কলকাতা:
একটি সাধারণ ভুয়ো সিম কার্ড (SIM Card) বিক্রির অভিযোগের সুতো ধরে তদন্তে নেমে আন্তঃরাজ্য সাইবার-প্রতারণা চক্রের বড়সড় পর্দাফাঁস করল কলকাতা পুলিশ। জাল পরিচয়পত্র ও ভুয়ো নথিপত্র ব্যবহার করে সিম কার্ড তুলে তা বিভিন্ন সাইবার অপরাধীদের হাতে তুলে দেওয়ার একটি সুসংগঠিত র্যাকেটের হদিশ পেয়েছেন গোয়েন্দারা। এই ঘটনার তদন্তে নেমে ইকো পার্ক থানা এলাকার একটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাটে অভিযান চালিয়ে মোট ৭ জন সাইবার প্রতারককে হাতেনাতে গ্রেফতার করেছে লালবাজারের সাইবার সেল ও পুলিশ বাহিনী।
কলকাতা পুলিশ সূত্রে খবর, নারকেলডাঙা থানার (Narkeldanga PS) সাব-ইনস্পেক্টর (SI) মহম্মদ আব্বাসউদ্দিন বিশ্বাসের কাছে একটি গোপন সূত্র মারফত খবর আসে যে, জাল নথিপত্র জমা দিয়ে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী একাধিক সিম কার্ড তুলছে। এরপরই কলকাতা পুলিশের ইস্টার্ন সাব-আর্বান (ESD) ডিভিশনের সাইবার সেল মামলাটির পূর্ণাঙ্গ তদন্তভার হাতে নেয়। তদন্তকারীদের নজরে আসে তৌসিফ আলম নামের এক ব্যক্তি, যে ভুয়ো পরিচয়পত্র ব্যবহার করে পাইকারি হারে সিম কার্ড জোগাড় করত এবং সেই সিমগুলি পৌঁছে দিত অপরাধীদের হাতে।
গত ১৭ সেপ্টেম্বর প্রথমে তৌসিফ আলমকে পুলিশ গ্রেফতার করে। তাকে টানা জেরা ও হেপাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করার পর গোয়েন্দারা জানতে পারেন যে, সস্তার এই ভুয়ো সিমগুলি মূলত ব্যবহার করা হতো ভিনরাজ্য থেকে পরিচালিত নানা ভুয়ো কল সেন্টারে। তৌসিফের দেওয়া সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতেই এরপর বিধাননগর কমিশনারেটের ইকো পার্ক থানা এলাকার হাতিয়াড়ার একটি ফ্ল্যাটে আচমকা হানা দেয় নারকেলডাঙা থানা ও সাইবার সেলের যৌথ টিম।
উদ্ধার হওয়া ওই ফ্ল্যাটটি থেকে কার্যত একটি আস্ত 'ভুয়ো কল সেন্টার' পরিচালনা করা হচ্ছিল। তল্লাশি চালিয়ে সেখান থেকে ৭ জন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়। ফ্ল্যাটটি থেকে ৭টি উচ্চমানের স্মার্টফোন এবং তথ্য ভর্তি একাধিক ডায়েরি বা খাতা বাজেয়াপ্ত করেছে পুলিশ। তদন্তকারীরা খাতাগুলি পরীক্ষা করে দেখেছেন, সেখানে মূলত অন্ধ্রপ্রদেশ ও দক্ষিণ ভারতের বহু সাধারণ বাসিন্দাদের পার্সোনাল ডাটা এবং গোপন তথ্য নথিবদ্ধ ছিল, যা ব্যবহার করে পার্সোনাল লোন বা ডিজিটাল ফ্রডের ফাঁদ পাতা হতো।
সাইবার সেলের বর্ধিত নজরদারি ও সতর্কবার্তা
এদিকে উৎসবের মরসুমে এই ধরনের সাইবার অপরাধ এবং সামাজিক মাধ্যমে ভুয়ো খবর (Fake News) বা উস্কানিমূলক পোস্ট ছড়ানোর প্রবণতা রুখতে কলকাতা পুলিশ ও রাজ্য পুলিশের সাইবার সেল নজরদারি আরও কয়েক গুণ বাড়িয়েছে। বিশেষ করে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও সমাজকর্মীদের সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টের ওপর কড়া নজর রাখা হচ্ছে। কলকাতা পুলিশের পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষকে সতর্ক করে জানানো হয়েছে, যেকোনো অজানা নম্বর থেকে আসা ফোন বা অফারে সাড়া দেওয়ার আগে সতর্ক থাকুন এবং ভুয়ো পরিচয়পত্র দিয়ে সিম কার্ড বিক্রি করা বা কেনা দুটোই গুরুতর আইনি অপরাধ।