শেক্সপিয়রের নাট্যমঞ্চ থেকে মহাকাশযানের অধিনায়কের আসন—অভিনয়ের দুই ভুবনেই সমান দাপট ছিল তাঁর। ‘স্টার ট্রেক’-এর ক্যাপ্টেন জঁ-লুক পিকার্ড কিংবা ‘এক্স-মেন’-এর অধ্যাপক চার্লস জেভিয়ার, দুই চরিত্রেই দর্শকের মনে স্থায়ী ছাপ ফেলেছিলেন ব্রিটিশ অভিনেতা প্যাট্রিক স্টুয়ার্ট। ৮৬ বছর বয়সে তাঁর জীবনাবসানের খবরে শোকের ছায়া বিনোদনজগতে।
‘স্টার ট্রেক: দ্য নেক্সট জেনারেশন’ এবং ‘এক্স-মেন’-এর এই তারকা বুধবার লস অ্যাঞ্জেলেসের নিজের বাড়িতে শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন বলে তাঁর দীর্ঘদিনের মুখপাত্র কেলি বুশ নোভাক জানিয়েছেন। ‘দ্য হলিউড রিপোর্টার’-কে তিনি জানান, অ্যালঝাইমার্স রোগ ও লুই বডি ডিমেনশিয়ার সঙ্গে সংক্ষিপ্ত কিন্তু বেদনাবিধুর লড়াইয়ের পর মৃত্যু হয়েছে অভিনেতার।
নোভাকের কথায়, জীবনের শেষ মুহূর্তগুলিতে পরিবার ও বন্ধুদের সান্নিধ্যে ছিলেন স্টুয়ার্ট। চারপাশে ছিল গান, প্রার্থনা, চোখের জল, হাসি আর গভীর আবেগ। তাঁর ভাষায়, জীবনের দীর্ঘ পথচলায় অসংখ্য মানুষের মনে যে অনুভূতি জাগিয়ে তুলেছিলেন অভিনেতা, শেষ মুহূর্তেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। তাঁর মুখে ফুটে থাকা শান্তি, স্বস্তি ও গভীর চিন্তামগ্নতার ছাপ চিরকাল মনে রাখবেন প্রিয়জনেরা।
গভীর, কর্তৃত্বপূর্ণ ব্যারিটোন কণ্ঠস্বর এবং ব্যক্তিত্বময় মুখাবয়ব—এই দুই বৈশিষ্ট্যেই আলাদা করে চেনা যেত স্টুয়ার্টকে। আশির দশকের শেষভাগে ব্রিটিশ নাট্যমঞ্চে তিনি প্রতিষ্ঠিত অভিনেতা। সেই সময়েই, ৪৭ বছর বয়সে, ‘স্টার ট্রেক: দ্য নেক্সট জেনারেশন’-এ ক্যাপ্টেন জঁ-লুক পিকার্ডের চরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ পান। ষাটের দশকের জনপ্রিয় ‘স্টার ট্রেক’ ধারাবাহিকের উত্তরসূরি এই সিরিজে স্টারশিপ এন্টারপ্রাইজের অধিনায়ক হিসেবে সাতটি মরসুম অভিনয় করেন তিনি। সংযত অথচ দৃঢ় অভিনয়, বুদ্ধিদীপ্ত সংলাপ এবং তাঁর মুখে উচ্চারিত “এগিয়ে চলো!”-র মতো নির্দেশ তাঁকে বিশ্বজোড়া খ্যাতি এনে দেয়।
পিকার্ডের ভূমিকায় চারটি পূর্ণদৈর্ঘ্য ছবিতেও অভিনয় করেন স্টুয়ার্ট—‘স্টার ট্রেক জেনারেশনস’ (১৯৯৪), ‘স্টার ট্রেক: ফার্স্ট কনট্যাক্ট’ (১৯৯৬), ‘স্টার ট্রেক: ইনসারেকশন’ (১৯৯৮) এবং ‘স্টার ট্রেক: নেমেসিস’ (২০০২)। পরে ২০২০ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত প্রচারিত ‘স্টার ট্রেক: পিকার্ড’ ধারাবাহিকে আবারও সেই চরিত্রে ফিরে আসেন।
তাঁর প্রয়াণে শোকপ্রকাশ করেছেন দীর্ঘদিনের বন্ধু, শেক্সপিয়রীয় নাটকের প্রখ্যাত অভিনেতা এবং ‘এক্স-মেন’-এর সহশিল্পী ইয়ান ম্যাককেলেন। সমাজমাধ্যমে তিনি লিখেছেন, অন্য সব পরিচয়ের আগে প্যাট্রিক ছিলেন ইয়র্কশায়ারের মানুষ। উত্তর ইংল্যান্ডের সেই কাউন্টিতে জন্ম ও বেড়ে ওঠা স্টুয়ার্ট শেষ দিন পর্যন্ত নিজের শিকড়কে ভালবেসেছেন।
ম্যাককেলেনের কথায়, স্টুয়ার্টের উচ্চারণে যেমন তাঁর জন্মভূমির ছাপ ছিল, তেমনই ছিল তাঁর চিন্তাভাবনা প্রকাশের অনমনীয় সততা। ইয়র্কশায়ারের মানুষ অর্ধসত্য মেনে নেন না, কঠিন প্রশ্ন এড়িয়েও যান না—বন্ধুর চরিত্রে সেই গুণগুলিই দেখেছিলেন তিনি। ম্যাককেলেন লিখেছেন, স্টুয়ার্ট নিজের অনুভূতি কখনও লুকোতেন না। তাই তাঁর উপর নির্ভর করা যেত, তাঁকে শ্রদ্ধা করা যেত এবং ভালবাসা যেত।
‘স্টার ট্রেক’-এর আর এক অভিনেতা উইলিয়াম শ্যাটনারও শ্রদ্ধা জানিয়েছেন প্রয়াত সহশিল্পীকে। তাঁর কথায়, নাট্যমঞ্চ থেকে এন্টারপ্রাইজের নিয়ন্ত্রণকক্ষ—সব ক্ষেত্রেই স্টুয়ার্টের অভিনয়ে ফুটে উঠত বুদ্ধিমত্তা, সৌন্দর্য ও গভীর মানবিকতা। ক্যাপ্টেন পিকার্ড যেমন মানুষের শ্রেষ্ঠ গুণগুলির প্রতিনিধিত্ব করতেন, তাঁকে পর্দায় ফুটিয়ে তোলা মানুষটিও ছিলেন তেমনই। স্টুয়ার্টের প্রতি তাঁর ছিল গভীর স্নেহ এবং কাজের প্রতি অপরিসীম শ্রদ্ধা।
মূল ‘স্টার ট্রেক’ ধারাবাহিকে হিকারু সুলুর চরিত্রে অভিনয় করা জর্জ তাকেই ব্লুস্কাইয়ে লিখেছেন, স্টুয়ার্ট এমন এক প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করেছিলেন, যারা নক্ষত্রের দিকে তাকিয়ে গোটা মানবজাতির জন্য আরও উজ্জ্বল ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখতে শিখেছে। তাঁর কথায়, আজ হৃদয় সত্যিই ভারাক্রান্ত। মহাকাশের অধিনায়ককে উদ্দেশ করে তাঁর শেষ বার্তা, “আকাশলোকে শান্তিতে বিশ্রাম নিন, ক্যাপ্টেন।”
পিকার্ডের পর জেভিয়ার
‘স্টার ট্রেক’-এর ক্যাপ্টেন পিকার্ডের মতোই স্টুয়ার্টের আর এক স্মরণীয় চরিত্র ‘এক্স-মেন’ ছবির অধ্যাপক চার্লস জেভিয়ার। ‘স্টার ট্রেক’-এর সাফল্যের পর একই ধরনের চরিত্রে আটকে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল তাঁর। কাজ পাওয়াও কঠিন হয়ে উঠছিল। কিন্তু ২০০০ সালে ‘এক্স-মেন’ ছবিতে পরিচালক ব্রায়ান সিঙ্গারের সঙ্গে কাজের সুযোগ তাঁকে নতুন করে উৎসাহিত করে।
শেষ পর্যন্ত সাতটি ছবিতে অধ্যাপক জেভিয়ারের ভূমিকায় অভিনয় করেন স্টুয়ার্ট। এ বছরের ডিসেম্বরে মুক্তির জন্য নির্ধারিত ‘অ্যাভেঞ্জার্স: ডুমসডে’ ছবিতেও তাঁকে এই চরিত্রে দেখা যাবে বলে জানানো হয়েছে।
‘এক্স-মেন’-এর সহশিল্পী হিউ জ্যাকম্যান ইনস্টাগ্রামে লিখেছেন, “আজ আমরা মঞ্চ ও পর্দার অন্যতম শ্রেষ্ঠ এক শিল্পীকে হারালাম। আর আমার কাছে তিনি ছিলেন অসাধারণ এক বন্ধু ও মানুষ। তাঁর কাছ থেকে কত কিছু শিখেছি। প্যাট্রিক স্টুয়ার্ট, আমার বাকি জীবনের প্রতিটি দিন তোমার অভাব অনুভব করব।”
মার্ভেলের প্রধান কেভিন ফাইগিও শ্রদ্ধা জানিয়েছেন অভিনেতাকে। তাঁকে অসামান্য প্রতিভাবান, আকর্ষণীয়, আন্তরিক ও উদার মানুষ হিসেবে বর্ণনা করেছেন তিনি। ফাইগির কথায়, ক্যামেরার বাইরেও স্টুয়ার্ট ছিলেন অসাধারণ। তাঁর রসবোধ ছিল তীক্ষ্ণ, ব্যক্তিত্বে ছিল এক ধরনের নীরব শক্তি ও গাম্ভীর্য। কয়েক দশকের অভিনয়জীবনেই শুধু তাঁর উত্তরাধিকার সীমাবদ্ধ থাকবে না; যাঁদের তিনি পথ দেখিয়েছেন, তাঁদের মধ্যেও বেঁচে থাকবে সেই উত্তরাধিকার।
শৈশবের ক্ষত থেকে অভিনয়ের আশ্রয়
স্টুয়ার্টের অভিনয়জীবন কেবল হলিউডের সাফল্যের গল্প নয়। এর পিছনে ছিল কঠিন শৈশব, পারিবারিক অশান্তি এবং নিজের জন্য একটি নিরাপদ জগৎ খুঁজে নেওয়ার আকাঙ্ক্ষা।
১৯৪০ সালের ১৩ জুলাই ইংল্যান্ডের ছোট শিল্পগ্রাম মিরফিল্ডে জন্ম তাঁর। তিন ভাইয়ের মধ্যে তিনি ছিলেন সবচেয়ে ছোট। বাবা আলফ্রেড স্টুয়ার্ট ব্রিটিশ সেনাবাহিনীতে কাজ করার পর আধাদক্ষ শ্রমিক হিসেবে জীবিকা নির্বাহ করতেন। মা গ্ল্যাডিস স্টুয়ার্ট ছিলেন বস্ত্রকলের তাঁতি। পরিবারের আর্থিক অবস্থা ছিল সীমিত। ছোট বাড়িতে গরম জলের ব্যবস্থাও ছিল না। তার উপর মদ্যপান ও পারিবারিক হিংসার অভিজ্ঞতা শৈশবকে কঠিন করে তুলেছিল।
২০০৯ সালে ‘দ্য গার্ডিয়ান’-এ লেখা এক নিবন্ধে সেই সময়ের কথা বলতে গিয়ে স্টুয়ার্ট পরিস্থিতিকে বর্ণনা করেছিলেন, “কোনওমতে সহ্য করা যেত।”
এই পরিবেশ থেকেই মুক্তির পথ খুঁজে পেয়েছিলেন অভিনয়ের মধ্যে। মাত্র ১২ বছর বয়সে স্কুলের এক ইংরেজি শিক্ষক তাঁকে শেক্সপিয়রের ‘দ্য মার্চেন্ট অব ভেনিস’-এ শাইলকের চরিত্রে অভিনয়ের দায়িত্ব দেন। সেই শুরু। পরে স্থানীয় নাট্যদলগুলিতে যোগ দেন তিনি।
স্টুয়ার্ট একবার লিখেছিলেন, অভিনয়ের মধ্যে তিনি নিজের জন্য একটি আশ্রয় খুঁজে পেয়েছিলেন। বাড়ির অশান্তির তুলনায় মঞ্চ ছিল অনেক নিরাপদ জায়গা। সেখানে অন্য মানুষ হয়ে ওঠা যেত, অন্য সময় ও অন্য কোনও জগতে চলে যাওয়া যেত।
মাত্র ১৫ বছর বয়সে স্কুলের পড়াশোনা শেষ করে স্থানীয় সংবাদপত্রে প্রতিবেদক এবং আসবাবপত্রের বিক্রেতা হিসেবে কাজ শুরু করেন তিনি। পরে স্থানীয় একটি শিল্পকলা পরিষদের আর্থিক সহায়তায় ব্রিস্টল ওল্ড ভিক থিয়েটার স্কুলে পড়ার সুযোগ পান। ১৯৫৭ সালে, মাত্র ১৭ বছর বয়সে, সেখানে ভর্তি হন।
দু’বছর পর পেশাদার নাট্যমঞ্চে তাঁর অভিষেক। নিজের আঞ্চলিক উচ্চারণ বদলে অভিনয়ের জগতে এগিয়ে যেতে থাকেন তিনি। ১৯৬৬ সালে যোগ দেন রয়্যাল শেক্সপিয়র কোম্পানিতে। সেখানে ১৬ বছরের কর্মজীবনে সমকালীন অন্যতম শ্রেষ্ঠ শেক্সপিয়রীয় অভিনেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠা পান। নতুন প্রজন্মের দর্শকদের কাছে শেক্সপিয়রের নাটক পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল তাঁর।
এক বন্ধুর আমন্ত্রণে লস অ্যাঞ্জেলেসে শেক্সপিয়র নিয়ে বিশেষ অভিনয়-প্রশিক্ষণের ক্লাস নিতে গিয়েই প্রথম ‘স্টার ট্রেক’-এর এক কাস্টিং ডিরেক্টরের নজরে পড়েন স্টুয়ার্ট। সেখান থেকেই শুরু হয় তাঁর জীবনের এক নতুন অধ্যায়।
শেক্সপিয়র থেকে ব্রডওয়ে
১৯৭১ সালে পিটার ব্রুকের ‘আ মিডসামার নাইটস ড্রিম’ প্রযোজনার মাধ্যমে ব্রডওয়েতে অভিষেক হয় স্টুয়ার্টের। প্রায় দুই দশক পরে ‘আ ক্রিসমাস ক্যারল’-এর একক অভিনয় নিয়ে ফেরেন সেই মঞ্চে। ১৯৯২, ১৯৯৪ এবং ২০০১ সালেও বড়দিনের মরসুমে এই প্রযোজনা মঞ্চস্থ করেন তিনি। অভিনয়ের জন্য পান ড্রামা ডেস্ক পুরস্কার।
দীর্ঘ কর্মজীবনে শেক্সপিয়রের একাধিক স্মরণীয় চরিত্রে অভিনয় করেছেন স্টুয়ার্ট। তাঁর অভিনীত চরিত্রগুলির মধ্যে রয়েছে ম্যাকবেথ, ওথেলো, প্রসপেরো, শাইলক এবং মার্ক অ্যান্টনি। দু’বার পেয়েছেন লরেন্স অলিভিয়ের পুরস্কার—১৯৭৯ সালে ‘অ্যান্টনি অ্যান্ড ক্লিওপেট্রা’ এবং ২০০৯ সালে ‘হ্যামলেট’-এর জন্য।
১৯৯৬ সালে শিশুদের জন্য কথনভিত্তিক অ্যালবাম ‘প্রোকোফিয়েভ: পিটার অ্যান্ড দ্য উলফ’-এ কাজ করে গ্র্যামি পুরস্কারও জেতেন তিনি। একটি টনি এবং চারটি এমি পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়েছিলেন এই অভিনেতা।
চলচ্চিত্রেও বিচিত্র সব চরিত্রে অভিনয় করেছেন স্টুয়ার্ট। তাঁর উল্লেখযোগ্য কাজের মধ্যে রয়েছে সমকামী জীবনকে কেন্দ্র করে তৈরি কমেডি ‘জেফ্রি’, প্রেম ও রহস্যের ছবি ‘কনস্পিরেসি থিয়োরি’ এবং হিংসাত্মক ঘটনার আবহে তৈরি ভয়ের ছবি ‘গ্রিন রুম’। ‘টেড’, ‘নোমিও অ্যান্ড জুলিয়েট’ এবং সাম্প্রতিক ‘দ্য শিপ ডিটেকটিভস’-এ কণ্ঠাভিনয়ও করেছেন তিনি।
নাট্যমঞ্চে তাঁর শেষ বড় চরিত্র ছিল ২০১৬ সালে। লন্ডনের উইন্ডহ্যাম থিয়েটারে হ্যারল্ড পিন্টারের ‘নো ম্যানস ল্যান্ড’ নাটকে হার্স্টের ভূমিকায় অভিনয় করেন তিনি। ২০২৩ সালে প্রকাশিত হয় তাঁর স্মৃতিকথা ‘মেকিং ইট সো’।
ফুটবলের মাঠেও আবেগ
পর্দায় ও মঞ্চে অসংখ্য চরিত্রে অভিনয় করলেও ব্যক্তিগত জীবনে স্টুয়ার্টের আর এক বড় ভালবাসা ছিল ফুটবল। ছোটবেলা থেকেই হাডার্সফিল্ড টাউন ফুটবল ক্লাবের একনিষ্ঠ সমর্থক ছিলেন তিনি। প্রিয় দলের প্রতি আবেগ প্রকাশ করতে কখনও দ্বিধা করেননি।
২০২৪ সালেও তাঁকে দলের হয়ে গলা ফাটাতে দেখা গিয়েছিল। ক্লাবের সরকারি ফেসবুক পোস্টে তাঁকে নিজের শিল্পক্ষেত্রের এক মহীরুহ এবং সারা পৃথিবীর লক্ষ লক্ষ মানুষের কাছে কিংবদন্তি ও নায়ক হিসেবে বর্ণনা করা হয়।
ব্যক্তিগত জীবন
স্টুয়ার্ট তিন বার বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন। নাটকের নৃত্যপরিকল্পক শিলা ফ্যালকনারের সঙ্গে তাঁর দাম্পত্য জীবন ছিল ১৯৬৬ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত। তাঁদের দুই সন্তান ড্যানিয়েল ও সোফিও অভিনয়জগতের সঙ্গে যুক্ত। ২০০০ থেকে ২০০৩ সাল পর্যন্ত তাঁর স্ত্রী ছিলেন ‘স্টার ট্রেক’-এর প্রযোজক ওয়েন্ডি নয়েস। পরে ২০১৩ সালে জ্যাজশিল্পী সানি ওজেলকে বিয়ে করেন তিনি। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তাঁদের দাম্পত্য অটুট ছিল।
শেষ বিয়ের অনুষ্ঠান পরিচালনা করেছিলেন তাঁর বন্ধু এবং মাঝেমধ্যে সহশিল্পী ইয়ান ম্যাককেলেন। ২০১৩ সালে ব্রডওয়ের দু’টি প্রযোজনায় একসঙ্গে অভিনয় করেছিলেন তাঁরা। একটি মহড়া শেষ হওয়ার পর ম্যাককেলেনই তাঁদের বিয়ের অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন।
২০২৩ সালে ‘দ্য গার্ডিয়ান’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নিজের জীবন ও সাফল্য নিয়ে অকপট হয়েছিলেন স্টুয়ার্ট। বলেছিলেন, দীর্ঘদিন নিজের জীবনকে ঠিকমতো স্বীকার করে উঠতে পারেননি তিনি। কতটা সফল হয়েছেন, তা কখনও পুরোপুরি উপলব্ধি করেননি। এখনও অপ্রত্যাশিত কোনও ভাল ঘটনা ঘটলে নিজেকেই বলে ওঠেন, “প্যাট্রিক, শালা, তুই সত্যিই ভাগ্যবান!”
মঞ্চের শেক্সপিয়রীয় নায়ক থেকে কল্পবিজ্ঞানের কিংবদন্তি অধিনায়ক—প্যাট্রিক স্টুয়ার্টের অভিনয়জীবন ছিল দুই ভুবনের সেতুবন্ধন। তাঁর চরিত্রগুলি দর্শকদের কাছে কেবল বিনোদনের উপকরণ হয়ে থাকেনি; হয়ে উঠেছে সাহস, প্রজ্ঞা, মানবিকতা ও আশার প্রতীক। সেই কারণেই, পর্দার আলো নিভে গেলেও তাঁর অভিনয়ের উত্তরাধিকার থেকে যাবে বহু প্রজন্মের দর্শকের মনে।
পাঠকের মন্তব্য ০
শালীন ও বিষয়ভিত্তিক আলোচনা করুন। মন্তব্য অনুমোদনের পর প্রকাশ হবে।
মন্তব্য করতে আপনার বাংলাস্ফিয়ার অ্যাকাউন্টে লগইন করুন। সদস্যতা কেনার প্রয়োজন নেই।
এখনও কোনো অনুমোদিত মন্তব্য নেই।