বাংলাস্ফিয়ার: একাধিক ছাত্রীকে যৌন হেনস্থার অভিযোগে বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ কমিটির তদন্তের পর অধ্যাপক তথা কংগ্রেস সাংসদ অঙ্গোমচা বিমল আকোইজামকে শুক্রবার চাকরি থেকে বরখাস্ত করল জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয় (জেএনইউ)।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকারি নির্দেশে জানানো হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) নির্ধারিত চাকরিবিধি এবং কেন্দ্রীয় সিভিল সার্ভিসেস (শ্রেণিবিন্যাস, নিয়ন্ত্রণ ও আপিল) বিধি অনুসারে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
জেএনইউয়ের উপাচার্য শান্তিশ্রী ডি পণ্ডিতের স্বাক্ষরিত নির্দেশে বলা হয়েছে, “যৌন হেনস্থার অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে অধ্যাপক অঙ্গোমচা বিমল আকোইজামের বিরুদ্ধে অভ্যন্তরীণ কমিটি (আইসি) তদন্ত চালায়। তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আইসি গুরুদণ্ডের সুপারিশ করে… যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ এবং প্রাপ্ত সমস্ত তথ্য বিবেচনা করে সংশ্লিষ্ট অধ্যাপককে অবিলম্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের চাকরি থেকে বরখাস্ত করার শাস্তি দেওয়া হল।”
এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া চেয়ে যোগাযোগ করলেও আকোইজাম সাড়া দেননি। তবে সংবাদসংস্থাকে তিনি বলেছেন, তাঁর বিরুদ্ধে চলা “উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হেনস্থার স্বরূপ প্রকাশের ক্ষেত্রে” এই বরখাস্তের সিদ্ধান্ত “শাপে বর” হয়েছে।
তিনি বলেন, “আমি চাই, এই মানুষগুলো মুখোশ খুলে সামনে আসুন। যদি তা সত্যি হয়, আমার লুকোনোর কিছু নেই।”
আকোইজাম আরও বলেন, “আমার কাছে তদন্তের রিপোর্ট বা বরখাস্তের নির্দেশ—কোনওটিই নেই। কোনও অভিযোগ থাকলে আমাকে তা দেখানো হোক… তবেই বোঝা যাবে, কী ভাবে এই উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হেনস্থা চলছে।”
গত ৬ সেপ্টেম্বর সংবাদ মাধ্যমে বিষয়টি সম্পর্কে ঘনিষ্ঠভাবে অবহিত এক ব্যক্তিকে উদ্ধৃত করে জানিয়েছিল, চলতি বছরের মে মাসে বিশ্ববিদ্যালয়ের ১১ জন পড়ুয়া ওই অধ্যাপকের বিরুদ্ধে “যৌন অসদাচরণের” অভিযোগ করেন। সেই মাসেই অভিযোগগুলি খতিয়ে দেখতে বিশ্ববিদ্যালয় একটি অভ্যন্তরীণ অভিযোগ কমিটি গঠন করে।
অভিযোগ অনুযায়ী, মে মাসের প্রথম সপ্তাহে মৌখিক পরীক্ষা চলাকালীন অধ্যাপক যৌন ইঙ্গিতপূর্ণ আপত্তিকর মন্তব্য করেছিলেন।
এক ছাত্রী পড়ুয়াদের একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে নিজের অভিজ্ঞতার কথা জানানোর পর আরও কয়েক জন তাঁদের সঙ্গে ঘটে যাওয়া কথিত ঘটনার কথা প্রকাশ্যে আনেন। বিষয়টি সম্পর্কে অবহিত এক ব্যক্তি বলেন, “অভিযোগ, তিনি এমন মন্তব্য করেছিলেন, যার অর্থ ছিল—ছাত্রীরা তাঁর যৌন প্রস্তাবে সাড়া দিলে তিনি তাঁদের অতিরিক্ত নম্বর দেবেন।”
এর পর আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জমা পড়ে। পরবর্তী সময়ে কয়েক জন পড়ুয়াকে তাঁদের বয়ান দেওয়ার জন্য ডাকা হয়।
আকোইজাম জেএনইউয়ের স্কুল অব সোশ্যাল সায়েন্সেসে অধ্যাপনা করেছেন। পাশাপাশি তিনি মণিপুরের ইনার মণিপুর লোকসভা কেন্দ্রের কংগ্রেস সাংসদ।
বরখাস্তের নির্দেশের প্রতিক্রিয়ায় বিজেপি নেত্রী স্মৃতি ইরানি প্রশ্ন তোলেন, জেএনইউয়ের ছাত্রীদের অভিযোগ এবং অভ্যন্তরীণ তদন্তের খবর সামনে আসার পরেও কংগ্রেস কেন তাদের মণিপুরের সাংসদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়নি।
নয়াদিল্লিতে এক সাংবাদিক বৈঠকে ইরানি বলেন, “কংগ্রেস পিতৃতন্ত্র ভেঙে দেওয়ার কথা বলে। অথচ যৌন হেনস্থার অভিযোগের মুখে থাকা নিজেদের সাংসদের বিরুদ্ধেই কোনও ব্যবস্থা নিচ্ছে না।”
বিশ্ববিদ্যালয়ের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদের (এবিভিপি) জেএনইউ শাখার সভাপতি ময়ঙ্ক পাঞ্চাল। তিনি বলেন, “কংগ্রেসের লোকসভা সাংসদ তথা জেএনইউয়ের অধ্যাপকের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এই পদক্ষেপ ছাত্রীদের জন্য এবিভিপির ধারাবাহিক আন্দোলনের দাবিপূরণের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। ছাত্রীদের অভিযোগ এবং তাঁদের নিরাপত্তার প্রশ্নে জবাবদিহি নিশ্চিত করার ক্ষেত্রেও এটি গুরুত্বপূর্ণ। এবিভিপির দাবি, ছাত্রীরা যেন প্রকৃত বিচার পান এবং আইন অনুযায়ী পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া চালানো হয়।”