বাংলাস্ফিয়ারঃ বলিউড অভিনেতা টাইগার শ্রফকে লক্ষ্য করে গুলি চালানোর ঘটনার তদন্তে হরিয়ানার সোনিপতের এক দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রকে জিজ্ঞাসাবাদ করল স্পেশাল টাস্ক ফোর্স বা এসটিএফ। সমীর নামে ওই তরুণের বয়স ১৮ বছর। জিজ্ঞাসাবাদের পরে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। পরিবারের দাবি, সমীর নির্দোষ এবং দীর্ঘদিন ধরে কিডনির অসুখে ভুগছেন। অভিযুক্তের সঙ্গে শৈশবের পরিচয়ের সূত্রেই তদন্তে তাঁর নাম উঠে এসেছে।
তথ্য অনুযায়ী, সমীর সোনিপতের বাসিন্দা রেহান আনসারির ছোটবেলার বন্ধু। টাইগারকে লক্ষ্য করে গুলি চালানোর ঘটনায় সন্দেহভাজন বন্দুকবাজদের অন্যতম রেহান। তাঁকে আরও দু’জনের সঙ্গে গ্রেফতার করা হয়েছে; ধৃতদের মধ্যে একজন নাবালক। তদন্তকারীরা এখন রেহানের পরিচিতদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং ঘটনার আগে তাঁদের ভূমিকা খতিয়ে দেখছেন। সেই সূত্রেই সমীরের কাছে তথ্য জানতে চাওয়া হয়।
এসটিএফের এক প্রবীণ আধিকারিক এইচটিকে জানিয়েছেন, মামলায় জড়িত অপরাধীদের শনাক্ত করতে এবং জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সমীরকে ডাকা হয়েছিল। পরে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়। ওই আধিকারিকের বক্তব্য অনুযায়ী, রেহানের অন্য বন্ধুদের সঙ্গেও তাঁর যোগাযোগ পরীক্ষা করা হচ্ছে। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন গোহানার বাসিন্দা অমন। গত সেপ্টেম্বরে অস্ত্র আইনের একটি মামলায় রেহানের জামিন পেতে অমন সাহায্য করেছিলেন বলে জানা গিয়েছে। অমনের সম্ভাব্য ভূমিকা নিয়েও তদন্ত চলছে; কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি।
সমীরের পরিবারের বক্তব্য, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তাঁর দৈনন্দিন জীবন মূলত বাড়ি ও স্কুলের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। মা মঞ্জু জানিয়েছেন, ছেলের কিডনির চিকিৎসা চলছে। এবিপি লাইভের প্রতিবেদনে পরিবারের দাবি, সমীরের কাছে নিজস্ব মোবাইল ফোনও নেই এবং বাড়িতে সিসিটিভি ক্যামেরা রয়েছে। মায়ের বক্তব্য, রেহানের সঙ্গে ছোটবেলার পরিচয় থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে দু’জনের নিয়মিত মেলামেশা ছিল না। পরিবারের সদস্যরা তাঁর নির্দোষ হওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সমীরের মা ও মাসি বাবলি তদন্তকারীদের কাছে তাঁর অসুস্থতা এবং দৈনন্দিন যাতায়াত বিবেচনার আবেদন জানিয়েছেন। বাড়ির সিসিটিভি ফুটেজ, স্কুলের নথি ও প্রতিবেশীদের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি করেছেন তাঁরা। পরিবারের এই বক্তব্য অবশ্য তদন্তের সিদ্ধান্ত নয়। সমীরের সঙ্গে অভিযুক্তদের যোগাযোগের প্রকৃতি সম্পর্কে নিশ্চিত হতে তথ্যপ্রমাণ যাচাই প্রয়োজন।
রেহানের পুরনো অস্ত্র মামলাটিও তদন্তের একটি প্রাসঙ্গিক দিক। সোনিপত পুলিশের মুখপাত্রের বক্তব্য উদ্ধৃত করে সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, বেআইনি আগ্নেয়াস্ত্র রাখার অভিযোগে গত ১৯ অগস্ট বরোদা থানায় তাঁর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছিল। গ্রেফতারের পরে ১৪ দিন বিচারবিভাগীয় হেফাজতে ছিলেন তিনি। ৫ সেপ্টেম্বর জামিন পান। রেহানের মায়ের অভিযোগ, সেই জামিনের সময় অমন পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে টাকা জোগাড়ে সাহায্য করেছিলেন।
রেহানের পরিবারও দাবি করেছে, তাঁকে অর্থ ও কাজের প্রলোভন দেখিয়ে বিপথে নিয়ে যাওয়া হয়ে থাকতে পারে। তদন্তকারীরা বিদেশে কাজের সুযোগ এবং টাকা দেওয়ার কথিত প্রস্তাবের সঙ্গে হামলার কোনও সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছেন। একই সঙ্গে অভিযুক্তদের যাতায়াতের পথ ও যোগাযোগের তথ্য পরীক্ষা করা হচ্ছে। এসব অভিযোগের চূড়ান্ত সত্যতা এখনও প্রতিষ্ঠিত হয়নি।
রবিবার মুম্বইয়ের জুহু এলাকায় টাইগারের গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়। অভিনেতা অক্ষত থাকেন। পরে রাজস্থানের কোটায় তিন সন্দেহভাজনকে ধরা হয়। প্রতিবেদন অনুযায়ী, হামলার আগে অভিনেতার ভক্তদের সঙ্গে দেখা করার একটি ভিডিওও সামনে এসেছে। তদন্তে হামলাকারীদের পরিচয়, অস্ত্র এবং পালানোর পথ সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের কাজ চলছে।
এই পরিস্থিতিতে সমীর সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য হল, তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করে ছেড়ে দেওয়ার কথা জানিয়েছে এসটিএফ। তাঁর পরিবারের নির্দোষতার দাবি এবং পুলিশের অনুসন্ধান পৃথক বিষয়। রেহানের বন্ধু হওয়ার তথ্য থেকে সমীরের অপরাধে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্তে পৌঁছনো যায় না। তদন্তের পরবর্তী ফলেই স্পষ্ট হবে, তাঁর কাছ থেকে পাওয়া তথ্য এই মামলায় কতটা প্রাসঙ্গিক।