বাংলাস্ফিয়ার: ককরোচ জনতা পার্টির দুই নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া দ্বিতীয় মামলাটিও দিল্লি পুলিশের ক্রাইম ব্রাঞ্চের হাতে গেল। মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, মামলাটি হস্তান্তর করা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানিয়েছে একটি সংবাদ সংস্থা। এর ফলে দুই নেতার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া দু’টি মামলার তদন্তই এখন করবে পুলিশের এই বিশেষ শাখা। যন্তর মন্তরে তাঁদের প্রবেশের অভিযোগ সংক্রান্ত অন্য মামলাটি সোমবারই ক্রাইম ব্রাঞ্চের হাতে দেওয়া হয়েছিল। দ্বিতীয় মামলাটি হস্তান্তরের বিস্তারিত কারণ ওই প্রতিবেদনে জানানো হয়নি।
ঘটনার সূত্রপাত ১৩ অক্টোবর। পুলিশের বক্তব্য অনুযায়ী, সৌরভ, আশুতোষ, অজিঙ্ক্য শিন্ডে এবং সিজেপির আরও ১১ জন সদস্য ব্যক্তিগত মালিকানাধীন জায়গা দিয়ে অনধিকার প্রবেশ করে যন্তর মন্তরে পৌঁছন। তার আগেই ওই এলাকার নির্ধারিত বিক্ষোভস্থলের স্বীকৃতি প্রত্যাহার করা হয়েছিল। সেখানে মোতায়েন পুলিশ তাঁদের আটকানোর চেষ্টা করে। পরে মোট ১৪ জনকে আটক করা হয় এবং ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে দু’টি এফআইআর দায়ের হয়। অনধিকার প্রবেশের অভিযোগটি পুলিশের।
পরদিন, ১৪ অক্টোবর, শান্তি বজায় রাখার মুচলেকার শর্ত ভাঙার অভিযোগে সৌরভ ও আশুতোষকে পাঁচ দিনের বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠান বিশেষ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। সোমবার, ১৯ অক্টোবর, সেই মেয়াদ শেষ হলে তাঁদের হেফাজত আরও দু’দিন বাড়ানো হয়। ওই নির্দেশ অনুযায়ী, তাঁদের ২১ অক্টোবর পর্যন্ত তিহাড় জেলে থাকার কথা। তদন্তভার বদলের সিদ্ধান্ত এসেছে এই হেফাজতের মেয়াদ বৃদ্ধি এবং মুক্তির দাবি ঘিরে আইনি টানাপড়েনের মধ্যেই।
এখানে দু’টি পৃথক আইনি প্রক্রিয়া রয়েছে। যন্তর মন্তরের ঘটনা নিয়ে দায়ের হওয়া এফআইআরগুলির তদন্ত একদিকে; অন্যদিকে রয়েছে শান্তি রক্ষার মুচলেকা ভাঙার অভিযোগে আটক রাখার প্রক্রিয়া। একটি সংবাদ সংস্থার ব্যাখ্যা অনুযায়ী, দুই নেতার বর্তমান বন্দিত্বের ভিত্তি এই মুচলেকা সংক্রান্ত কার্যক্রম। ফলে ক্রাইম ব্রাঞ্চের হাতে তদন্ত যাওয়ার খবর এবং তাঁদের হেফাজতের মেয়াদ বৃদ্ধিকে একই নির্দেশ হিসেবে দেখা ঠিক হবে না। দু’টি বিষয় পরস্পর সম্পর্কিত হলেও তাদের আইনি ভিত্তি আলাদা।
ইতিমধ্যে হেফাজতের মেয়াদ বাড়ানো এবং তাঁদের পেশ করা জামিনদারদের গ্রহণ না করার সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে দিল্লি হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন দুই নেতা। তাঁদের বক্তব্য, প্রয়োজনীয় নিশ্চয়তা দেওয়ার পরেও আটক রাখা ব্যক্তিস্বাধীনতার মৌলিক অধিকার লঙ্ঘন করছে। আবেদনে সংবিধানের ২১ নম্বর অনুচ্ছেদের সুরক্ষার প্রশ্নও তোলা হয়েছে। তাঁদের দাবি, ব্যক্তিগত বন্ড এবং স্থায়ী আমানতের রসিদসহ প্রয়োজনীয় নথি পেশ করা হয়েছিল, তবুও মুক্তির পথ খোলেনি।
অন্যদিকে, প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, জামিনদারদের পরিচয় যাচাই এবং তাঁদের জমা দেওয়া নথি নিয়ে আপত্তি তুলেছিলেন ম্যাজিস্ট্রেট। নথির ছবির সঙ্গে আধার কার্ডের ছবির অসংগতি এবং দুই নেতার শর্তপালন নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে জামিনদারদের সক্ষমতা নিয়ে সংশয়ের কথা বলা হয়। ফের শান্তিভঙ্গের আশঙ্কাও উল্লেখ করা হয়েছিল। নেতাদের তরফে এই যুক্তি ও সিদ্ধান্তের যথার্থতাই প্রশ্নের মুখে ফেলা হয়েছে। ফলে বিরোধের কেন্দ্রে রয়েছে আটক রাখার প্রয়োজনীয়তা এবং অনুসৃত পদ্ধতি।
দুই নেতার আইনজীবীরা দ্রুত শুনানির চেষ্টা করছেন। মঙ্গলবারের প্রতিবেদন অনুযায়ী, তাঁরা জরুরি ভিত্তিতে রাতেই শুনানি চেয়েছিলেন। তবে সেদিন রাতে আবেদনটির শুনানি হয়নি; বুধবার শুনানির ব্যবস্থা করার চেষ্টা চলছিল। ফলে হাইকোর্টে আবেদন করা হয়েছে মানেই মুক্তির নির্দেশ এসেছে, এমন নয়। প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে মুক্তির কোনও আদেশের কথা জানানো হয়নি। হেফাজত নিয়ে তাঁদের আপত্তির নিষ্পত্তি আদালতের পরবর্তী পদক্ষেপের উপর নির্ভর করছে।
এই ঘটনার পটভূমিতে রয়েছে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর নিয়ে সিজেপির আন্দোলন। বিক্ষোভকারীরা মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবি করেছিলেন। নির্বাচন কমিশন সংশোধন প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক পক্ষপাতের অভিযোগ অস্বীকার করেছে। আপাতত দুই নেতার বিরুদ্ধে তদন্তের দায়িত্ব এক শাখার হাতে কেন্দ্রীভূত হল; পাশাপাশি তাঁদের আটক রাখার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে পৃথক আইনি লড়াইও চলছে।