বাংলাস্ফিয়ার: পুলিশের পরিচয় দিয়ে বারবার ফোন, মাদকের ভুয়ো মামলায় ফাঁসিয়ে গ্রেফতারের হুমকি এবং টাকা দাবি। পুণের এক তরুণ তথ্যপ্রযুক্তিকর্মীর আত্মহত্যার ঘটনায় এমনই অভিযোগ তুলেছে তাঁর পরিবার। গত ১ অক্টোবর খারাডি এলাকায় তাঁর মৃত্যু হয়। পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে দুই অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা করে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। ঘটনাটির সঙ্গে সাইবার প্রতারণা বা তথাকথিত ‘ডিজিটাল অ্যারেস্ট’ চক্রের যোগ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
মৃতের নাম শিখর সাক্সেনা, বয়স ২২। উত্তরাখণ্ডের বাসিন্দা শিখর হিমাচল প্রদেশের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি থেকে বিটেক পাশ করেছিলেন। ক্যাম্পাসের নিয়োগপ্রক্রিয়ায় চাকরি পেয়ে জুলাইয়ে পুণেতে অ্যাকসেঞ্চারে যোগ দেন। হড়পসরের মগরপট্টায় সংস্থার দফতরে কাজ করতেন তিনি। থাকতেন খারাডিতে পেয়িং গেস্ট হিসেবে। এটাই ছিল তাঁর প্রথম চাকরি। তাঁর বাবা কুমারগৌরব সাক্সেনা উত্তরাখণ্ডের জল নিগমের কর্মী।
অভিযোগ অনুযায়ী, ৩০ সেপ্টেম্বর শিখরের মায়ের কাছে একটি ফোন আসে। অপর প্রান্তের ব্যক্তি তাঁর ছেলের খোঁজ করে। শিখরের সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পেরে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ে পরিবার। পরে বাবা ওই নম্বরে যোগাযোগ করলে ফোন করা ব্যক্তি প্রথমে নিজেকে শিখরের বন্ধু বলে পরিচয় দেয়। দাবি করে, অনলাইন গেম খেলার সূত্রে তাদের পরিচয়। কিন্তু কথাবার্তায় অসংগতি এবং ছেলের ফোন বন্ধ থাকায় বাবার সন্দেহ বাড়ে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই ব্যক্তি নিজের নাম অজয়কুমার বলে জানিয়েছিল। প্রথমে বলেছিল, কয়েকটি পিডিএফের জন্য ফোন করেছে। পরে দাবি করে, পাবজি খেলতে গিয়ে শিখরের সঙ্গে পরিচয় হয়েছে। বাবা জানান, তাঁর ছেলে ওই খেলা খেলেন না। তখন ফোন কেটে দেয় অভিযুক্ত। আবার ফোন করা হলে সে পরিচয় বদলে নিজেকে হরিয়ানার পুলিশের সাব-ইনস্পেক্টর বলে দাবি করে। জানায়, মাদক বিক্রির অভিযোগে শিখরকে গ্রেফতার করতে চায়।
পরিবার পুণেতে বসবাসকারী এক আত্মীয়ের সাহায্য চায়। তিনি শিখরের থাকার জায়গায় গিয়ে ঘর খোলা পেলেও তাঁকে পাননি। এরপর পুলিশের দ্বারস্থ হন। প্রথমে অপহরণের মামলা রুজু করে খোঁজ শুরু হয়। ১ অক্টোবর সকালে শিখরের মৃত্যুর খবর আসে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, তাঁকে সাসুন জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা মৃত ঘোষণা করেন। তাঁর বাবা ততক্ষণে পুণেতে পৌঁছেছিলেন।
শেষকৃত্যের পরে পরিবারের সদস্যেরা শিখরের ল্যাপটপ পরীক্ষা করে হোয়াটসঅ্যাপে কথোপকথন ও বিভিন্ন অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানোর স্ক্রিনশট দেখতে পান। পুলিশের বক্তব্য, কথোপকথন বিশ্লেষণে সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে টাকা পাঠানোর তথ্য মিলেছে। কত টাকা গিয়েছে, তা প্রকাশ করা হয়নি। আবার ১৩ অক্টোবর শিখরের বাবাকে অন্য একটি নম্বর থেকে ফোন করে এক ব্যক্তি নিজেকে কুরিয়ার দফতরের কর্মী বলে পরিচয় দেয় এবং ছেলের খোঁজ করে। খারাডি থানার সিনিয়র ইনস্পেক্টর সঞ্জয় চহ্বাণ জানিয়েছেন, সন্দেহভাজনের মোবাইল নম্বরের তথ্য তাঁদের হাতে এসেছে। তার খোঁজে পুলিশের একটি তদন্তকারী দল ইতিমধ্যে হরিয়ানায় গিয়েছে।
১৪ অক্টোবর বাবা ফের পুণেতে গিয়ে অভিযোগ দায়ের করেন। আত্মহত্যায় প্ররোচনা, ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় এবং পরিচয় গোপন করে হুমকির অভিযোগে মামলা হয়েছে। অভিযুক্তদের ফোন নম্বর ও ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, ফোন করা ব্যক্তি প্রকৃত পুলিশকর্মী নয়। তবে কীভাবে শিখরের সঙ্গে তার যোগাযোগ হয়েছিল, তা এখনও নিশ্চিত হয়নি। ছেলের মৃত্যুর ঘটনায় অভিযুক্তদের গ্রেফতার ও বিচার চেয়েছেন বাবা। শিখরের মোবাইল ফোনটি পাসওয়ার্ড দিয়ে বন্ধ রয়েছে। সেটি খোলার চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
খবর অনুযায়ী, কোনও সুইসাইড নোট পাওয়া যায়নি। মৃত্যুর আগের সপ্তাহে সন্দেহভাজন প্রতারকের ফোন আসছিল বলে পুলিশ জানিয়েছে। তাঁর আর্থিক লেনদেনের তথ্যও এখন পরীক্ষা চলছে। পরিবারের অভিযোগ তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হলেও মৃত্যুর সমস্ত পরিস্থিতি এখনও স্পষ্ট নয়। ‘ডিজিটাল অ্যারেস্ট’ চক্রের সংশ্লিষ্টতাও এখনও তদন্তসাপেক্ষ।