বাংলাস্ফিয়ারঃ রাজধানীতে প্রকাশিত হল প্রবীণ সাংবাদিকের প্রথম উপন্যাস ‘দ্য অ্যাক্টর’

উপন্যাসের চরিত্র নির্মাণে অনুপ্রেরণা হিসেবে কয়েকজনের নাম অবশ্য উল্লেখ করলেন তভলীন সিং। যেমন, জনপ্রিয়তা হারাতে থাকা এক বলিউড তারকাকে নতুন একটি ধর্মনিরপেক্ষ দলে টেনে আনেন যে সাংসদ নরেশ খান্না, তাঁর চরিত্রটি বিহারের জন সুরাজ দলের প্রতিষ্ঠাতা প্রশান্ত কিশোরের আদলে ‘খুবই আলগাভাবে গড়া’।

তভলীন বলেন, ‘‘আমি ৫০ বছর ধরে রাজনীতি নিয়ে সাংবাদিকতা করছি। আমার জীবনে যত রাজনীতিককে চিনেছি, তাঁদের মধ্যে প্রশান্ত কিশোরই একমাত্র মানুষ, যিনি সত্যিকারের কঠিন পরিশ্রমটা করেছেন।’’ তাঁর কথায়, দু’বছর ধরে বিহারের গ্রামে গ্রামে ঘুরে প্রশান্ত ভোটারদের বলেছেন, জাতপাতের ভিত্তিতে ভোট দেওয়া বন্ধ করুন। ‘‘এই কারণেই আমি তাঁকে সমর্থন করি।’’

তবে নাজিব জংয়ের মতে, নরেশের মতো ‘দৃঢ় নীতিবোধ’ প্রশান্তের নেই। তাঁর প্রস্তাব, এই চরিত্রের আদর্শ হিসেবে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধী কিংবা তাঁর ছেলে, লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীকে বেছে নেওয়াই বেশি স্বাভাবিক হত।

পাল্টা জবাবে তভলীন বলেন, বংশানুক্রমিক রাজনীতির শুরু হয়েছিল তখনই, যখন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী তাঁর ছোট ছেলে সঞ্জয়ের হাতে ‘‘শুধু কংগ্রেস দল নয়’’, গোটা দেশটাই তুলে দিয়েছিলেন। তাঁর কথায়, ‘‘রাজনীতিকেরা যখন নিজেদের ছেলেমেয়েদের রাজনীতিতে নিয়ে আসেন, তখন আসলে তাঁরা একটা ব্যবসা শুরু করেন। ওটা জনসেবা নয়।’’

উপন্যাসের নামের ‘অভিনেতা’ হলেন অমিত সিং। পরপর তিনটি ছবি ব্যর্থ হওয়ার পর এই সুপারস্টারের জনপ্রিয়তায় ভাটা পড়েছে। তাঁকেই দলের মুখ হিসেবে নিয়ে আসেন নরেশ। লেখিকা জানান, চরিত্রটি গড়ার সময় তাঁর মাথায় ছিলেন অমিতাভ বচ্চন, বিনোদ খান্না ও রাজেশ খান্না—চলচ্চিত্রের তারকা থেকে যাঁরা রাজনীতিতে এসেছিলেন।

বইয়ের জন্য তথ্য সংগ্রহের সময় গীতিকার ও চিত্রনাট্যকার জাভেদ আখতারের সঙ্গে একদিন প্রাতরাশ করেছিলেন তভলীন। জাভেদ তাঁকে বলেছিলেন, সত্যিকারের কোনও সুপারস্টার কখনও রাজনীতিতে আসতেন না।

তভলীনের যুক্তি, অভিনয় ও রাজনীতি—দুই জগৎই একই ধরনের মানুষকে আকর্ষণ করে। ‘‘ভাল রাজনীতিক হতে গেলে আপনাকে অভিনেতাও হতে হবে,’’ বলেন তিনি। তাঁর মতে, এই গুণটির অভাবেই অত্যন্ত সজ্জন কিছু মানুষ পিছিয়ে পড়েছেন। প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং, যেমন, ‘‘ভাল বক্তা ছিলেন না’’।

আলোচনা এর পর মুসলমানদের প্রতি আচরণের প্রসঙ্গে নিয়ে যান জং। তাঁর অভিযোগ, গত ১২ বছর ধরে তাঁদের নিজেদের ‘‘দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিক’’ বলে মনে করানোর জন্য ‘‘ইচ্ছাকৃত ও সচেতন প্রচেষ্টা’’ চলেছে।

তভলীন জবাব দেন, ‘‘বইটি তো সেই বিষয় নিয়েই। ধর্ম একবার রাজনীতির অঙ্গ হয়ে উঠলে, শেষ পর্যন্ত গুরুজির মতো কোনও চরিত্রের উত্থান হবেই।’’

তিনি স্বীকার করেন, উপন্যাসটি পড়তে গিয়ে পাঠককে লেখা কথার আড়ালের ইঙ্গিতও বুঝে নিতে হবে। ‘‘এটি কল্পকাহিনি, কিন্তু বাস্তব বিষয় নিয়েই লেখা কল্পকাহিনি,’’ বলেন তভলীন। আরও জানান, তিনি বিষয়গুলি আরও স্পষ্ট করে লেখার চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু ‘‘আইনজীবীরা তা আটকে দিয়েছিলেন’’।

সন্ধ্যার আলোচনা শেষ হয় জংয়ের একটি প্রস্তাব দিয়ে। তিনি বলেন, উপন্যাসের পরবর্তী পর্বে দেখানো যেতে পারে, অভিনেতা ক্ষমতায় এসে গুরুজিকে বেশ বেগ দিচ্ছেন।