বাংলাস্ফিয়ারঃ মার্কিন বিদেশমন্ত্রীর এই সফর আমেরিকার জ্বালানি-কৌশলে রিলায়েন্সের ক্রমবর্ধমান গুরুত্বের ইঙ্গিত দিচ্ছে। বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে টেক্সাসে একটি নতুন তেল শোধনাগার প্রকল্পে সংস্থাটির প্রস্তাবিত বিনিয়োগের। এমন সময়ে এই সফর হচ্ছে, যখন ভারত ও আমেরিকা একটি বাণিজ্যচুক্তি নিয়ে আলোচনা চালাচ্ছে।

ছয় মাসের মধ্যে দ্বিতীয় বার ভারতে আসছেন মার্কিন বিদেশমন্ত্রী মার্কো রুবিয়ো। দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের একটি সংবেদনশীল পর্বে এই সফর তাৎপর্যপূর্ণ। ওয়াশিংটন ও নয়াদিল্লি একটি বাণিজ্যচুক্তি চূড়ান্ত করার চেষ্টা করছে। অথচ শুল্ক এবং ভারতের বিপুল পরিমাণ রুশ তেল আমদানি নিয়ে মতপার্থক্য এখনও দু’দেশের সম্পর্কে টানাপড়েনের কারণ। গত সপ্তাহে ভারতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিয়ো গোর বলেছিলেন, মে মাসের সফরের তুলনায় রুবিয়োর অক্টোবরের ভারত সফরে “ব্যবসা-বাণিজ্যের দিকে একটু বেশি নজর” থাকবে।

টেক্সাসের শোধনাগার প্রকল্পে রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের (আরআইএল) অংশগ্রহণের পাশাপাশি বিশ্ব তেল পরিশোধন শিল্পে সংস্থাটির গুরুত্বও তুলে ধরেছিলেন গোর। রিলায়েন্স ভারতের বৃহত্তম পরিশোধিত পেট্রোলিয়াম পণ্য রফতানিকারক। জামনগরে তাদের দু’টি শোধনাগারের মধ্যে একটি রফতানিমুখী ইউনিট। রুবিয়োর জামনগর সফর থেকে মনে হচ্ছে, ভারতের তেল পরিশোধন শিল্প এবং এই ক্ষেত্রের বৃহত্তম বেসরকারি সংস্থাকে বিশ্ব জ্বালানিবাজারের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে দেখছে ওয়াশিংটন। তবে জামনগর সফরের বিস্তারিত আলোচ্যসূচি আমেরিকা প্রকাশ করেনি। প্রস্তাবিত সফর নিয়ে রিলায়েন্স কোনও মন্তব্য করেনি।

রুবিয়োর সফর নিয়ে গত সপ্তাহে প্রকাশিত একটি বিবৃতিতে মার্কিন বিদেশ দফতর জানিয়েছিল, জ্বালানি ক্ষেত্রে সহযোগিতা, বাণিজ্যিক বিনিয়োগ এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা সফরের আলোচ্য বিষয়গুলির মধ্যে রয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, “ভারত-আমেরিকা কৌশলগত অংশীদারত্ব আরও শক্তিশালী করতে, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি নিয়ে মতবিনিময় করতে এবং জ্বালানি ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করতে তিনি সরকারের উচ্চপদস্থ প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। বাণিজ্যিক বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার সুযোগ বাড়াতে বিদেশমন্ত্রী রুবিয়ো শিল্পপতিদের সঙ্গেও দেখা করবেন।”

তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে, রিলায়েন্সের জামনগর শোধনাগারে রুবিয়োর সফরের কয়েক দিন আগেই ইলন মাস্ক অভিযোগ করেছিলেন, ভারতের বাজারে নিজেদের “একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ” বজায় রাখতে “কিছু প্রভাবশালী ধনকুবের” ইচ্ছাকৃত ভাবে স্টারলিঙ্কের লাইসেন্স অনুমোদন আটকে দিচ্ছেন।

ট্রাম্প প্রশাসনের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত মাস্ক এই প্রশ্নে আম্বানীকে নিশানা করেছিলেন। এক্স-এ একটি পোস্টে তিনি প্রশ্ন তোলেন, “আম্বানীই কি ভারতের আসল কর্তা?” পরে অবশ্য রিলায়েন্সের জবাবের পর মাস্ক এক্স-এ লেখেন, “অত্যন্ত প্রশংসনীয়।” রিলায়েন্স জানিয়েছিল, উপগ্রহ যোগাযোগের ক্ষেত্রে স্টারলিঙ্ক-সহ প্রতিযোগিতাকে তারা স্বাগত জানায়। একই সঙ্গে সংস্থাটি উল্লেখ করে, রিলায়েন্স জিয়োর নিজস্ব উপগ্রহ পরিষেবাও সরকারি ছাড়পত্রের অপেক্ষায় রয়েছে।

টেক্সাসের শোধনাগারে রিলায়েন্সের অংশীদারত্ব

আলোচনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হতে পারে টেক্সাসের ব্রাউনসভিলে প্রস্তাবিত একটি শোধনাগার প্রকল্পে রিলায়েন্সের অংশগ্রহণ। জামনগর সফর রুবিয়োকে ওই প্রকল্পের অগ্রগতি, বৃহত্তর বিনিয়োগ-সম্পর্ক এবং মার্কিন জ্বালানি সংস্থাগুলির সঙ্গে রিলায়েন্সের সহযোগিতা আরও বাড়ানোর সুযোগ নিয়ে কথা বলার অবকাশ দেবে।

মার্চ মাসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ওই শোধনাগার নির্মাণের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছিলেন। প্রকল্পটি গড়ে তুলবে ‘আমেরিকা ফার্স্ট রিফাইনিং’। এই প্রকল্পে “বিপুল বিনিয়োগের” জন্য রিলায়েন্সকে ধন্যবাদ জানিয়েছিলেন ট্রাম্প। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, পাঁচ দশকে আমেরিকার প্রথম নতুন শোধনাগার হিসেবে ব্রাউনসভিলের এই প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত চুক্তির মূল্য ৩০০ বিলিয়ন ডলার।

এই ৩০০ বিলিয়ন ডলার সম্ভবত পাঁচ বছরে শোধনাগারটিতে যে অপরিশোধিত তেল প্রক্রিয়াকরণ করা হবে এবং যে জ্বালানি উৎপাদিত হবে, তার মোট মূল্য। আমেরিকা ফার্স্ট রিফাইনিংয়ের বক্তব্য অনুযায়ী, বছরে ৬ কোটি ব্যারেল তেল পরিশোধনের ক্ষমতাসম্পন্ন শোধনাগারটি আনুমানিক ১২৫ বিলিয়ন ডলার মূল্যের ১২০ কোটি ব্যারেল মার্কিন হালকা শেল তেল কিনবে ও প্রক্রিয়াকরণ করবে। সেখানে উৎপাদিত হবে ১৭৫ বিলিয়ন ডলার মূল্যের ৫ হাজার কোটি গ্যালন পরিশোধিত পণ্য। এই প্রকল্প আমেরিকার জ্বালানি পরিকাঠামোয় বিদেশি বিনিয়োগের সাফল্য তুলে ধরার সুযোগ দেবে ওয়াশিংটনকে। অন্য দিকে, বিশ্বের বৃহত্তম তেল-উপভোক্তা অর্থনীতিতে রিলায়েন্স একটি কৌশলগত অবস্থান তৈরি করতে পারে।

বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহে জামনগরের গুরুত্ব

জ্বালানি সরবরাহের দিক থেকে জামনগর কমপ্লেক্স একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎপাদনকেন্দ্র। এর বার্ষিক তেল পরিশোধন ক্ষমতা ৬ কোটি ৮২ লক্ষ টন। এর মধ্যে ৩ কোটি ৫২ লক্ষ টন ক্ষমতা রফতানির জন্য নির্দিষ্ট। ডিজেল ও বিমান জ্বালানির মতো পেট্রোলিয়ামজাত জ্বালানির ক্ষেত্রে রিলায়্যান্স ভারতের বৃহত্তম রফতানিকারক। বিশ্ববাজারে অন্য কোনও অঞ্চলের সরবরাহ ব্যাহত হলে ঘাটতি সামাল দিতে পারে—এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহকারী হিসেবেও সংস্থাটিকে দেখা হয়। পশ্চিম এশিয়া ও রাশিয়াকে ঘিরে বর্তমানে এমন সরবরাহ-বিঘ্নই দেখা দিয়েছে।

কয়েক সপ্তাহের মধ্যে আমেরিকার মধ্যবর্তী নির্বাচন। তার আগে জ্বালানির দাম এবং পেট্রোলিয়াম পণ্যের, বিশেষত ডিজেলের, জোগান নিয়ে চাপে রয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা জ্বালানি সরবরাহে ব্যাঘাত ঘটাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে ভারতের তেল পরিশোধন ক্ষমতা এবং বৃহৎ জ্বালানি রফতানিকারক হিসেবে রিলায়েন্সের অবস্থান ওয়াশিংটনের কাছে কৌশলগত গুরুত্ব পেতে পারে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, বিশ্ববাজারে এবং আমেরিকার পেট্রল পাম্পে লাগামছাড়া দাম নিয়ন্ত্রণে আনতে ট্রাম্প রাশিয়ার ডিজেল রফতানির উপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞাও শিথিল করেছেন। এর আওতায় আমেরিকায় রুশ ডিজেল রফতানিও রয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দু’দেশের জ্বালানি বাণিজ্য জোরদার করতে রিলায়েন্স এবং অন্য ভারতীয় শোধনাগারগুলি আরও কী ভূমিকা নিতে পারে, এই সফরে তা খতিয়ে দেখতে পারেন রুবিয়ো। তবে আমেরিকার জন্য ডিজেলের চালান নিশ্চিত করাও জামনগর সফরের অন্যতম উদ্দেশ্য—এমন কোনও নিশ্চিত ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি। কূটনৈতিক ও ভূরাজনৈতিক বিবেচনার বাইরেও জ্বালানি রফতানির সিদ্ধান্ত নির্ভর করে নানা বাণিজ্যিক বিষয়ের উপর। এর মধ্যে রয়েছে তেল পরিশোধনে লাভের হার, জাহাজে পরিবহণের খরচ, পণ্যের নির্ধারিত মান, বাজারদর এবং অন্যান্য রফতানি বাজারের তুলনামূলক আকর্ষণ।

রুশ তেলের প্রশ্ন

রাশিয়ার জ্বালানির উপর নিষেধাজ্ঞা নিয়ে মার্কিন অবস্থানে পরিবর্তনের পটভূমিতেও রুবিয়োর এই সফর হচ্ছে। গত মাসে ট্রাম্প এমন একটি আইনে সই করেছিলেন, যা তাঁকে ভারত-সহ রাশিয়ার জ্বালানির বড় ক্রেতা দেশগুলির উপর সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ক্ষমতা দেয়। কিন্তু সেই আইনের বিধান কার্যকর হওয়ার মাত্র কয়েক দিন আগে, গত সপ্তাহে, তিনি তা প্রয়োগের ক্ষেত্রে ছাড় দেন। ভারতে রুশ তেলের অন্যতম বড় ক্রেতা রিলায়েন্স।

ওয়াশিংটন ও নয়াদিল্লি যখন তাদের বৃহত্তর অর্থনৈতিক সম্পর্ক এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে, তখন রুশ তেলের বিষয়টি বিশেষ সংবেদনশীল হয়ে উঠেছে। সোমবার উজবেকিস্তানে রুবিয়ো নিজেই বলেন, রাশিয়ার বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞা আইন কার্যকর করা থেকে ছাড় দেওয়ার সিদ্ধান্তে প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছে যাওয়া ভারত-আমেরিকা বাণিজ্যচুক্তির বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। জামনগর সফর ভারতীয় শোধনাগারগুলির বাণিজ্যিক বাস্তবতা, বিশেষ করে রুশ তেল আমদানির বিষয়টি নিয়ে আরও আলোচনার সুযোগ তৈরি করতে পারে।

ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই রাশিয়া থেকে ভারতের তেল আমদানি দ্রুত বাড়তে থাকে। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়া ইউক্রেন আক্রমণ করার পর পশ্চিমের অধিকাংশ দেশ রুশ অপরিশোধিত তেল কেনা থেকে সরে যায়। তখন আগ্রহী ক্রেতাদের ছাড় দিয়ে তেল বিক্রি শুরু করে মস্কো। ভারতীয় শোধনাগারগুলি দ্রুত সেই সুযোগ নেয়। এর ফলে ভারতের তেল সরবরাহে আগে প্রান্তিক অবস্থানে থাকা রাশিয়া, পশ্চিম এশিয়ার দীর্ঘদিনের প্রধান সরবরাহকারীদের পিছনে ফেলে, ভারতের বৃহত্তম অপরিশোধিত তেল সরবরাহকারী হয়ে ওঠে।

জ্বালানি রফতানি থেকে মস্কোর আয় ওয়াশিংটনের কাছে উদ্বেগের বিষয়। এক বছরেরও বেশি সময় ধরে ট্রাম্প প্রশাসন নয়াদিল্লিকে রুশ অপরিশোধিত তেল থেকে সরে আসতে বাধ্য করার চেষ্টা করছে। গত বছর অতিরিক্ত শাস্তিমূলক শুল্ক আরোপও ছিল সেই চাপের অঙ্গ। মার্কিন প্রশাসনের যুক্তি, রাশিয়ার তেল কিনে ভারত আসলে ইউক্রেনে রাশিয়ার যুদ্ধের খরচ জোগাচ্ছে।

ভারতের কাছে অপরিশোধিত তেল কেনার বিষয়টি মূলত জ্বালানি নিরাপত্তা, সাশ্রয়ী দাম এবং তেল পরিশোধন শিল্পের চাহিদার সঙ্গে যুক্ত। অপরিশোধিত তেলের মোট প্রয়োজনের ৮৮ শতাংশেরও বেশি মেটাতে দেশটি আমদানির উপর নির্ভরশীল। ভারতের পণ্য আমদানির খরচের বড় অংশই যায় জ্বালানি আমদানিতে, যার গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব পড়ে অর্থনীতিতে।

রিলায়েন্স ও ভারতের জন্য আরও মার্কিন ও ভেনেজুয়েলার তেল

শিল্পক্ষেত্রের বিশ্লেষকদের মতে, ভারত এবং বিশেষ করে রিলায়েন্সের মার্কিন জ্বালানি কেনা আরও বাড়ানোর সম্ভাবনাও আলোচনায় আসতে পারে। আমেরিকা ইতিমধ্যেই ভারতে অপরিশোধিত তেল, তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) এবং তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) অন্যতম বড় সরবরাহকারী। ভারতের বাজারে জ্বালানি রফতানি বাড়লে ওয়াশিংটনের বাণিজ্যিক স্বার্থ পূরণ হবে।

ট্রাম্প প্রশাসন একাধিক বার প্রকাশ্যে জানিয়েছে, তারা চায় ভারত আরও বেশি মার্কিন জ্বালানি কিনুক। বিশেষ করে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যে ভারসাম্য আনা এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা গভীর করার উপায় হিসেবে এই জ্বালানি কেনাকে দেখছে ওয়াশিংটন।

রিলায়েন্সের বিশাল শোধনাগার কমপ্লেক্স মার্কিন তেল-সহ বিভিন্ন ধরনের অপরিশোধিত তেল ব্যবহারের সম্ভাবনা যাচাই করার উপযুক্ত অবস্থানে রয়েছে। ভারতের বৃহত্তম বেসরকারি তেল পরিশোধনকারী হিসেবে সংস্থাটি আমেরিকা থেকে তেল আমদানি বাড়ালে, ভারতের মোট তেল আমদানিতে মার্কিন অংশীদারিত্বও বাড়তে পারে। রাশিয়া, ইরাক, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরশাহির পরে আমেরিকা বর্তমানে ভারতের পঞ্চম বৃহত্তম অপরিশোধিত তেল সরবরাহকারী। জয়শঙ্করের সঙ্গে রুবিয়োর আলোচনায় জ্বালানি সহযোগিতা উঠে আসার কথা। জামনগরে রিলায়েন্সকে কেন্দ্র করে আলোচনা সেই সরকারি স্তরের কথাবার্তাকে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে।

এই প্রেক্ষাপটে ভেনেজুয়েলার অপরিশোধিত তেলও আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হতে পারে। আমেরিকা চায় ভেনেজুয়েলার তেল সরবরাহ বাড়ুক। কারণ, ভেনেজুয়েলার তেল বিক্রি থেকে আয় করার ব্যবস্থার উপর এখন কার্যত ওয়াশিংটনের নিয়ন্ত্রণ রয়েছে এবং সরবরাহ বাড়লে আমেরিকা লাভবান হবে। আমেরিকার বাইরে ভেনেজুয়েলার অপরিশোধিত তেলের অন্যতম বড় ক্রেতা ইতিমধ্যেই রিলায়েন্স। ভারতে ভেনেজুয়েলার তেল সরবরাহ আরও বাড়ানোর ক্ষেত্রেও সংস্থাটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে বলে মনে করা হচ্ছে। রিলায়েন্সের শোধনাগারগুলিতে জটিল ধরনের তেল পরিশোধনের অত্যন্ত উন্নত সক্ষমতা রয়েছে। ফলে ভেনেজুয়েলার মতো দেশের ভারী অপরিশোধিত তেল প্রক্রিয়াকরণের জন্য সেগুলি বিশেষ উপযোগী।