বাংলাস্ফিয়ার: নির্বাচন কমিশনের এক আধিকারিকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন জানিয়ে গত ২৯ জুলাই ক্যাবিনেট সচিব টি ভি সোমনাথনকে চিঠি দিয়েছিলেন দুই নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু এবং বিবেক জোশী। সেই চিঠি দু’টির প্রাপ্তিস্বীকার করার সিদ্ধান্ত নেয় ক্যাবিনেট সচিবালয়। তবে সচিবালয়ের অভ্যন্তরীণ নথি অনুযায়ী, এই বিষয়ে কোনও ব্যবস্থা নেওয়া ‘অনুচিত’ হতে পারে এবং তা ‘সাংবিধানিক সংস্থার কাজে হস্তক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত’ হতে পারে বলে মত দেওয়া হয়।
দুই নির্বাচন কমিশনার তাঁদের চিঠিতে জানিয়েছিলেন, প্রশাসনের দায়িত্বপ্রাপ্ত ডেপুটি নির্বাচন কমিশনার ভানুপ্রকাশ ইয়েতুরু ২৭ জুলাই থেকে ৯ অগস্ট পর্যন্ত ছুটিতে থাকায় প্রশাসন বিভাগের অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল সিনিয়র ডেপুটি নির্বাচন কমিশনার মণীশ গর্গকে। তাঁদের অভিযোগ, দায়িত্ব নেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই, ২৮ জুলাই, কাজ বণ্টনের একটি নির্দেশ জারি করেন গর্গ।
সান্ধু লিখেছিলেন, কাজের এই সংশোধিত বণ্টন সম্পর্কে ‘কমিশন বা নিম্নস্বাক্ষরকারীর সঙ্গে আলোচনা না করেই, কিংবা তাঁদের না জানিয়েই’ ওই নির্দেশ জারি করা হয়েছিল। পৃথক কিন্তু একই ধরনের একটি চিঠিতে জোশী জানান, তিনি ‘প্রশাসন বিভাগের কাছে সংশ্লিষ্ট ফাইলটি চাইলেও তা দেওয়া হয়নি’।
ক্যাবিনেট সচিবালয়ের ফাইলের নোট থেকে জানা যাচ্ছে, বিষয়টি নিয়ে ৩ ও ৪ অগস্ট অভ্যন্তরীণ আলোচনা হয়। তার পরে ৫ অগস্ট দুই নির্বাচন কমিশনারকে চিঠি লিখে তাঁদের চিঠির প্রাপ্তিস্বীকার করেন ক্যাবিনেট সচিব। সেই চিঠির অনুলিপি প্রধান নির্বাচন কমিশনারের দফতর এবং কর্মিবর্গ ও প্রশিক্ষণ দফতরেও পাঠানো হয়।
৩ অগস্টের নোটে বলা হয়, ‘উভয় নির্বাচন কমিশনার জানিয়েছেন, ডেপুটি নির্বাচন কমিশনারের (প্রশাসন) বিকল্প দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিক হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পরে শ্রী গর্গ কমিশন বা সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের সঙ্গে আলোচনা ছাড়াই নিজের সমপদস্থ এবং নিজের চেয়ে উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের কাজ বণ্টনের নির্দেশ জারি করেছেন। উল্লিখিত নির্বাচন কমিশনারেরা আরও জানিয়েছেন, কমিশনের সঙ্গে আগাম আলোচনা বা তার অনুমোদন ছাড়া এমন পদক্ষেপ না করার জন্য সংশ্লিষ্ট সব আধিকারিককে বারবার মৌখিক ও লিখিত নির্দেশ দেওয়া সত্ত্বেও এই ঘটনা ঘটেছে। এই বিষয়ে আমরা প্রধান নির্বাচন কমিশনারের মতামত চাইতে পারি। সেই অনুযায়ী অনুমোদনের জন্য একটি খসড়া অর্ধসরকারি চিঠি পেশ করা হল।’
এই নোটে প্রশাসনিক স্তরক্রমে বিভিন্ন আধিকারিক থেকে ক্যাবিনেট সচিব পর্যন্ত স্বাক্ষর করেন।
পরের দিন আর একটি নোটে বিষয়টির সারসংক্ষেপ তুলে ধরে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং কর্মিবর্গ ও প্রশিক্ষণ দফতরের নজরে আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ৪ অগস্ট ক্যাবিনেট সচিবালয় উল্লেখ করে, বিষয়টি এমন এক আধিকারিকের আচরণ সংক্রান্ত, যাঁকে মন্ত্রিসভার নিয়োগ কমিটি নির্বাচন কমিশনে নিয়োগ করেছে। সচিবালয় আরও জানায়, নির্বাচন কমিশন একটি বহু সদস্যবিশিষ্ট সাংবিধানিক সংস্থা। আইন অনুযায়ী, যত দূর সম্ভব সর্বসম্মতির ভিত্তিতে অথবা সংখ্যাগরিষ্ঠের মত অনুযায়ী তার কাজ পরিচালিত হওয়ার কথা।
ক্যাবিনেট সচিবালয়ের নোটে বলা হয়, ‘কমিশন একটি সাংবিধানিক সংস্থা। এটি যাতে স্বাধীন ও স্বচ্ছভাবে কাজ করতে পারে, তা নিশ্চিত করতেই এর কাঠামো এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে, যাতে নির্বাহী বিভাগের হস্তক্ষেপ থেকে এটি সুরক্ষিত থাকে… উপরোক্ত চিঠিগুলি নির্বাচন কমিশনারেরা ব্যক্তিগতভাবে পাঠিয়েছেন। সেগুলিকে অবশ্যই যথাযথ গুরুত্ব দিতে হবে। তবে সেগুলিকে সামগ্রিকভাবে কমিশনের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য হিসেবে গণ্য করা যায় না।’
সচিবালয় জানায়, হিমাচলপ্রদেশ ক্যাডারের আইএএস আধিকারিক গর্গকে মন্ত্রিসভার নিয়োগ কমিটি নিয়োগ করলেও তিনি বর্তমানে নির্বাচন কমিশনের আধিকারিক। ফলে তাঁর আচরণ নির্বাচন কমিশনের বিধি ও নির্দেশিকা অনুযায়ী নিয়ন্ত্রিত হওয়ার কথা।
৪ অগস্টের নোটে বলা হয়, ‘নির্বাচন কমিশনারেরা যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য এই চিঠিগুলি পাঠিয়েছেন। কিন্তু সামগ্রিকভাবে কমিশনের তরফে কোনও আনুষ্ঠানিক চিঠি না থাকায় এই পর্যায়ে কোনও ব্যবস্থা নেওয়া অনুচিত হতে পারে। তা সাংবিধানিক সংস্থার কাজে হস্তক্ষেপ হিসেবেও বিবেচিত হতে পারে। তাই উভয় নির্বাচন কমিশনারকে প্রাপ্তিস্বীকার পাঠানো এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে অবহিত করার জন্য তাঁর প্রধান ব্যক্তিগত সচিবের কাছে তার অনুলিপি পাঠানোই উপযুক্ত হবে।’
নোটে আরও বলা হয়, গর্গ যেহেতু সর্বভারতীয় পরিষেবার আধিকারিক, তাই বিষয়টি নথিভুক্ত করার জন্য কর্মিবর্গ ও প্রশিক্ষণ দফতরের সচিব এবং এস্টাবলিশমেন্ট অফিসারকেও জানানো উচিত। নোটের ভাষায়, ‘এর ফলে ভবিষ্যতে সংশ্লিষ্ট আধিকারিক সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময়ে বিষয়টি বিবেচনায় রাখা সম্ভব হবে।’
এর পর সোমনাথন পৃথক চিঠিতে দুই নির্বাচন কমিশনারের চিঠির প্রাপ্তিস্বীকার করেন। সেই প্রাপ্তিস্বীকারের অনুলিপি পাঠানো হয় কর্মিবর্গ ও প্রশিক্ষণ দফতরের সচিব, এস্টাবলিশমেন্ট অফিসার এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনারের প্রধান ব্যক্তিগত সচিবকে।
দুই নির্বাচন কমিশনারকে ক্যাবিনেট সচিব লেখেন, ‘কমিশনের সিনিয়র ডেপুটি নির্বাচন কমিশনার শ্রী মণীশ গর্গ, আইএএস (হিমাচলপ্রদেশ ক্যাডার, ১৯৯৬ ব্যাচ)-এর কাজকর্ম সম্পর্কে আপনার ২৯ জুলাই, ২০২৬ তারিখের অর্ধসরকারি চিঠিটি পাওয়ার কথা জানাচ্ছি।’