‘এই বই পড়ার পর অনেকেই আমাকে নিয়ে নিজেদের পুরনো ধারণা বদলাতে পারেন। কারও দৃষ্টিভঙ্গি ইতিবাচক হতে পারে, আবার কারও চোখে আমার ভাবমূর্তি আরও খারাপ হতে পারে।’’ তবে এই সমালোচনা ও প্রতিক্রিয়া যে স্বাভাবিক, তা মেনে নিয়ে সোনিয়ার স্পষ্ট বার্তা— ‘‘আগে অন্যদের ক্ষেত্রে হয়েছে। এ বার আমার পালা।’’ আগামী দিনে রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে এই বই যে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করবে, তা বলাই বাহুল্য।