বাংলাস্ফিয়ার: ওয়েস্ট বেঙ্গল হেলথ স্কিম বা ডব্লিউবিএইচএসের আওতায় থাকা সরকারি কর্মী ও পেনশনভোগীদের স্বাস্থ্যসাথী এবং আয়ুষ্মান ভারত কার্ড ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দিল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। আগামী ৩১ অক্টোবরের মধ্যে কার্ড সমর্পণ করে তার প্রমাণসহ ঘোষণাপত্র জমা দিতে হবে। সংশ্লিষ্ট কর্মী বা পেনশনভোগীর নিজের পাশাপাশি ওই প্রকল্পে নথিভুক্ত নির্ভরশীল উপভোক্তাদের কাছে এমন কার্ড থাকলেও একই নির্দেশ প্রযোজ্য হবে।
শুক্রবার, ৯ অক্টোবর রাজ্যের অর্থ দফতরের মেডিক্যাল সেল এই বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে। সরকারি নির্দেশ অনুযায়ী, ডব্লিউবিএইচএসে নথিভুক্ত থাকা সত্ত্বেও কিছু কর্মী ও পেনশনভোগী নিজেদের অথবা তাঁদের উপভোক্তাদের নামে স্বাস্থ্যসাথী কিংবা আয়ুষ্মান ভারত কার্ড রাখছেন বলে সরকারের নজরে এসেছে। এই তালিকায় সর্বভারতীয় চাকরির অন্তর্ভুক্ত আধিকারিকেরাও রয়েছেন। তাঁদের ক্ষেত্রেও কার্ড ফেরত দেওয়ার নিয়ম কার্যকর হবে।
বিজ্ঞপ্তিতে কার্ড জমা দেওয়া এবং তার প্রমাণ দাখিলের প্রক্রিয়া পৃথকভাবে জানানো হয়েছে। স্বাস্থ্যসাথী বা আয়ুষ্মান ভারত কার্ড ফেরত দিতে হবে সংশ্লিষ্ট কার্ড প্রদানকারী কর্তৃপক্ষের কাছে। তার পরে জমা দেওয়ার রসিদ অথবা স্বীকৃতিপত্র সংগ্রহ করতে হবে। নির্ধারিত ঘোষণাপত্রের সঙ্গে সেই নথি সংযুক্ত করে সংশ্লিষ্ট দফতরে জমা দিতে হবে কর্মী বা পেনশনভোগীকে।
কর্মীরা ঘোষণাপত্র ও কার্ড সমর্পণের প্রমাণ জমা দেবেন নিজেদের অফিসের প্রধানের কাছে। পেনশনভোগীরা জমা দেবেন সেই দফতরে, যেখানে তাঁরা ডব্লিউবিএইচএসের চিকিৎসা খরচের দাবি পেশ করেন। নির্দেশে স্পষ্ট করা হয়েছে, যাঁদের নিজের বা উপভোক্তাদের নামে এই ধরনের কার্ড রয়েছে অথবা আগে ছিল, তাঁদেরই নির্ধারিত ছকে ঘোষণা দিতে হবে। ফলে ঘোষণাপত্রের প্রয়োজনীয়তা সংশ্লিষ্ট কার্ড থাকার সঙ্গে যুক্ত।
ঘোষণাপত্রে কর্মী বা পেনশনভোগীর নাম, পদ, দফতর, ডব্লিউবিএইচএসের নথিভুক্তি নম্বর এবং যোগাযোগের তথ্য চাওয়া হয়েছে। কর্মীদের ক্ষেত্রে চাকরি সংক্রান্ত পরিচিতি এবং পেনশনভোগীদের ক্ষেত্রে পেনশন পেমেন্ট অর্ডারের নম্বর দেওয়ার ব্যবস্থাও রয়েছে। কোন কার্ড ফেরত দেওয়া হয়েছে, তার বিবরণ এবং সংশ্লিষ্ট নির্ভরশীল উপভোক্তাদের পরিচয় উল্লেখ করতে হবে। দেওয়া তথ্য সঠিক বলে স্বাক্ষর করবেন আবেদনকারী।
এই প্রক্রিয়া তদারকির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে অফিসপ্রধান, ড্রয়িং অ্যান্ড ডিসবার্সিং অফিসার এবং পেনশন মঞ্জুরকারী কর্তৃপক্ষকে। তাঁদের ঘোষণাপত্র গ্রহণের পাশাপাশি সংযুক্ত প্রমাণ যাচাই করতে হবে। কে নির্দেশ মেনেছেন, তার নথিও সংরক্ষণ করতে বলা হয়েছে। অর্থাৎ, শুধু কার্ড ফেরতের ঘোষণা গ্রহণ করলেই দায়িত্ব শেষ হবে না; সমর্পণের প্রামাণ্য নথিও দফতরকে পরীক্ষা করতে হবে।
সময়সীমা অমান্য করলে কড়া প্রশাসনিক ব্যবস্থার কথা জানিয়েছে সরকার। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ডব্লিউবিএইচএসের অধীনে পাওয়া সমস্ত চিকিৎসা পরিষেবা ও সুবিধা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হবে। কর্মরত কর্মীদের ক্ষেত্রে নির্দেশ না মানাকে অসদাচরণ হিসাবেও গণ্য করা হবে। প্রযোজ্য চাকরিবিধি অনুসারে তাঁদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক শৃঙ্খলামূলক প্রক্রিয়া অবিলম্বে শুরু করার কথাও বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে।
ডব্লিউবিএইচএস সরকারি কর্মী ও পেনশনভোগীদের জন্য পৃথক চিকিৎসা সুবিধার ব্যবস্থা। রাজ্যের সরকারি পোর্টাল অনুযায়ী, ২০০৮ সালে কর্মীদের জন্য এই প্রকল্প চালু হয়। পরে অবসরপ্রাপ্ত কর্মী ও পারিবারিক পেনশনভোগীদেরও এর আওতায় আনা হয়। প্রকল্পে নির্দিষ্ট শর্তে হাসপাতালে চিকিৎসার খরচ ফেরত এবং তালিকাভুক্ত রোগের বহির্বিভাগীয় চিকিৎসার খরচ পাওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে।
নতুন নির্দেশের আওতা বোঝার ক্ষেত্রে ডব্লিউবিএইচএসে নথিভুক্ত থাকার বিষয়টি তাই গুরুত্বপূর্ণ। বিজ্ঞপ্তিটি ওই প্রকল্পভুক্ত কর্মী, পেনশনভোগী এবং তাঁদের নথিভুক্ত উপভোক্তাদের অন্য স্বাস্থ্যকার্ড নিয়ে জারি হয়েছে। একই ব্যক্তির একাধিক সরকারি স্বাস্থ্যপ্রকল্পে অন্তর্ভুক্তির বিষয়টি নিয়ন্ত্রণের প্রশাসনিক পদক্ষেপ হিসেবেই নির্দেশটি সামনে এসেছে। কার্ড সমর্পণ এবং ঘোষণাপত্র দাখিল, দু’টি কাজই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ করতে হবে।
বিজ্ঞপ্তিতে প্রক্রিয়া অবিলম্বে শুরু করার নির্দেশ দিয়ে সর্বশেষ সময়সীমা ধার্য করা হয়েছে ৩১ অক্টোবর। ফলে সংশ্লিষ্টদের জন্য জরুরি কাজ হল কার্ড প্রদানকারী কর্তৃপক্ষের কাছে সমর্পণের প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করা এবং তার স্বীকৃতিপত্র যথাযথ দফতরে পৌঁছে দেওয়া।