বাংলাস্ফিয়ার: পাহাড়ে পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড় এবং উৎসবের আমেজে রেকর্ড গড়ল ইউনেস্কো স্বীকৃত বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী (UNESCO World Heritage) দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ে (DHR)। চলতি বছরের অক্টোবরের প্রথম তিন সপ্তাহে পাহাড়ি টয় ট্রেনের জয়রাইড ও রোমাঞ্চ উপভোগ করতে ভিড় জমিয়েছেন দেশ-বিদেশের হাজার হাজার পর্যটক। শুধুমাত্র ২১ দিনের ব্যবধানে দার্জিলিংয়ের জনপ্রিয় এই হেরিটেজ ট্রেনে সফর করেছেন প্রায় ১২,০০০ যাত্রী, আর এর মাধ্যমেই রেলের কোষাগারে এসেছে ১ কোটি ৪১ লক্ষ টাকারও বেশি রাজস্ব।

রেলওয়ে সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, অক্টোবরের ১ থেকে ২১ তারিখের মধ্যে এই বিপুল সংখ্যক যাত্রী টয় ট্রেনের বিভিন্ন রুটে যাতায়াত করেছেন। পাহাড়ি উপত্যকার কুয়াশাচ্ছন্ন পথ, সবুজ চা বাগান এবং আঁকাবাঁকা রেলপথে টয় ট্রেনের এই রোমাঞ্চকর সফর পর্যটকদের কাছে সব সময়ই বিশেষ আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু। পর্যটকদের এই ক্রমবর্ধমান চাহিদা ও উপচে পড়া ভিড় সামাল দিতে এবং তাঁদের ভ্রমণ অভিজ্ঞতা আরও সুন্দর করতে ডিএইচআর (DHR) কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে একাধিক বিশেষ জয়রাইড (Joyride) পরিষেবা চালু করা হয়েছিল।

বিশেষ করে দার্জিলিং এবং ঘুম (Ghum)-এর মধ্যকার জনপ্রিয় রুটে নিয়মিত পরিষেবার পাশাপাশি অতিরিক্ত জয়রাইডের ব্যবস্থা করা হয়। এর পাশাপাশি কার্শিয়াং এবং মহানদীর (Kurseong-Mahanadi) মাঝেও দুটি বিশেষ রাউন্ড ট্রিপ চালু করা হয়, যার মধ্যে একটি চালানো হয় ঐতিহ্যবাহী স্টিম লোকোমোটিভ (বাষ্পচালিত ইঞ্জিন) দিয়ে এবং অন্যটি আধুনিক ডিজেল ইঞ্জিনের মাধ্যমে। পাহাড়ি রেলযাত্রার ঐতিহ্য বজায় রেখে স্টিম ইঞ্জিনের ধোঁয়া উড়িয়ে পাহাড়ি পথ পাড়ি দেওয়ার অভিজ্ঞতা নিতে পর্যটকদের মধ্যে তীব্র উন্মাদনা লক্ষ্য করা গেছে।

দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ের ডিরেক্টর ঋষভ চৌধুরী জানিয়েছেন, পুজোর মরশুম ও অক্টোবরের এই সময়ে পর্যটকদের কাছ থেকে অত্যন্ত উৎসাহব্যঞ্জক সাড়া পাওয়া গেছে। মাত্র ২১ দিনে ১২ হাজারেরও বেশি মানুষের টয় ট্রেনে ভ্রমণ এবং ১.৪১ কোটি টাকার রাজস্ব আয় প্রমাণ করে যে আধুনিকতার ছোঁয়া সত্ত্বেও পাহাড়প্রেমীদের মনে হেরিটেজ টয় ট্রেনের আবেদন আজও সমানভাবে অটুট রয়েছে।

‘রানি অফ দ্য হিলস’ বা পাহাড়ের রানি দার্জিলিংয়ে ঘুরতে আসা ভ্রমণপিপাসুদের কাছে ঐতিহ্যবাহী টয় ট্রেন কেবল যাতায়াতের মাধ্যম নয়, বরং এখানকার সংস্কৃতি ও ইতিহাসের এক অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। পর্যটনের এই রমরমা দশা শুধু রেলের আয়ই বাড়াচ্ছে না, বরং সামগ্রিকভাবে দার্জিলিংয়ের স্থানীয় অর্থনীতি ও পর্যটন ব্যবসাকেও চাঙ্গা করে তুলেছে। ভবিষ্যতে পরিকাঠামো উন্নয়ন এবং যাত্রীদের সুযোগ-সুবিধা আরও উন্নত করার মাধ্যমে এই হেরিটেজ রেলের আকর্ষণ আরও বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে বলেই আশা প্রকাশ করছেন পর্যটন বিশেষজ্ঞরা।