বাংলাস্ফিয়ার: কর্মকর্তাদের বক্তব্য, শনিবারের মতো বিপুল নিরাপত্তার আয়োজন আগামী দিনগুলিতে চালিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। বিক্ষোভকারীদের ২৪ ঘণ্টার বেশি আটক রাখাও আইনসম্মত হবে না।

বিপুল নিরাপত্তাবাহিনী মোতায়েন করে শনিবার, ১০ অক্টোবর প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে আসা বিক্ষোভকারীদের যন্তর মন্তরে জমায়েত হওয়া আটকাতে পেরেছে কেন্দ্রীয় সরকার। কিন্তু আগামী কয়েক দিনে মূলত ‘নেতৃত্বহীন’ এই জনতা যাতে ফের সংগঠিত হয়ে জমায়েত করতে না পারে, তা নিশ্চিত করাই এখন সরকারের সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে।

কর্মকর্তাদের দাবি, দিল্লিতে বিধিনিষেধ নিয়ে শুক্রবার, ৯ অক্টোবর সুপ্রিম কোর্টে শুনানির পরে সরকার ককরোচ জনতা পার্টি বা সিজেপির আয়োজকদের বিকল্প বিক্ষোভস্থল হিসেবে রামলীলা ময়দানের প্রস্তাব দেওয়ার কথা ভেবেছিল। তবে তাঁদের বক্তব্য, সিজেপি কিংবা আন্দোলনে অংশ নেওয়া বাম যুব সংগঠনগুলির কেউই এমন কোনও অনুরোধ জানায়নি।

শনিবারের বিক্ষোভের জন্য র‌্যাপিড অ্যাকশন ফোর্সের বা আরএএফের দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণের সরঞ্জাম থেকে পেলেট বন্দুক সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। গত ২০ জুলাই কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ চলাকালীন এই ছররা বন্দুকের গুলিতে অন্তত চার জন আহত হয়েছিলেন। তাঁদের মধ্যে এক জনের একটি চোখের দৃষ্টিশক্তি নষ্ট হয়। তবে শনিবার সীমান্তরক্ষী বাহিনী বা বিএসএফের কয়েক জন সদস্যের হাতে সাবমেশিনগান দেখা গিয়েছে।

শনিবার যে বিপুল মাত্রায় নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছিল, আগামী দিনগুলিতেও একই আয়োজন করা সম্ভব হবে না। বিক্ষোভকারীদের ২৪ ঘণ্টার বেশি আটক রাখাও আইনসম্মত হবে না বলে তাঁরা জানিয়েছেন।

দেশের অন্যতম ব্যস্ত বাণিজ্যিক এলাকা কনট প্লেস শনিবার পুলিশের অনুরোধে বন্ধ রাখা হয়েছিল। কর্মকর্তাদের বক্তব্য, এই এলাকা অনির্দিষ্টকাল অবরুদ্ধ করে রাখা যায় না। যন্তর মন্তরের দিকে যাওয়ার প্রতিটি সংযোগকারী রাস্তা ব্যারিকেড দিয়ে বন্ধ করা হয়েছিল। প্রতিটি জায়গায় মোতায়েন ছিলেন ২০ থেকে ৩০ জন সশস্ত্র পুলিশ ও নিরাপত্তাকর্মী।

এক কর্মকর্তার কথায়, “এত বিপুল পরিমাণ লোকবল ও সরঞ্জাম অনির্দিষ্টকাল পাওয়া যাবে না। দিনের পর দিন গোটা এলাকা অবরুদ্ধ করে রাখা অসম্ভব।”

কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আগামী কয়েক দিন ওই এলাকায় চোখে পড়ার মতো নিরাপত্তাবাহিনীর উপস্থিতি বজায় থাকতে পারে। তবে বিষয়টির রাজনৈতিক সমাধান প্রয়োজন। একে নিছক ‘আইনশৃঙ্খলার’ সমস্যা হিসেবে দেখা চলে না।

আর এক সরকারি কর্মকর্তা বলেন, “সিজেপির ডাকা ২০ জুলাইয়ের বিক্ষোভের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে এ বার বেশ কয়েকটি সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। জনতার একাংশ অরাজনৈতিক হলেও আম আদমি পার্টি এবং বাম সংগঠনগুলির উল্লেখযোগ্য সংখ্যক কর্মী সেখানে ছিলেন। হিংসা হতে পারে বলেও আশঙ্কা ছিল।”

ওই কর্মকর্তার বক্তব্য, প্রশাসনের সামনে তাৎক্ষণিক চ্যালেঞ্জগুলির অন্যতম হল এমন এক জনতা, যারা কোনও নেতা বা পরিচিত ব্যক্তিত্বের নেতৃত্ব দেওয়ার অপেক্ষায় নেই। শনিবার সকালে সিজেপি নেতা অভিজিৎ দীপকে, আশুতোষ রাঙ্কা ও সৌরভ দাসের এয়ার ইন্ডিয়ার বিমান দিল্লি বিমানবন্দরে নামামাত্রই তাঁদের আটক করে পুলিশ। কিন্তু ঘটনাস্থলে তার তেমন প্রভাব পড়েনি।

পশ্চিম দিল্লির পীতমপুরার আইনের ছাত্রী খুশবু শনিবার কনট প্লেসে পৌঁছতে মাইলের পর মাইল হেঁটেছেন। কখনও মেট্রো, কখনও অটোরিকশা, কখনও বাসে চড়েছেন।

তিনি বলেন, “আমাদের একজন নেতা থাকতেই হবে, এমন কোনও কথা নেই। আমরা জানি, কী উদ্দেশ্যে এখানে এসেছি। ব্রিটিশরাও মানুষকে জেলে পুরত। আপনারা, অর্থাৎ সরকার, যদি আমাদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন হন, তা হলে আমাদের নিরাপত্তা দিন। আমাদের খাঁচায় বন্দি করার চেষ্টা করবেন না। আমরা পুলিশকে বলেছিলাম, বই কিনতে যাচ্ছি।”

৯ অক্টোবর কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক সমস্ত রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলকে দিল্লি পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় রেখে কাজ করার এবং বিক্ষোভকারীদের দিল্লিমুখী যাত্রা আটকাতে আগাম ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল। ওই বার্তায় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রসচিব গোবিন্দ মোহন বিক্ষোভের জেরে “আইনশৃঙ্খলা ও জনশৃঙ্খলার ক্ষেত্রে গুরুতর পরিস্থিতি” তৈরি হওয়ার আশঙ্কার কথা উল্লেখ করেন।