বাংলাস্ফিয়ার: উত্তরপ্রদেশের বিধান পরিষদ নির্বাচনের ভোটার তালিকায় অদ্ভুত নাম ও তথ্য উঠে আসায় সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী নিবন্ধন আধিকারিক এবং সহকারী নির্বাচনী নিবন্ধন আধিকারিকের কাছে ব্যাখ্যা চাইল নির্বাচন কমিশন। তালিকার এই অসংগতি নিয়ে সমাজমাধ্যমে তুমুল শোরগোল শুরু হয়েছে।

শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬ অনুষ্ঠিত বিধান পরিষদ নির্বাচনের ভোটার তালিকায় নামের জায়গায় লেখা ছিল ‘রাম নে যাদব কো মারা’ কিংবা ‘রাম নে শর্মা কো মারা’—অর্থাৎ ‘রাম যাদবকে মেরেছে’ অথবা ‘রাম শর্মাকে মেরেছে’। এমনকি এক ভোটারের বাবার নামের জায়গায় লেখা ছিল ‘বি.কম’। ভোটগ্রহণের আগেই এলাহাবাদ স্নাতক কেন্দ্রের ভোটার তালিকায় এই অসংগতিগুলি ধরা পড়ে।

উত্তরপ্রদেশের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দপ্তর থেকে প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “বিধান পরিষদ নির্বাচনের ভোটার তালিকায় নাম তোলার জন্য উত্তরপ্রদেশে এই প্রথম অনলাইনে নিবন্ধনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। কোনও কাজ প্রথমবার করতে গেলে ভুল হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। ভোটার তালিকার মোট ১৪ লক্ষ ৮১ হাজার ৩১০টি নথিভুক্তির মধ্যে ১৫৮টি ক্ষেত্রে ভোটার অথবা তাঁদের আত্মীয়ের নাম অস্বাভাবিক বলে মনে হচ্ছে। এই ধরনের ভুলের কারণেই নামগুলি এমন অদ্ভুত হয়েছে।”

বিবৃতিতে এই সমস্যার জন্য ইংরেজি থেকে হিন্দিতে নাম রূপান্তরের সফটওয়্যারে সম্ভাব্য ত্রুটির কথা বলা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, “ইংরেজিতে টাইপ করা নামগুলি সফটওয়্যারের মাধ্যমে হিন্দিতে লিপ্যন্তরিত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সম্ভবত কোনও ত্রুটির কারণে সেগুলির অনুবাদ হয়ে গিয়েছে। যেমন, ‘Ram hit Yadav’ টাইপ করা হলে সফটওয়্যার সেটিকে ‘রাম যাদবকে মেরেছে’ অর্থে অনুবাদ করেছে।”

নির্বাচনী আধিকারিকের দপ্তর জানিয়েছে, এ ধরনের ভুল সম্পাদনা ও সংশোধনের ব্যবস্থা ছিল। কিন্তু যেখানে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা সতর্ক ছিলেন না, সেখানে ভুলগুলি থেকে গিয়েছে। বাবার নামের জায়গায় ‘বি.কম’ লেখার ঘটনাকে অবশ্য মানুষের ভুল কিংবা গাফিলতি বলেই উল্লেখ করা হয়েছে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, “এই ভোটার তালিকার ক্ষেত্রে বিভাগীয় কমিশনার হলেন নির্বাচনী নিবন্ধন আধিকারিক বা ইআরও। সংশ্লিষ্ট জেলার জেলাশাসক হলেন সহকারী নির্বাচনী নিবন্ধন আধিকারিক বা এইআরও। ভোটার তালিকা সম্পূর্ণ নির্ভুল রাখার দায়িত্ব তাঁদের। এই বিষয়ে তাঁদের কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। এই ভুলের কারণে ভোটারদের যাতে কোনও সমস্যায় পড়তে না হয়, তা নিশ্চিত করতে জেলাশাসকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”

শুক্রবার উত্তরপ্রদেশের পাঁচটি স্নাতক এবং ছ’টি শিক্ষক কেন্দ্রে বিধান পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। স্নাতক কেন্দ্রগুলি হল লখনউ, আগ্রা, মেরঠ, বারাণসী এবং এলাহাবাদ–ঝাঁসি। শিক্ষক কেন্দ্রগুলি হল লখনউ, আগ্রা, মেরঠ, বারাণসী, বরেলি–মোরাদাবাদ এবং গোরক্ষপুর–ফৈজাবাদ। রাজ্যের ৩০টিরও বেশি জেলা নিয়ে বিস্তৃত এই কেন্দ্রগুলিতে মোট ভোটারসংখ্যা ছিল ১৪ লক্ষের বেশি।