বাংলাস্ফিয়ারঃ কলকাতায় সিপিএমের রাজ্য সদর দফতর মুজফ্‌ফর আহমেদ ভবনের অদূরে মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর চণ্ডীপাঠের আয়োজন করল রিপাবলিকান পার্টি অব ইন্ডিয়া। এজেসি বোস রোড থেকে আলিমুদ্দিন স্ট্রিটে ঢোকার মুখে অস্থায়ী মঞ্চ তৈরি করে মাইকে চলে পাঠ। নিজেদের সনাতনী হিন্দু হিসেবে পরিচয় দেওয়া অংশগ্রহণকারীদের দাবি, বাম নেতাদের ‘শুভবুদ্ধির উদয়’ ঘটাতেই এই উদ্যোগ। সকাল ন’টায় শুরু হয় অনুষ্ঠান। মাইকের মাধ্যমে আশপাশের এলাকায় পাঠ শোনানোর ব্যবস্থা করা হয়েছিল ।

অনুষ্ঠানে কয়েকজন মহিলা চণ্ডীপাঠ করেন। আয়োজকদের একাংশ অভিযোগ করেন, বামপন্থীরা বরাবর সনাতন ধর্মকে অপমান করেছেন। তাঁদের বক্তব্য, সিপিএম নেতাদের কানে চণ্ডীর মন্ত্র পৌঁছলে তাঁরা ‘পাপমুক্ত’ হবেন। এই বক্তব্যের মধ্য দিয়েই ধর্মীয় অনুষ্ঠানের পাশাপাশি বামপন্থীদের উদ্দেশে রাজনৈতিক বার্তা দেওয়ার কথাও স্পষ্ট করেন অংশগ্রহণকারীরা।

কর্মসূচিকে কটাক্ষ করেছেন প্রবীণ সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তী। তাঁর বক্তব্য, আয়োজকেরা প্রয়োজন মনে করেছেন বলেই পাঠ করেছেন; তাতে সিপিএমের কিছু আসে যায় না। তাঁদের হাতে অন্য কাজ কম থাকলে রাস্তায় চণ্ডীপাঠ করতে পারেন। প্রতিদিন চণ্ডীপাঠ করাও ভাল বলে মন্তব্য করেন তিনি।

অন্য প্রতিক্রিয়ায় সুজনের কটাক্ষ আরও তীক্ষ্ণ। তাঁর অভিযোগ, শ্রোতা পাচ্ছেন না বলেই সিপিএম কার্যালয়ের সামনে এসে এমন আয়োজন করছেন উদ্যোক্তারা। প্রতিবেদন অনুযায়ী, তিনি বলেন, “আর চণ্ডীপাঠ কীভাবে করতে হয় তা আগে ভালো করে শিখে আসুন। নাহলে আমাদের কর্মীরাই শিখিয়ে দেবে।”

সিপিএম নেতা কলতান দাশগুপ্তও জানান, ধর্মাচরণের অধিকার সকলের রয়েছে। তবে আলিমুদ্দিনের নাম করে এজেসি বোস রোডে অনুষ্ঠান করার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, অন্য ধর্মের প্রতি বিদ্বেষ পোষণকারীদের বাদ দিলে দলের কার্যালয়ে সকলেই স্বাগত।

দফতরের প্রবেশপথে শারদোৎসবের শুভেচ্ছাবার্তার সঙ্গেও সেই অবস্থান জানিয়েছে সিপিএম। সেখানে সাম্প্রদায়িক, জাতপাতবাদী ও বর্ণবিদ্বেষী মানুষদের বাদ দিয়ে সকলকে স্বাগত জানানো হয়েছে।

পুজোর সময়ে বামেদের বইয়ের স্টল ঘিরে বিতর্কের মধ্যেই এই কর্মসূচি হল। বিভিন্ন সঙ্ঘঘনিষ্ঠ সংগঠনের বিরুদ্ধে স্টল বসানোয় বাধা দেওয়ার হুঁশিয়ারির অভিযোগ উঠেছে। সিপিএম অবশ্য জানিয়েছে, বইয়ের স্টল তৈরির প্রস্তুতি চলবে। ফলে মঙ্গলবারের চণ্ডীপাঠকে ঘিরে তরজা শুধু ধর্মাচরণে সীমাবদ্ধ থাকেনি; উৎসবের পরিসরে রাজনৈতিক উপস্থিতি ও মতপ্রকাশের প্রশ্নও সামনে এসেছে।