আসন্ন নির্বাচনের প্রাক্কালে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তেজনার পারদ হু হু করে চড়ছে। শাসক থেকে বিরোধী—সব শিবিরের অভ্যন্তরীণ কৌশল, প্রার্থী বাছাইয়ের ছক এবং সম্ভাব্য জোট সমীকরণ রাজ্য রাজনীতিতে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে। তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে নবীন ও প্রবীণ কর্মীদের মেলবন্ধন ঘটানোর পরিকল্পনা থেকে শুরু করে বিরোধী শিবিরের নানা কৌশলগত অবস্থান—সবমিলিয়ে আসন্ন ভোটের লড়াই অত্যন্ত আকর্ষণীয় হয়ে উঠতে চলেছে।
শাসক দল তৃণমূলের প্রার্থী চয়নের সম্ভাব্য নীল নকশা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নানা জল্পনা চলছে। দলীয় সূত্রের খবর অনুযায়ী, আগামী প্রার্থী তালিকায় চমক হিসেবে বেশ কিছু নতুন ও যুব মুখকে ময়দানে নামানোর পরিকল্পনা রয়েছে। ছাত্র ও যুব সংগঠন থেকে উঠে আসা তরুণ নেতৃত্বের উদ্দীপ্ত শক্তিকে কাজে লাগানোর পাশাপাশি দলের দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত ও প্রবীণ কর্মীদের অবদানকেও যথাযথ সম্মান দেওয়ার কথা ভাবা হচ্ছে। অর্থাৎ, তরুণ প্রজন্মের উদ্যম এবং পুরনো দিনের অভিজ্ঞ সংগঠনের শক্ত ভিতকে একত্র করে এক সুষম ভারসাম্য বজায় রাখাই দলটির মূল কৌশল হয়ে দাঁড়িয়েছে।
অন্যদিকে, জাতীয় ও রাজ্য রাজনীতিতে কংগ্রেসের সঙ্গে তৃণমূলের আসন সমঝোতা নিয়ে আলোচনা তৈরি হলেও এখনও পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক জোট ঘোষণা করা হয়নি। বিরোধী শক্তিগুলোকে একত্রিত করার তাগিদ এবং আসন ভাগাভাগি নিয়ে পর্দার আড়ালে অনানুষ্ঠানিক কথাবার্তা চললেও, আসনরফা বা চূড়ান্ত বোঝাপড়া নিয়ে ধোঁয়াশা এখনও কাটেনি। দুই দলেরই শীর্ষ নেতৃত্বের বিভিন্ন সময়কার দ্বিমুখী বক্তব্যের কারণে সাধারণ কর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে জোটের ভবিষ্যৎ নিয়ে নানা গুঞ্জন ও কৌতূহল বজায় রয়েছে।
এরই পাশাপাশি, ভোটের ময়দানে একলা লড়ার অবস্থানও বেশ জোরালোভাবে সামনে আসছে। জোটের জল্পনা এবং সমঝোতার গুঞ্জনের মাঝেই বিভিন্ন আঞ্চলিক দল ও গণতান্ত্রিক তৃণমূলের মতো অংশগুলি নিজেদের মতো করে একা লড়ার ঘোষণা দিয়ে রেখেছে। কোনো বড় রাজনৈতিক জোটে পা না বাড়িয়ে নিজেদের স্বতন্ত্র সাংগঠনিক শক্তিতে ভর করে ভোটের ময়দানে লড়াই করার এই অনমনীয় মনোভাব রাজ্য রাজনীতিতে ত্রিমুখী বা বহুমুখী লড়াইয়ের সম্ভাবনাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
সব মিলিয়ে, তৃণমূল শিবিরের অন্দরে নবীন-প্রবীণ সামঞ্জস্য বিধান, জাতীয় স্তরের দলগুলির সঙ্গে সম্ভাব্য জোটের টানাপোড়েন এবং ছোট-বদল বা স্বতন্ত্র শক্তিগুলির একলা চলার জেহাদ—সব মিলিয়ে আসন্ন নির্বাচন এক কঠিন ও রোমাঞ্চকর মোড় নিতে চলেছে। কোন দল শেষ পর্যন্ত কোন কৌশল নিয়ে জনগণের দরবারে যায় এবং ভোটাররা কাদের দিকে তাঁদের রায় দেন, সেটাই এখন দেখার বিষয়।