বাংলাস্ফিয়ার: প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে ডাকা সমাবেশ রুখতে শনিবার সর্বশক্তি নিয়ে নেমেছিল দিল্লি পুলিশ। ফলে বিরোধী নেতাদের সঙ্গে প্রতিবাদে যোগ দেওয়া হাজার হাজার বিক্ষোভকারী কার্যত এগোনোর সুযোগই পাননি।
রবিবার নতুন করে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি বা সিজেপি। ফের যন্তর মন্তরের দিকে মিছিল করা এবং সব দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করেছে তারা। শনিবার এক্সে দলের পোস্টে বলা হয়, “আমরা পিছু হটছি না! আগামীকাল আবার যন্তর মন্তরের দিকে মিছিল করব। আমাদের সব দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত সেখানেই থাকব।”
নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ঘিরে শনিবার দিল্লিতে কার্যত অবরুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হয়। অরবিন্দ কেজরীওয়াল, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, পিনারাই বিজয়ন, নেহা বোরা, যোগেন্দ্র যাদব ও প্রশান্ত ভূষণ-সহ বিরোধী নেতা এবং সমাজকর্মীদের আটক করা হয়। সন্ধ্যা সাতটা পর্যন্ত রাজধানীজুড়ে প্রায় ছ’হাজার মানুষকে আটক করা হয়েছিল। কোনও বিক্ষোভকারীকেই যন্তর মন্তরে পৌঁছতে দেওয়া হয়নি।
দিল্লি ট্র্যাফিক পুলিশ জানিয়েছে, আইনশৃঙ্খলার পরিস্থিতির কারণে রবিবার, ১১ অক্টোবর, নয়াদিল্লি ও মধ্য দিল্লির বিভিন্ন রাস্তায় যান চলাচল ব্যাহত হতে পারে। পরিস্থিতি অনুযায়ী সকাল ছ’টা থেকে গাড়ি ঘুরিয়ে দেওয়া হবে। শহরের ৩০টি জায়গায় চলাচলে বিধিনিষেধ জারি হতে পারে।
প্রভাবিত হতে পারে এমন রাস্তাগুলির মধ্যে রয়েছে ধৌলা কুয়াঁ উড়ালপুল, ঝান্ডেওয়ালান, মান্ডি হাউস, কনট প্লেস, যন্তর মন্তর রোড, লোধি রোড উড়ালপুল, প্যাটেল চক এবং রেল ভবন ও রামমনোহর লোহিয়া হাসপাতালের আশপাশের এলাকা। নয়াদিল্লি ও মধ্য দিল্লি হয়ে রেলস্টেশন, আন্তঃরাজ্য বাস টার্মিনাল এবং বিমানবন্দরে যাঁরা যাবেন, তাঁদের আগে থেকে যাত্রার পরিকল্পনা করতে, হাতে বাড়তি সময় রাখতে এবং অপ্রয়োজনীয় যাতায়াত এড়িয়ে চলতে বলা হয়েছে। সর্বশেষ তথ্যের জন্য ট্র্যাফিক পুলিশের ১০৯৫ অথবা ০১১-২৫৮৪৪৪৪৪ নম্বরে যোগাযোগ করা যাবে।
জলবায়ু আন্দোলনকর্মী সোনম ওয়াংচুক জানিয়েছেন, রবিবারের মধ্যে আটক ব্যক্তিদের ছেড়ে না দিলে তিনি অনশন বা পদযাত্রা শুরু করতে বাধ্য হতে পারেন। শনিবার সন্ধ্যায় ময়দান গড়ি থানা থেকে নেহা বোরা ও আরও কয়েকজনকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
এর আগে যন্তর মন্তর সম্পূর্ণ ঘিরে দেওয়ায় আন্দোলনকারীরা সমর্থকদের দিল্লি হাটে ফের জড়ো হওয়ার আহ্বান জানান। বোরা, যাদব ও ভূষণকে আটক করা হয়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তৃণমূলের অন্য নেতাদের তাঁর দিল্লির বাসভবনের বাইরে আটক করা হয়। যন্তর মন্তরের কাছে আটক হন কেজরীওয়াল ও আম আদমি পার্টির সৌরভ ভরদ্বাজ। বিজয়নকে নিয়ে যাওয়া হয় ছত্রশাল স্টেডিয়ামে।
দিল্লিতে বিমান নামার পরে বিমানের ভিতর থেকেই সিজেপি নেতা অভিজিৎ দীপকে, সৌরভ দাস এবং আশুতোষ রাঙ্কাকে আটক করা হয়েছিল। পুলিশ জানিয়েছে, দীপকেকে তাঁর ঠাকুমার মৃত্যুর খবর জানানো হয় এবং বাড়ি ফিরতে সাহায্যের প্রস্তাব দেওয়া হয়। বিক্ষোভে নেতৃত্ব দেওয়ার দায়িত্ব পাওয়া সিজেপির অজিঙ্ক্য শিন্ডে বলেন, “জ্ঞানেশ কুমার পদত্যাগ না করা পর্যন্ত” আন্দোলন চলবে।
পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, ইউটিউবার ধ্রুব রাঠীকে গুরুগ্রামের সেক্টর ৫৬-তে তাঁর বাড়ি থেকে আটক করা হয়। ইউটিউবে তাঁর প্রায় তিন কোটি তিরিশ লক্ষ অনুগামী রয়েছেন।
পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, প্রায় ২৫ হাজার পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছিল। আগের রাতেই অন্তত ১,২০০ জনকে আটক করা হয়।
মুম্বইয়েও পুলিশ অগস্ট ক্রান্তি ময়দান বন্ধ করে দেয়। সিজেপির সমর্থনে জমায়েত হওয়া কয়েকশো মানুষকে আটক করা হয়। তাঁদের মধ্যে ছিলেন মহাত্মা গান্ধীর প্রপৌত্র তুষার গান্ধী।
দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্ত বলেন, রাজধানীকে “পণবন্দি হতে দেওয়া হবে না”। সিজেপিকে কংগ্রেস ও আম আদমি পার্টির “বি-টিম” বলেও আক্রমণ করেন তিনি।
সিজেপির অভিযোগ, ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর চলাকালীন তালিকায় কারচুপির ঘটনা ঘটেছে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের তত্ত্বাবধানে। নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ এবং যথেষ্ট আগে নোটিস না দেওয়ার কারণ দেখিয়ে দিল্লি পুলিশ এই বিক্ষোভের অনুমতি দেয়নি।