এসআইআরে নিয়ম না মেনে লক্ষ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ দেওয়ার অভিযোগ উঠল নির্বাচন কমিশন ও স্থানীয় আধিকারিকদের বিরুদ্ধে। অভিযোগ, ১৯৬০ সালের নির্বাচক নিবন্ধন বিধি অনুসরণ না করেই এই কাজ করা হয়েছে।

ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআরে লক্ষ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ দেওয়ার নেপথ্যে ভারতের নির্বাচন কমিশন এবং তার স্থানীয় আধিকারিকদেরই বড় ভূমিকা রয়েছে বলে অভিযোগ। তেলঙ্গানা-সহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় ‘অনুপস্থিত, স্থানান্তরিত, মৃত এবং একাধিকবার নাম থাকা’—এই চার শ্রেণিতে, সংক্ষেপে এএসডিডি, বহু ভোটারকে চিহ্নিত করে তাঁদের নাম বাদ দিয়েছেন নির্বাচক নিবন্ধন আধিকারিকেরা বা ইআরও-রা। অভিযোগ, এ ক্ষেত্রে ১৯৬০ সালের নির্বাচক নিবন্ধন বিধিতে নির্ধারিত প্রক্রিয়া মানা হয়নি।

নির্ভরযোগ্য সূত্রের দাবি, নাম বাদ দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় ফর্ম-৭ ইআরওনেট সফটওয়্যারের মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে তৈরি করা হয়েছিল। সেখানে আপত্তিকারী হিসেবে উল্লেখ করা হয় সংশ্লিষ্ট ইআরও-দেরই নাম।

তেলঙ্গানায় গণনা পর্ব শেষে মোট ৭৩ লক্ষ ৩৯ হাজার ২৩৫ জন ভোটারকে এএসডিডি শ্রেণিতে রাখা হয়। তাঁদের অধিকাংশকেই ‘অনুপস্থিত’ অথবা ‘স্থানান্তরিত’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল।

আধিকারিকদের বক্তব্য, যাঁরা গণনার ফর্ম সংগ্রহ করেননি কিংবা পূরণ করে জমা দেননি, তাঁদের এএসডিডি শ্রেণিভুক্ত করা হয়েছে। তবে মৃত ভোটারদের ক্ষেত্রে মৃত্যুর শংসাপত্র অথবা পরিবারের সদস্যদের ঘোষণাপত্র পাওয়ার পরেই সেই তথ্য গ্রহণ করা হয়েছে। অন্য দিকে, ইআরওনেট সফটওয়্যারে ব্যক্তিগত তথ্য ও ছবির মিল খতিয়ে দেখে একাধিকবার নাম থাকা ভোটারদের শনাক্ত করা হয়েছে।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ৪৫ লক্ষ ১৮ হাজার ৯৬৩ জন ভোটারকে ‘স্থায়ীভাবে স্থানান্তরিত’ এবং ১১ লক্ষ ২৫ হাজার ৫৪৬ জনকে ‘অনুপস্থিত বা খোঁজ মেলেনি’ বলে চিহ্নিত করা হয়।

কিন্তু অভিযোগ, ‘অনুপস্থিত’ ও ‘স্থানান্তরিত’ হিসেবে চিহ্নিত অধিকাংশ ভোটারের ক্ষেত্রেই তাঁদের প্রকৃত অবস্থা যাচাই করা হয়নি। কারণ, খুব অল্পসংখ্যক বুথ স্তরের আধিকারিক বা বিএলও বাস্তবে বাড়ি বাড়ি গিয়ে গণনার ফর্ম বিলি ও সংগ্রহ করেছিলেন।

বিশেষত শহরাঞ্চলে অধিকাংশ বিএলও বাড়ি বাড়ি না গিয়ে একটি নির্দিষ্ট জায়গায় বসেই কাজ করেছেন বলে অভিযোগ। যাঁরা সেখানে গিয়ে ফর্ম সংগ্রহ করেছেন, মূলত তাঁদেরই ফর্ম দেওয়া হয়েছে। গণনা পর্ব শেষে যাঁরা ফর্ম নেননি বা জমা দেননি, তাঁদের ‘অনুপস্থিত’ কিংবা ‘স্থানান্তরিত’ হিসেবে চিহ্নিত করে রিপোর্ট জমা দেন বিএলও-রা।

এর পর মোবাইল অ্যাপে একটি মাত্র ট্যাপের মাধ্যমে ইআরও-দের ডিজিটাল স্বাক্ষরযুক্ত ফর্ম-৭ স্বয়ংক্রিয়ভাবে তৈরি করা হয়। খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশের আগেই সংশ্লিষ্ট ভোটারদের নাম বাদ পড়ে যায় বলে অভিযোগ।

গণনা পর্ব শেষ হওয়ার পরেই মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতর নিজেদের ওয়েবসাইটে এএসডিডি তালিকা প্রকাশ করে। বাদ পড়া ভোটারদের ফর্ম-৬ জমা দিয়ে নতুন করে ভোটার তালিকায় নাম তোলার আবেদন জানাতে বলা হয়।

এই বিষয়ে বক্তব্য জানতে চাওয়া হলে মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতরের কর্তারা জানান, নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার ক্ষমতা ইআরও-দের রয়েছে।

তবে ১৯৬০ সালের নির্বাচক নিবন্ধন বিধিতে বলা হয়েছে, অসাবধানতাবশত, ভুলবশত বা অন্য কোনও কারণে মৃত ব্যক্তি, অন্যত্র চলে যাওয়া ব্যক্তি কিংবা অন্য কোনও ব্যক্তির নাম ভোটার তালিকায় থেকে গেলে তা বাদ দেওয়ার ক্ষমতা ইআরও-দের রয়েছে। প্রশ্ন উঠছে, সেই ক্ষমতা প্রয়োগের ক্ষেত্রে নির্ধারিত নিয়ম যথাযথভাবে মানা হয়েছিল কি না।