বাংলাস্ফিয়ারঃ প্রধানমন্ত্রী সূর্য ঘর: মুফত বিজলি যোজনার আওতায় পশ্চিমবঙ্গে বাড়ির ছাদে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপনের সংখ্যা ২০২৬ সালের মে মাসের পর থেকে বেড়ে প্রায় সাত গুণ হয়েছে। রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের সময় থেকেই এই বৃদ্ধি দেখা গিয়েছে। সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গের জন্য মোট ছাড়া ভর্তুকির পরিমাণও ৩০ এপ্রিলের তুলনায় আট গুণের বেশি হয়েছে।

২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রকল্পটি চালু হলেও ২০২৬ সালের ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গে মাত্র ১,৪৭৭টি ছাদে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা বসানো হয়েছিল। তত দিন পর্যন্ত মোট ভর্তুকি ছাড়া হয়েছিল ৪.২১ কোটি টাকা। কেন্দ্রীয় নতুন ও পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তি মন্ত্রকের আধিকারিকদের দাবি, কেন্দ্রের এই প্রকল্প ব্যাপক ভাবে কার্যকর করার ক্ষেত্রে তৎকালীন রাজ্য সরকারের তরফে প্রবল বাধা ছিল। তবে নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর পরিস্থিতি দ্রুত বদলেছে বলে তাঁদের বক্তব্য।

পাঁচ মাসের কিছু বেশি সময়ের মধ্যে, ২০২৬ সালের ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত রাজ্যে ছাদে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপনের মোট সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১০,১৪৬। একই সময়ে মোট ছাড়া ভর্তুকির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩৪.৬২ কোটি টাকায়।

তৃণমূল কংগ্রেসের সরকারকে সরিয়ে ২০২৬ সালের ৯ মে রাজ্যে দায়িত্ব নেয় বিজেপির নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার। আধিকারিকেরা জানিয়েছেন, প্রকল্পের বাস্তবায়ন সহজ করার উপরে বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে। বিষয়টিকে রাজ্য ও কেন্দ্র, উভয় সরকারেরই অন্যতম অগ্রাধিকার হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এই কেন্দ্রীয় প্রকল্পে বাড়ির ছাদে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা বসানোর জন্য সর্বোচ্চ ৭৮ হাজার টাকা পর্যন্ত ভর্তুকি দেওয়া হয়। ২০২৭ সালের মার্চের মধ্যে এক কোটি পরিবারকে প্রকল্পের আওতায় আনার লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। এখনও পর্যন্ত প্রায় ৬৩ লক্ষ পরিবারকে এর আওতায় আনা হয়েছে।

মন্ত্রকের এক উচ্চপদস্থ আধিকারিক বলেন, “জনসংখ্যা ও আয়তন যথেষ্ট বড় হওয়া সত্ত্বেও এই প্রকল্প রূপায়ণে এত দিন সবচেয়ে পিছিয়ে থাকা রাজ্যগুলির মধ্যে ছিল পশ্চিমবঙ্গ। রাজ্য সরকারের তরফে আমরা অনেক বাধার মুখে পড়ছিলাম। তবে গত কয়েক মাসে পরিস্থিতি বদলেছে এবং সংখ্যাটা দ্রুত বাড়ছে।” আগামী মাসগুলিতে এই সংখ্যা আরও অনেকটা বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে বলেও তিনি জানান।

মাসভিত্তিক পরিসংখ্যানেও একই রকম দ্রুত বৃদ্ধির ছবি দেখা যাচ্ছে। ২০২৬ সালের মে মাসে পশ্চিমবঙ্গে ২১৮টি ছাদে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা বসানো হয়েছিল। জুনে সেই সংখ্যা হয় ৫২৬। জুলাইয়ে তা বেড়ে দাঁড়ায় ১,২২৬, অগস্টে ১,৯৩৬ এবং সেপ্টেম্বরে ২,৭৪২। অক্টোবরেও ইতিমধ্যে দু’হাজারের বেশি ব্যবস্থা বসানো হয়েছে। প্রকল্প গ্রহণের হার ক্রমশ বাড়ছে।

রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের আগে, এপ্রিলে পশ্চিমবঙ্গের একটি জনসভায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এই কেন্দ্রীয় প্রকল্পের বাস্তবায়নে বাধা দেওয়ার অভিযোগ তুলে তৃণমূল সরকারের সমালোচনা করেছিলেন। বিদ্যুতের বিল শূন্যে নামিয়ে আনার লক্ষ্যেই প্রকল্পটি চালু করা হয়েছে বলে তিনি জানিয়েছিলেন। পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গের প্রতিবেশী ওড়িশায় প্রকল্পটির সফল বাস্তবায়নের উদাহরণও দিয়েছিলেন মোদী। তাঁর বক্তব্য ছিল, ওড়িশার বাসিন্দারা এই প্রকল্পের সুফল পাচ্ছেন।

সারা দেশে বিভিন্ন রাজ্যের জন্য এখনও পর্যন্ত মোট প্রায় ৩৪,০৫২.৫৪ কোটি টাকা ভর্তুকি ছাড়া হয়েছে। এই তালিকায় শীর্ষে রয়েছে গুজরাত। সেখানে এখনও পর্যন্ত বরাদ্দ হয়েছে ৬,৩৭৪.৭১ কোটি টাকা। অন্য রাজ্যগুলির মধ্যে মহারাষ্ট্রে ৫,৯৩২.৩৭ কোটি, উত্তরপ্রদেশে ৫,৮৪১.৫৯ কোটি, কেরলে ২,৪০১.৪৯ কোটি এবং রাজস্থানে ২,২৮৩.২৬ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রকের ওই আধিকারিক বলেন, “এই পরিসংখ্যান দেখাচ্ছে, পশ্চিমবঙ্গকে এখনও অনেকটা পথ যেতে হবে। তবে এই রাজ্য উল্লেখযোগ্য অবদান রাখতে পারে।”