বাংলাস্ফিয়ার: দিল্লির যন্তরমন্তরে শনিবারের বিক্ষোভে যোগ দিতে যাওয়ার পথে মধ্যপ্রদেশে ট্রেন থেকে নামিয়ে আটক করা হল আন্দোলনকারীদের। ভোপাল, ইটারসি ও গোয়ালিয়র স্টেশনে এই অভিযান চলে। এক শীর্ষ পুলিশকর্তা জানিয়েছেন, অন্তত ৩০ জনকে আটক করে নিজেদের রাজ্যে ফিরে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তাঁদের মধ্যে গোয়া, কর্নাটক ও মহারাষ্ট্রের বাসিন্দারাও রয়েছেন।

ইটারসিতে আটক শ্রাবণী বুভা ও প্রীতি প্রশান্ত লোধেকে নিয়ে শুক্রবার মধ্যপ্রদেশ হাই কোর্টে বন্দি প্রত্যক্ষীকরণের আবেদন করা হয়। পুলিশের বক্তব্য অনুযায়ী, আদালত দুই তরুণীকে সোমবার অথবা তার আগেই হাজির করানোর নির্দেশ দিয়েছে। বিষয়টি পুলিশপ্রধানসহ সংশ্লিষ্ট জেলা ও রেল পুলিশকর্তাদের জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।

ছাত্র সংগঠন এআইএসএফের অভিযোগ, পুনে থেকে দিল্লিগামী তাদের সদস্যদের প্রথমে মহারাষ্ট্রের ভুসাবল স্টেশনে বাধা দেওয়া হয়। পরে মধ্যপ্রদেশের ইটারসিতে তাঁদের আটক করা হয়। সংগঠনের দাবি, প্রায় ২২ জন ছাত্রীকে আটক করে একটি হোটেলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। দিল্লির বিক্ষোভে অংশ নিতে যাওয়ার সময় তেলঙ্গানার চার স্বেচ্ছাসেবককেও ভোপালে আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি বা সিজেপি। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, রাজধানীতে পৌঁছনোর আগেই তাঁদের যাত্রা থামিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে পুলিশ।

ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআরে অনিয়মের অভিযোগ তুলে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে ১০ অক্টোবর এই প্রতিবাদের ডাক দেওয়া হয়েছে। সিজেপির সঙ্গে বিভিন্ন বামপন্থী দল, ছাত্র সংগঠন ও নাগরিক আন্দোলনের কর্মীরাও কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার কথা জানিয়েছেন। আয়োজকদের দাবি, তাঁদের কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ। এসআইআর প্রক্রিয়া বাতিলের দাবিও তুলেছেন আন্দোলনকারীরা। তাঁদের আশঙ্কা, প্রকৃত ভোটারদের অধিকার ক্ষুণ্ণ হচ্ছে।

গুজরাটেও দিল্লিমুখী আন্দোলনকারীদের আটক এবং বাড়িতে আটকে রাখার অভিযোগ উঠেছে। আমদাবাদের সমাজকর্মী অশ্বিন বাঘেলা ও আরও ৫৪ জন শুক্রবার দিল্লি যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন। কিন্তু বাঘেলা এবং তাঁর দলের আরও তিন নেতাকে বাড়িতেই আটক করা হয়। কয়েকজন কর্মীর অভিযোগ, দিল্লিতে বিক্ষোভে যোগ দিতে যাবেন না, এমন লিখিত অঙ্গীকার দিতে তাঁদের বাধ্য করেছে পুলিশ।

এসএফআইয়ের সর্বভারতীয় সহসভাপতি তথা আইনজীবী সত্যেশা লেউভাকেও গৃহবন্দি করার অভিযোগ সামনে এসেছে। গুজরাট হাই কোর্টের আইনজীবীদের সংগঠন তাঁর পাশে দাঁড়িয়ে প্রস্তাব গ্রহণ করেছে। সংগঠনটির বক্তব্য, তাঁর চলাফেরায় নিষেধাজ্ঞার কারণ জানিয়ে কোনও লিখিত নির্দেশ বা নোটিস দেওয়া হয়নি। পুলিশি পদক্ষেপের আইনি ভিত্তি জানতে চাওয়ার পাশাপাশি যথাযথ প্রক্রিয়া না মানার অভিযোগে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও তুলেছে তারা। লেউভা আমদাবাদে স্থানীয় সংহতি কর্মসূচিরও অন্যতম আয়োজক। ওই বিক্ষোভের অনুমতি তখনও মেলেনি। আইনজীবীদের সংগঠন বিষয়টি হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতি ও রাজ্যের আইনমন্ত্রীর কাছে তোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

আমদাবাদের সমাজকর্মী দেব দেশাই জানিয়েছেন, শুক্রবার সকালে ক্রাইম ব্রাঞ্চের কর্মীরা তাঁর বাড়িতে এসে দিল্লি যাওয়ার পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে চান। তাঁকে বাড়িতে থাকতে বলা হয়; অন্যথায় ক্রাইম ব্রাঞ্চের দপ্তরে নিয়ে যাওয়ার কথা জানান তাঁরা। একই সময়ে পশ্চিম রেল পরিচালনাগত কারণ দেখিয়ে শুক্রবারের স্বর্ণজয়ন্তী রাজধানী এক্সপ্রেস বাতিল করেছে। ট্রেনটি সাবরমতী থেকে ছেড়ে শনিবার সকালে দিল্লি পৌঁছনোর কথা ছিল।

দিল্লি পুলিশ অবশ্য জানিয়েছে, যন্তরমন্তরের কর্মসূচির অনুমতি দেওয়া হয়নি। পুলিশের যুক্তি, প্রতিবাদের আয়োজন বিবেচনার সময় এলাকার বাসিন্দা ও অন্য নাগরিকদের অধিকার, নিরাপত্তা এবং যান চলাচলের বিষয়ও দেখতে হয়। রাজধানীতে জমায়েত ঠেকাতে বিভিন্ন এলাকায় বিধিনিষেধ এবং ব্যাপক নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

অন্যদিকে, আটক ও যাত্রায় বাধার বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন আন্দোলনের উদ্যোক্তারা। তাঁদের অভিযোগ, প্রতিবাদে অংশ নেওয়ার সুযোগই বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে। সিজেপি প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে জানিয়েছেন, বাধা ও আটক সত্ত্বেও যন্তরমন্তরের কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্তে তাঁরা অটল। ফলে শনিবারের বিক্ষোভের আগে বিরোধের কেন্দ্র হয়ে উঠেছে দিল্লিতে পৌঁছনোর পথও। দিল্লির বাইরেও সংগঠনের সদস্যদের আটক করার অভিযোগ তুলেছেন তাঁরা।