বাংলাস্ফিয়ার: প্রায় তিন বছর বয়সি ওরাংওটাংটিকে ডোম্বিভলির পালাভা সিটি আবাসনের একটি বাথরুমে ছোট্ট খাঁচায় আটকে রাখা হয়েছিল।
মহারাষ্ট্রের ঠাণে জেলায় অবৈধ বন্যপ্রাণী বাণিজ্যের কবল থেকে উদ্ধার করা একটি পুরুষ ওরাংওটাং সোমবার ইন্দোনেশিয়ায় পৌঁছেছে। ভারতে উদ্ধার হওয়া কোনও বন্যপ্রাণীকে তার উৎসদেশে ফিরিয়ে দেওয়ার ঘটনা সম্ভবত এই প্রথম।
সুপ্রিম কোর্ট নিযুক্ত উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন কমিটির নির্দেশে ২০২৫ সালের মার্চ থেকে প্রাণীটিকে রাখা হয়েছিল ভান্তারার অন্তর্গত গ্রিনস জুলজিক্যাল রেসকিউ অ্যান্ড রিহ্যাবিলিটেশন সেন্টারে (জিজেডআরআরসি)। ওই কমিটির প্রধান সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি দীপক বর্মা।
ঘটনাপ্রবাহ সম্পর্কে অবহিত ব্যক্তিদের বক্তব্য অনুযায়ী, আমেদাবাদ থেকে একটি বেসরকারি বিমানে ওরাংওটাংটিকে নিয়ে যাওয়া হয়। তত্ত্বাবধানে ছিলেন ওয়াইল্ডলাইফ ক্রাইম কন্ট্রোল ব্যুরোর পশ্চিমাঞ্চলের আধিকারিকেরা, ভান্তারার কর্মীরা এবং ইন্দোনেশিয়া সরকারের আধিকারিকদের একটি ছোট দল। জানা গিয়েছে, সোমবার সকালে প্রাণীটি জাকার্তায় পৌঁছেছে।
নির্ধারিত নিয়ম মেনে প্রাণীটিকে কোয়ারান্টিন এলাকায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া তদারক করবেন ওই বিমানে যাওয়া ভারতীয় আধিকারিকেরা। কোয়ারান্টিনের মেয়াদ শেষ হলে তাকে একটি পুনর্বাসনকেন্দ্রে স্থানান্তর করা হতে পারে।
ভারতে পাচার করে আনা জীবন্ত প্রাণী ফেরত পাঠানোর কাজে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ, শুল্ক বিভাগ এবং বিমান সংস্থাগুলি প্রায়ই যৌথভাবে কাজ করে। তবে এই ক্ষেত্রে প্রাণীটিকে উদ্ধার করা হয়েছিল ভারতের ভূখণ্ডের অনেক ভিতর থেকে।
বাথরুমের ভিতরে ছোট্ট খাঁচায় বন্দি
ওরাংওটাংটির বয়স প্রায় তিন বছর বলে মনে করা হচ্ছে। ডোম্বিভলির পালাভা সিটি আবাসনের একটি বাথরুমের ভিতরে ছোট্ট খাঁচায় তাকে আটকে রাখা হয়েছিল। সন্দেহভাজন একটি বড় বন্যপ্রাণী পাচার চালানের অংশ ছিল প্রাণীটি। ঠাণে বন বিভাগের অভিযানে তাকে উদ্ধার করা হয়।
প্রথমে ওরাংওটাংটিকে নাগপুরের বালাসাহেব ঠাকরে গোরেওয়াড়া আন্তর্জাতিক প্রাণী উদ্যানে পাঠানো হয়েছিল। পরে সুপ্রিম কোর্ট নিযুক্ত কমিটির নির্দেশে তাকে ভান্তারায় স্থানান্তর করা হয়।
মহারাষ্ট্রের তৎকালীন প্রধান বন্যপ্রাণী সংরক্ষক এম শ্রীনিবাস রাও ২০২৫ সালের ১ মার্চ গোরেওয়াড়া চিড়িয়াখানাকে নির্দেশ দিয়েছিলেন, চূড়ান্তভাবে দেশে ফেরত পাঠানোর আগে যথাযথ পুনর্বাসনের জন্য প্রাণীটিকে জিজেডআরআরসি-তে স্থানান্তর করতে হবে। সরকারি নথি অনুযায়ী, ওই নির্দেশে সুপ্রিম কোর্ট নিযুক্ত উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন কমিটির মতামত উল্লেখ করা হয়েছিল। কমিটি মনে করেছিল, স্থানীয় কোনও চিড়িয়াখানায় ওরাংওটাংটিকে রাখা উপযুক্ত না-ও হতে পারে।
সরকারি নথি থেকে আরও জানা যায়, ২০২৫ সালে কমিটি যখন প্রাণীটিকে স্থানান্তরের নির্দেশ দেয়, তখনই ইন্দোনেশিয়ার সঙ্গে সমন্বয় করে তাকে দেশে ফেরানোর প্রক্রিয়া চলছিল। ইন্দোনেশিয়া তাকে সে দেশে নিয়ে যাওয়ার জন্য আমদানি অনুমতিপত্রও জারি করেছিল।
বিপন্ন বন্যপ্রাণী ও উদ্ভিদের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সংক্রান্ত কনভেনশন বা সাইটিস-এর প্রথম পরিশিষ্টে ওরাংওটাং অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। প্রাণী ও উদ্ভিদের আন্তঃসীমান্ত বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণকারী এই চুক্তির আওতায় ওরাংওটাংয়ের বাণিজ্য কঠোরভাবে সীমিত—গবেষণা, স্বীকৃত চিড়িয়াখানাগুলির মধ্যে স্থানান্তর এবং প্রজনন প্রকল্পের মতো নির্দিষ্ট উদ্দেশ্যেই তা অনুমোদিত।
সম্ভব হলে উদ্ধার হওয়া প্রাণীকে তার উৎসদেশে ফিরিয়ে দেওয়াকে উৎসাহ দেয় এই আন্তর্জাতিক চুক্তি। ভারতের বন্যপ্রাণী সুরক্ষা আইনেও সম্ভাব্য উৎসদেশ অথবা যে দেশ থেকে প্রাণীটি রপ্তানি করা হয়েছে, তার সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে প্রাণীটিকে ফেরত পাঠানোর বিধান রয়েছে।
ওরাংওটাংয়ের আদি আবাস বোর্নিও ও সুমাত্রার অরণ্য। বন্য অবস্থায় কেবল ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়াতেই এদের দেখা যায়। উদ্ধার হওয়া ওরাংওটাংটি ২০২৫ সালের মার্চ থেকে ভান্তারার অন্তর্গত গ্রিনস জুলজিক্যাল রেসকিউ অ্যান্ড রিহ্যাবিলিটেশন সেন্টারে ছিল।