বাংলাস্ফিয়ার: দেশের বিভিন্ন এলাকায় জনবিন্যাসের পরিবর্তন সম্পর্কে নাগরিকদের কাছ থেকে তথ্য ও মতামত সংগ্রহ করতে পোর্টাল চালু করল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের গঠিত উচ্চপর্যায়ের কমিটি। সরকারি সংস্থা, সাধারণ মানুষ, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এবং আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানও সেখানে বক্তব্য জানাতে পারবে। বিশেষত ২০১১ সালের পর কোনও এলাকায় জনসংখ্যার গঠন ও বসতির চরিত্র কীভাবে বদলেছে, সেই বিষয়ে তথ্য চাওয়া হয়েছে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে স্থানীয় অভিজ্ঞতাও কমিটির পর্যালোচনার আওতায় আনার চেষ্টা হচ্ছে। ফলে সীমান্ত এলাকার পাশাপাশি শহর ও শিল্পাঞ্চলে বসবাসকারী সাধারণ মানুষের পর্যবেক্ষণও কমিটির সামনে তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হয়েছে এই পোর্টালের মাধ্যমে।
পোর্টালের বক্তব্য অনুযায়ী, জনবিন্যাসের পরিবর্তন সবচেয়ে বেশি দৃশ্যমান সীমান্তবর্তী জেলাগুলিতে। তবে তার প্রভাব সীমান্তের মধ্যেই আটকে নেই। শহর, শিল্পাঞ্চল, আদিবাসী অধ্যুষিত অঞ্চল এবং সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবে সংবেদনশীল অন্য এলাকাতেও তার অভিঘাত পড়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। সরকারি পরিষেবা পৌঁছে দেওয়া, স্থানীয় প্রশাসন পরিচালনা, সম্পদের বণ্টন এবং সামাজিক সংহতি এই পরিবর্তনের ফলে গুরুতরভাবে প্রভাবিত হচ্ছে বলে পোর্টালে উল্লেখ রয়েছে।
এই পরিবর্তনের কারণ সম্পর্কেও নির্দিষ্ট অবস্থান তুলে ধরা হয়েছে। পোর্টালের দাবি, সংশ্লিষ্ট পরিবর্তনগুলি স্বাভাবিক জন্মহার বা মৃত্যুহারের প্রবণতা দিয়ে ব্যাখ্যা করা যায় না; এর পিছনে রয়েছে অবৈধ অভিবাসন, অনিয়মিত জনস্থানান্তর এবং প্রশাসনিক শিথিলতার মতো কারণ। এটি পোর্টালে উল্লিখিত সরকারি মূল্যায়ন; নাগরিকদের কাছ থেকে আসা তথ্যের ভিত্তিতে কমিটিকে কারণ ও পরিণতি বিশ্লেষণ করতে হবে।
সমীক্ষায় জানতে চাওয়া হচ্ছে, জনবিন্যাসের পরিবর্তনের প্রধান চালিকাশক্তি কী এবং স্থানীয় জীবনে তার প্রভাব কেমন। কর্মসংস্থান, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, আবাসন, পরিকাঠামো, সরকারি পরিষেবা, পরিবেশ, সামাজিক সম্প্রীতি ও স্থানীয় অর্থনীতির মতো বিষয় রাখা হয়েছে। কেন্দ্র ও রাজ্যের দপ্তরের পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, শিল্প ও বাণিজ্য সংগঠন, গবেষণা প্রতিষ্ঠান, জনপ্রতিনিধি এবং পড়ুয়ারাও মতামত জানানোর সুযোগ পাচ্ছেন।
অংশগ্রহণকারীদের মোবাইল নম্বর, ঠিকানা ও ইমেল দেওয়া বাধ্যতামূলক। তাঁদের ব্যক্তিগত তথ্য প্রক্রিয়াকরণ এবং জমা দেওয়া বক্তব্য পর্যালোচনা ও বিশ্লেষণের জন্য সম্মতিও চাওয়া হচ্ছে। ফলে এই ব্যবস্থায় পরিচয় গোপন রেখে মতামত দেওয়ার সুযোগ নেই। সংগৃহীত তথ্য জনবিন্যাস বদলের কারণ চিহ্নিত করতে সাহায্য করবে বলে মন্ত্রক জানিয়েছে।
এই কাজের সঙ্গে অবৈধ অভিবাসন মোকাবিলার প্রশাসনিক কাঠামো তৈরির লক্ষ্যও যুক্ত। দেশে বসবাসকারী অবৈধ অভিবাসীদের আইনসম্মত, ন্যায়সংগত এবং নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে শনাক্তকরণ, আটক ও বহিষ্কারের জন্য একটি সুসংগঠিত স্থায়ী ব্যবস্থা সুপারিশ করার দায়িত্ব কমিটির। অর্থাৎ, জনমত সংগ্রহের পাশাপাশি ভবিষ্যৎ প্রশাসনিক পদক্ষেপের ভিত্তি প্রস্তুত করাও এই উদ্যোগের ঘোষিত উদ্দেশ্যের মধ্যে রয়েছে।
সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি প্রকাশ প্রভাকর নাওলেকরের নেতৃত্বে গত ২৬ মে ছয় সদস্যের কমিটি গঠিত হয়। এর আগে, ২০২৫ সালের স্বাধীনতা দিবসের ভাষণে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী জনবিন্যাস সংক্রান্ত একটি উচ্চপর্যায়ের উদ্যোগের কথা ঘোষণা করেছিলেন। কমিটির দায়িত্ব দেশের বিভিন্ন অংশে পরিবর্তনের প্রকৃতি, কারণ ও ফলাফল খতিয়ে দেখে নীতিগত, আইনগত এবং প্রশাসনিক সুপারিশ করা।
এর আগে রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলির কাছ থেকে বিস্তারিত প্রশ্নমালার মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহের পরিকল্পনা জানানো হয়েছিল। পশ্চিমবঙ্গ, অসম, মণিপুর, মিজোরাম, ত্রিপুরা-সহ বিভিন্ন রাজ্যের সীমান্ত এলাকা, বড় শহর এবং শিল্পনগরী পরিদর্শনের কথাও উঠে আসে। সংশ্লিষ্ট রাজ্যের মুখ্যসচিব, পুলিশের শীর্ষকর্তা এবং অন্যান্য দপ্তরের বক্তব্য নিয়ে সরেজমিন আলোচনাকে আরও কার্যকর করার পরিকল্পনা ছিল কমিটির।
কমিটি বিভিন্ন মন্ত্রক, রাজ্য সরকার, সরকারি কর্তৃপক্ষ এবং ব্যক্তির কাছ থেকেও নথি চাইতে পারে। বিশেষজ্ঞ, নিরাপত্তা সংস্থা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সামাজিক সংগঠনের সঙ্গে আলোচনার ব্যবস্থাও রয়েছে। সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, জনসংখ্যার পরিবর্তন পর্যবেক্ষণ এবং কেন্দ্র ও রাজ্যের সমন্বয় উন্নত করার বিষয়ও সুপারিশে স্থান পাওয়ার কথা। গঠনের এক বছরের মধ্যে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে কমিটিকে।