বাংলাস্ফিয়ারঃ ‘ভোট চুরি’র অভিযোগ তুলে এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণের দাবিতে বুধবার অশোকা রোডে অবস্থান-বিক্ষোভ করেন বিরোধী ‘ইন্ডিয়া’ জোটের সাংসদেরা। তার আগের দিন নির্বাচন কমিশনারদের সঙ্গে দেখা করার দাবিতে আট ঘণ্টা ধর্নায় বসেছিলেন তাঁরা। এই পরিস্থিতিতে জ্ঞানেশ কুমারকে চিঠি লিখে বিরোধী সাংসদদের সঙ্গে দেখা করা এবং তাঁদের উত্থাপিত উদ্বেগগুলির সুরাহা করার আর্জি জানিয়েছেন অভিনেতা ও সাংসদ কমল হাসান।
এক্সে প্রকাশিত চিঠির বিষয় হিসেবে কমল লিখেছেন, ‘ভারতের নির্বাচন কমিশনের প্রতি জনসাধারণের আস্থা ফিরিয়ে আনার আবেদন’।
চিঠির শুরুতে তিনি লিখেছেন, “ভোটাধিকার আমাদের গণতন্ত্রের অন্যতম মৌলিক প্রকাশ। এই অধিকার সুরক্ষিত রাখার দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে ভারতের নির্বাচন কমিশন আমাদের প্রজাতন্ত্রে এক অনন্য পবিত্র স্থান অধিকার করে রয়েছে।”
তিনি আরও লিখেছেন, “কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলিতে একের পর এক ঘটনাপ্রবাহ দেশের নাগরিকদের মধ্যে এই ধারণা ক্রমশ জোরদার করেছে যে, আমাদের নির্বাচনী প্রক্রিয়ার সততা চাপের মুখে রয়েছে। ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর তড়িঘড়ি এবং কিছু ক্ষেত্রে ভুলভাবে কার্যকর করা নিয়ে উদ্বেগ উঠেছে। এর ফলে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে… ভোটার তালিকা সুরক্ষিত রাখার প্রক্রিয়া কখনওই ভোটাধিকার প্রয়োগের পথে বাধা হয়ে উঠতে পারে না।”
সংসদ চত্বরে বিরোধী সাংসদদের সঙ্গে দেখা করার জন্য জ্ঞানেশ কুমারকে অনুরোধ জানিয়ে চিঠির শেষে কমল হাসান লিখেছেন, “এটি কোনও একটি রাজনৈতিক দলের হয়ে জানানো অনুরোধ নয়। বৃহত্তর জাতীয় স্বার্থে এই আবেদন। গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলির প্রতি আস্থা জোরদার করা যখন জরুরি, তখন তর্কে অনড় থাকার চেয়ে আলোচনার দরজা খুলে দেওয়া অনেক বেশি শক্তিশালী পদক্ষেপ হতে পারে।”
বিরোধীদের অভিযোগ, ভোটার তালিকা সংশোধনের এই প্রক্রিয়ায় যোগ্য ভোটারদের নামও বাদ পড়তে পারে। অন্যদিকে, নির্বাচন কমিশনের বক্তব্য, নির্ভুল ও হালনাগাদ ভোটার তালিকা নিশ্চিত করাই এই উদ্যোগের উদ্দেশ্য।
মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে চলতে থাকা বিক্ষোভের মধ্যেই বুধবার লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী বলেন, “সংবিধান ও গণতন্ত্রকে বাঁচাতে” কংগ্রেস এবং ‘ইন্ডিয়া’ জোট রাস্তায় নেমে আন্দোলন চালিয়ে যাবে। গ্রেফতার ও মামলার মুখোমুখি হতেও তারা প্রস্তুত।
জ্ঞানেশ কুমার পদত্যাগ না করা পর্যন্ত বিরোধীদের আন্দোলন চলবে বলেও জানান রাহুল। তাঁর কথায়, “জ্ঞানেশ কুমার পদত্যাগ না করা পর্যন্ত আমরা প্রতিবাদ থামাব না। দেশের সবচেয়ে পবিত্র বিষয়টিকে রক্ষা করার লড়াই এটি। নরেন্দ্র মোদী এবং অমিত শাহ এমন কিছুই করতে পারবেন না, যা আমাদের থামিয়ে দেবে।”