কলকাতা: অন্নপূর্ণা যোজনার অগস্ট মাসের টাকা আগামী সোমবার, ১৭ আগস্ট থেকে উপভোক্তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে জমা পড়তে শুরু করবে। বুধবার নবান্নে এ কথা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তবে প্রথম দফায় সেই সব মহিলাই টাকা পাবেন, যাঁরা ১০ জুলাই বা তার আগে আবেদন করেছিলেন এবং যাঁদের নথি যাচাই সম্পূর্ণ হয়েছে। প্রত্যেক যোগ্য উপভোক্তার আধার-সংযুক্ত ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে সরাসরি ৩ হাজার টাকা পাঠানো হবে।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, অন্নপূর্ণা যোজনায় রাজ্য জুড়ে মোট ২ কোটি ১৬ লক্ষ আবেদন জমা পড়েছে। বিপুল সংখ্যক আবেদন যাচাই করতে কিছুটা সময় লাগছে। ১০ জুলাই পর্যন্ত জমা পড়া আবেদনগুলির পরীক্ষা প্রায় শেষ। তাই ওই আবেদনকারীদের টাকা ১৭ আগস্ট থেকে দেওয়া সম্ভব হবে। ১১ থেকে ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে যাঁরা আবেদন করেছেন, তাঁদের নথি যাচাই শেষ হলে অগস্টের শেষ দিকে টাকা দেওয়া হবে।
সরকারের বক্তব্য, নির্ধারিত তারিখে সকলের অ্যাকাউন্টে একসঙ্গে টাকা নাও পৌঁছতে পারে। ব্যাঙ্ক ও জেলা অনুযায়ী কয়েকটি পর্যায়ে অর্থ পাঠানো হবে। ফলে প্রথম দিন টাকা না ঢুকলে উপভোক্তাদের উদ্বিগ্ন না হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কয়েক দিনের মধ্যেই অর্থ জমা পড়ার বার্তা তাঁদের নথিভুক্ত মোবাইল নম্বরে পৌঁছে যাবে।
অন্নপূর্ণা যোজনার আওতায় যোগ্য মহিলারা প্রতি মাসে ৩ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা পান। ২৫ থেকে ৬০ বছর বয়সি পশ্চিমবঙ্গের স্থায়ী বাসিন্দা মহিলারা এই প্রকল্পে আবেদন করতে পারেন। তবে আয়করদাতা, স্থায়ী সরকারি কর্মী এবং নিয়মিত সরকারি পেনশনপ্রাপকেরা সাধারণত এই সুবিধার আওতায় পড়বেন না। জুন মাসে শুরু হওয়া প্রকল্পটির দু’টি কিস্তি ইতিমধ্যেই দেওয়া হয়েছে। অগস্টের অর্থ হবে তৃতীয় কিস্তি।
রাজ্য সরকার প্রকল্পটির যোগ্যতার কয়েকটি শর্ত শিথিল করারও সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কৃষক পরিবারের মহিলা এবং প্রতিবন্ধী ভাতা পাওয়া মহিলাদের একটি অংশকেও এবার অন্নপূর্ণার আওতায় আনা হবে। তবে ভুয়ো আবেদন আটকাতে যাচাই আরও কঠোর হবে। আবেদনকারীর নাম, বয়স, ভোটার পরিচয়পত্র, আধার এবং ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের তথ্য মিলিয়ে দেখা হচ্ছে।
যাঁদের আবেদন অনুমোদিত হওয়া সত্ত্বেও টাকা ঢুকবে না, তাঁদের প্রথমে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের সঙ্গে আধার সংযুক্ত রয়েছে কি না এবং সরাসরি সরকারি অর্থ গ্রহণের ব্যবস্থা সক্রিয় কি না, তা পরীক্ষা করতে বলা হয়েছে। নাম, জন্মতারিখ অথবা অ্যাকাউন্ট নম্বরে অমিল থাকলেও টাকা আটকে যেতে পারে। সমস্যা না মিটলে স্থানীয় বিডিও বা পুরসভা কার্যালয়ে অভিযোগ জানানো যাবে।
বিরোধীরা অবশ্য কিস্তি দিতে দেরি হওয়া নিয়ে সরকারকে আক্রমণ করেছে। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, কাউকে বঞ্চিত করা সরকারের উদ্দেশ্য নয়; প্রকৃত উপভোক্তার হাতেই যাতে টাকা পৌঁছয়, তার জন্য যাচাই জরুরি। সোমবার থেকে অর্থপ্রদান শুরু হলে রাজ্যের কয়েক কোটি মহিলা উপভোক্তার অপেক্ষার অবসান ঘটবে।