বাংলাস্ফিয়ারঃ ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কার জামিনের শুনানিতে রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, দেরি হয়েছে বলে অভিযোগ করলেন সমাজকর্মী রত্না সিংহ। তাঁর বক্তব্য, নির্ধারিত সময়ে বিশেষ কার্যনির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট (এসইএম) উপস্থিত হননি। পাশাপাশি, ‘অস্পষ্ট’ কারণ দেখিয়ে চার জন জামিনদারকে খারিজ করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি।
গত ১৪ অক্টোবর যন্তর মন্তরের তালাবন্ধ ফটক টপকে ভিতরে ঢোকার পরে সৌরভ ও আশুতোষকে পাঁচ দিনের বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠানো হয়। তার আগেই নির্দিষ্ট প্রতিবাদস্থল হিসেবে যন্তর মন্তরের স্বীকৃতি প্রত্যাহার করা হয়েছিল। সিজেপি নেতাদের বক্তব্য, তাঁরা সেখানে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেছিলেন এবং স্লোগান দিয়েছিলেন।
এক্সে একটি পোস্টে রত্না জানান, তিনি সকাল ১১টা থেকে থানায় উপস্থিত ছিলেন। শুনানি হওয়ার কথা ছিল দুপুর ১২টায়। কিন্তু বিকেল ৪টে ৪২ মিনিট পর্যন্ত সহকারী পুলিশ কমিশনার তথা বিশেষ কার্যনির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মন্দির মার্গ থানায় এসে পৌঁছননি।
রত্নার অভিযোগ, “এটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এখনও পর্যন্ত অস্পষ্ট কারণ দেখিয়ে চার জন জামিনদারকে খারিজ করা হয়েছে। প্রতিবাদে অংশ নেওয়ার জন্য যাঁদের বিরুদ্ধে এফআইআর রয়েছে, তাঁদেরই অপরাধের পূর্ব-ইতিহাস রয়েছে বলে চিহ্নিত করা হচ্ছে।”
এই অভিযোগগুলির বিষয়ে পুলিশের কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
আর একটি পোস্টে রত্না লেখেন, “ভারতের জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা কোনও অপরাধ নয়। প্রক্রিয়াগত বিলম্বের কারণে এই তরুণদের হেফাজতে আটকে রাখা উচিত নয়।”
রাজধানীর বিশেষ কার্যনির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের আদালতের কাজকর্ম নিয়েও প্রশ্ন তোলেন রত্না। তাঁর বক্তব্য, উচ্চতর আদালতগুলি কর্তৃপক্ষকে আদালতের স্তরবিন্যাস মেনে চলতে বলেছে। তাঁর অভিযোগ, এখানে “ক্ষমতার চূড়ান্ত অপব্যবহার” হচ্ছে।
শনিবার, ১৭ অক্টোবর, সিজেপি এক্সে একটি পোস্টে জানিয়েছিল, তারা প্রবীণ আইনজীবী কপিল সিব্বলের সঙ্গে পরামর্শ করেছে। রবিবার, ১৮ অক্টোবরের মধ্যে সৌরভ ও আশুতোষকে মুক্তি দেওয়া না হলে আইনি পদক্ষেপের হুঁশিয়ারিও দিয়েছিল সংগঠনটি।
ওই পোস্টে সিজেপি বলেছিল, “আগামিকালের মধ্যে আশু ও সৌরভকে মুক্তি দেওয়া না হলে, যাঁরা ইচ্ছাকৃত ভাবে তাঁদের বেআইনি হেফাজতে রেখে দেওয়া নিশ্চিত করেছেন, তাঁদের সকলের বিরুদ্ধে আমরা আইনি ব্যবস্থা নেব। বিশেষত, তাঁরা যখন কোনও অপরাধ করেননি এবং তাঁদের বিরুদ্ধে কোনও অপরাধের অভিযোগও আনা হয়নি।”
সংগঠনটি আরও বলেছিল, “তাঁদের কারাগারে আটকে রাখতে ইচ্ছাকৃত ভাবে সময়ক্ষেপণের কৌশল নেওয়া হচ্ছে। এর বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জ জানাতেই হবে। যাঁরা দায়ী, তাঁদের জবাবদিহি করতে হবে।”
মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার এবং ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) বিরুদ্ধে আন্দোলন করছে সিজেপি। সংগঠনটির অভিযোগ, এই প্রক্রিয়া ভোটারদের অধিকার বিপন্ন করছে।