বাংলাস্ফিয়ার: দিনভর ধরপাকড়ের পরে শনিবার রাতে সিজেপি নেতারা ছাড়া আটক সকলকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। রাত ১০টা ২৪ মিনিটে সংবাদপত্রটির সরাসরি সংবাদ সম্প্রচারে এই খবর প্রকাশিত হয়। দিল্লির পথে পথে পুলিশি বাধার মধ্যেও ছোট ছোট দলে বিক্ষোভ চলতে থাকে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে যন্তর মন্তরে জমায়েতের ডাক দিয়েছিল ককরোচ জনতা পার্টি।
আটককেন্দ্রের বাইরে উদ্বিগ্ন স্বজনদের অপেক্ষা, ভিতরে স্লোগান ও গণতন্ত্র নিয়ে আলোচনা। উত্তর দিল্লির ছত্রশাল স্টেডিয়াম এবং বাওয়ানার রাজীব গান্ধী স্টেডিয়ামেও রাখা হয়েছিল আটক মানুষদের। তাঁদের মধ্যে ছিলেন ছাত্রছাত্রী, সাংবাদিক, অভিনেতা এবং সমাজমাধ্যমের কনটেন্ট নির্মাতারা।
ছত্রশালে দীর্ঘক্ষণ খাবার ও জল না পাওয়ার অভিযোগ ওঠে। দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনের ছাত্র শিবাংশ শুক্লার দাবি, জলের জন্য প্রায় পাঁচশো জন বিক্ষোভ দেখান। বাইরে অপেক্ষারত শিক্ষক ব্রজেশ কুমার এসেছিলেন তাঁর বারোজন ছাত্রের খোঁজে। বিশাখা নামে এক তরুণীর অভিযোগ, গোল মার্কেটে সবজি কিনতে গিয়ে আটক হন তাঁর আত্মীয়। ফোনের ব্যাটারি ফুরিয়ে যাওয়া এবং ইন্টারনেট জ্যামারের কারণে যোগাযোগেও সমস্যা হচ্ছিল বলে জানান তিনি। আটক স্বজনদের সঙ্গে দেখা করতে চাইলেও অনুমতি মিলছিল না। এক পুলিশ আধিকারিক দেখা করার জন্য আদালতের নির্দেশ নিয়ে আসতে বলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ।
রাজীব গান্ধী স্টেডিয়ামে আবার গণতন্ত্রের তাৎক্ষণিক পাঠ শুরু করেন কান্নুর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন উপাচার্য গোপীনাথ রবীন্দ্রন। তাঁকে ঘিরে জড়ো হন অনেকে। আটক তরুণী মীরার বর্ণনায়, স্লোগানের মধ্যেই একজন প্রস্তাব দেন, এই জায়গাটাকেই যন্তর মন্তর করে তোলা হোক। তাঁর অভিযোগ, পুলিশ জোর করে তাঁর ফোনও নিয়ে নেয়। হাসপাতালমুখী এক ব্যক্তিও দাবি করেন, বিক্ষোভের সঙ্গে কোনও সম্পর্ক না থাকা সত্ত্বেও তাঁকে আটক করা হয়েছে।
শনিবার দিল্লিজুড়ে আনুমানিক সাত হাজার মানুষকে আটক করা হয়। যন্তর মন্তরে জমায়েত ঠেকাতে রাস্তা ঘিরে দেওয়া, ট্রেন চলাচলে বাধা এবং সন্ধ্যা পর্যন্ত ৪৫টি মেট্রো স্টেশন বন্ধ রাখার মতো ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু দুপুরের পর দিল্লি হাট, সফদরজং উড়ালপুল, রাজঘাট এবং কনট প্লেসে ছোট ছোট দলে বিক্ষোভ শুরু হয়। সেখান থেকেও বহু মানুষকে তুলে নিয়ে যায় পুলিশ।
সিজেপির অভিজিৎ দীপকে, সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকে দিল্লিতে নামার পর বিমানের ভিতরেই আটক করা হয়। পিনারাই বিজয়ন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অরবিন্দ কেজরিওয়াল এবং মানিক সরকারের মতো বিরোধী নেতারাও আটক হন। অন্যদিকে, দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা প্রশাসনের পদক্ষেপের পক্ষে দাঁড়িয়ে জানান, রাজধানীকে পণবন্দি হতে দেওয়া হবে না। গণতন্ত্রের আড়ালে অরাজকতা ছড়ানোর অভিযোগও তোলেন তিনি। আন্দোলনকারীদের বক্তব্য, ভোটার তালিকার অনিয়মের অভিযোগে নির্বাচন কমিশনের জবাবদিহি চাইতেই তাঁদের এই কর্মসূচি। গত মাসে কমিশনের দুই সদস্যের আপত্তি নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ হওয়ার পরে প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে ঘিরে বিতর্ক আরও তীব্র হয়।
পুলিশের বক্তব্য ছিল, নিরাপত্তা এবং প্রক্রিয়া মেনে চলার প্রশ্নে ওই বিক্ষোভের অনুমতি দেওয়া হয়নি। যন্তর মন্তরে পৌঁছনো ঠেকাতে শহরে আগাম আটক এবং বাহিনী মোতায়েন করা হয়। দিনের শেষে ধাপে ধাপে মুক্তির খবর আসে। রাত ৮টা ৩৪ মিনিটের খবরে কেজরিওয়ালকে জাফরপুর কালান থানা থেকে ছেড়ে দেওয়ার কথা জানা যায়। এর আগে দিল্লি হাট থেকে যোগেন্দ্র যাদব এবং প্রশান্ত ভূষণও আটক হন।
রাত ১০টা ১৯ মিনিটে দিল্লি মেট্রো কর্তৃপক্ষ জানায়, সমস্ত স্টেশনের প্রবেশ ও প্রস্থানের দরজা খুলে দেওয়া হয়েছে; ট্রেন বদলের সুবিধাও চালু। এর পরেই সিজেপি নেতারা ছাড়া বাকিদের মুক্তির খবর আসে। তবে সংগঠনটি জানিয়েছে, জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ না হওয়া পর্যন্ত ভোটার তালিকার কথিত অনিয়মের বিরুদ্ধে দেশজুড়ে প্রতিবাদ চলবে।