বাংলাস্ফিয়ার: প্রয়োজনে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কর্মী-সমর্থকদের সমবেত করতে প্রস্তুত থাকুন। মঙ্গলবার বিরোধী নেতৃত্বকে এই বার্তা দিয়েছেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। যন্তর মন্তরকে প্রতিবাদস্থল হিসেবে ফিরিয়ে আনার পরিকল্পনাও করছে বিরোধীরা। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণ এবং ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর বাতিলের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

১৩ অক্টোবর দিল্লির সুনহরি বাগ রোডে রাহুলের বাসভবনে চা-চক্রে মিলিত হন ইন্ডিয়া জোটের ১৭টি দলের নেতা-সাংসদ, ছাত্র সংগঠন ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা। উপস্থিত ছিলেন মল্লিকার্জুন খাড়গে, সোনিয়া গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী, তেজস্বী যাদব, এম এ বেবি, ডি রাজা, দীপঙ্কর ভট্টাচার্য, মহুয়া মৈত্র ও সাগরিকা ঘোষ। যোগ দেন প্রশান্ত ভূষণ এবং যোগেন্দ্র যাদবও। আলোচনা হয় চলতি আন্দোলনের ভবিষ্যৎ কৌশল নিয়ে।

বৈঠকের পরে রাহুল জানান, সুপ্রিম কোর্ট, প্রধান বিচারপতি এবং বিচারব্যবস্থার প্রতি তাঁদের গভীর শ্রদ্ধা রয়েছে। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলি নিজেদের দায়িত্ব পালন করবে বলেই তাঁরা আশা করছেন। তবে কোনও প্রতিষ্ঠান কী ভূমিকা নিল, তার উপর রাজনৈতিক প্রতিরোধের ভবিষ্যৎ নির্ভর করবে না। মানুষের আন্দোলন চলবে। তাঁর বক্তব্য, বিভিন্ন সংগঠনের কর্মসূচির লক্ষ্য একটিই—দেশে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া পুনরুদ্ধার।

যন্তর মন্তরের প্রতিবাদস্থলের স্বীকৃতি প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করার কথাও জানান রাহুল। তেজস্বীর অভিযোগ, এই পদক্ষেপে সরকারের ভয় প্রকাশ পেয়েছে। ডি রাজা বলেন, আন্দোলন দমন করা যাবে না; যন্তর মন্তর ফিরিয়ে আনতে লড়াই হবে। প্রশান্ত ভূষণও প্রতিবাদের সাংবিধানিক অধিকারের কথা তুলে ধরেন। খাড়গে জানান, জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে প্রচার কীভাবে এগোবে, বৈঠকে তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। রাহুলের অভিযোগ, নরেন্দ্র মোদী এই প্রক্রিয়ার মূল পরিকল্পনাকারী এবং অমিত শাহ তা কার্যকর করেছেন। ভোটচুরির সঙ্গে জড়িতদের বিচারের মুখোমুখি করার অঙ্গীকারও করেন তিনি। তাঁর দাবি, সংবিধান ধ্বংস করার দায় এড়িয়ে যাওয়া এত সহজ হবে না।

সোনিয়া গান্ধী সাধারণ মানুষের অসুবিধা না করে আন্দোলন চালানোর পরামর্শ দিয়েছেন। মূল্যবৃদ্ধিকে সামনে আনার প্রস্তাব উঠলেও রাহুল-সহ কয়েকজন নেতা এখনই মূল বিষয় থেকে সরে যেতে চাননি। দেশজুড়ে বিক্ষোভের পাশাপাশি দিল্লিতে চাপ বজায় রাখার উপরও জোর দেওয়া হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টে আবেদনের শুনানির পরে পরবর্তী কর্মসূচি স্থির করার বিষয়ে বৈঠকে ঐকমত্য হয়।

এদিকে মঙ্গলবার যন্তর মন্তরে ঢোকার পরে ককরোচ জনতা পার্টি বা সিজেপির সৌরভ দাস, আশুতোষ রাঙ্কা ও অজিঙ্ক্য শিন্ডে-সহ কর্মীদের আটক করে পুলিশ। সংগঠনটির দাবি, প্রায় ২০ জন আটক হয়েছেন। সোমবার দিল্লি পুলিশ জানিয়েছিল, যন্তর মন্তর আর নির্ধারিত প্রতিবাদস্থল নয়; পরিবর্তে তিনটি জায়গা চিহ্নিত করা হয়েছে।

শিবসেনা উদ্ধব শিবিরের সঞ্জয় রাউত বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সামনে জানিয়েছেন, দিল্লি এবং দেশের অন্যত্র আন্দোলন চলবে। বৈঠকে সকলের মতামত ও পরামর্শ নেওয়া হয়েছে। আইসার নেহা বোরার বক্তব্য, ভোটাধিকারের উপর আঘাত দেশের গণতন্ত্রের উপর আঘাত। এনসিপি শরদ শিবিরের সুপ্রিয়া সুলেও আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন।

বিরোধীদের অভিযোগ, ভোটার তালিকা সংশোধনের মাধ্যমে শাসকদলকে সুবিধা দেওয়া হয়েছে। নির্বাচন কমিশন এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। কমিশনের বক্তব্য, ভুলভাবে নাম বাদ পড়লে সংশ্লিষ্ট ভোটার ফের নাম নথিভুক্ত করতে পারেন। বিজেপির পাল্টা অভিযোগ, বৈধ নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিয়ে অযথা প্রশ্ন তুলে বিরোধীরাই গণতন্ত্রকে দুর্বল করার চেষ্টা করছেন।

পরবর্তী বড় জমায়েতের সময় নির্ধারণে উৎসবের কথাও উঠেছে। দুর্গাপুজো ও দশেরার সময়ে মানুষের অসুবিধা এড়িয়ে দীর্ঘমেয়াদি আন্দোলনের কর্মসূচি তৈরির প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে রামলীলা ময়দানে প্রস্তাবিত যৌথ সমাবেশে প্রতীকী সংসদ অধিবেশনের ভাবনাও উঠেছে। সেখানে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে অপসারণের প্রতীকী প্রক্রিয়া দেখানোর প্রস্তাব রয়েছে। এসআইআরে নাম বাদ পড়া মানুষদের সমাবেশে ডাকার কথাও আলোচনা হয়েছে। তবে এসব প্রস্তাব এখনও চূড়ান্ত হয়নি।