লস অ্যাঞ্জেলেসের রেড কার্পেটে জমকালো প্রিমিয়ারের মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক দর্শকদের সামনে উন্মোচিত হলো নীতেশ তিওয়ারির বহুপ্রতীক্ষিত পৌরাণিক চলচ্চিত্র ‘রামায়ণ: রাইজ অব আ লেজেন্ড’। আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন ছবির প্রধান তারকা রণবীর কাপুর, সাঁই পল্লবী, কন্নড় মেগাস্টার যশ, পরিচালক নীতেশ তিওয়ারি এবং প্রযোজক নমিত মালহোত্রা। প্রদর্শনীর পরই বিশ্ব চলচ্চিত্রের দরবারে শুরু হয়েছে ছবিটিকে ঘিরে জোর আলোচনা। আন্তর্জাতিক দর্শক ও সমালোচকদের একটি বড় অংশ ছবির অভূতপূর্ব দৃশ্যপট ও কারিগরি মানের ভূয়সী প্রশংসা করলেও, চিত্রনাট্য ও আখ্যানভাগের গভীরতা নিয়ে উঠেছে কিছু প্রশ্ন।

ভিজ্যুয়াল স্কেলের দিক থেকে ছবিটি নিঃসন্দেহে ভারতীয় চলচ্চিত্রের সীমানা অতিক্রম করেছে। ডিএনইজি (DNEG)-এর বিশ্বমানের ভিএফএক্স এবং এ আর রহমান ও হ্যান্স জিমারের যৌথ সঙ্গীত পরিচালনা অযোধ্যা ও পৌরাণিক লঙ্কাকে পর্দায় জীবন্ত রূপ দিয়েছে। বহু দর্শক ছবিটির দৃশ্যগত বিশালতাকে ২০০১ সালের মহাকাব্যিক সিনেমা ‘দ্য লর্ড অব দ্য রিংস’-এর সঙ্গে তুলনা করেছেন। প্রাচীন ভারতের ভূগোল এবং যুদ্ধক্ষেত্রের আবহ যেভাবে নিখুঁত প্রযুক্তির ছোঁয়ায় তুলে ধরা হয়েছে, তা পশ্চিমী প্রেক্ষাগৃহেও এক বিস্ময়কর সিনেমাটিক অনুভূতি তৈরি করেছে।

অভিনয়ের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি হাততালি কুড়িয়েছেন লঙ্কাপতি রাবণের চরিত্রে অভিনয় করা যশ। পর্দায় তাঁর প্রথম উপস্থিতি, শরীরী ভাষা এবং গম্ভীর কণ্ঠস্বর দর্শকদের মধ্যে টানটান উত্তেজনা তৈরি করে। রামের ভূমিকায় রণবীর কাপুরের সংযত গাম্ভীর্য এবং সীতার চরিত্রে সাঁই পল্লবীর স্নিগ্ধ সৌন্দর্যও নজর কেড়েছে।

তবে প্রশংসার পাশাপাশি চিত্রনাট্যের দুর্বলতা নিয়ে একাধিক প্রশ্ন তুলেছেন দর্শকেরা। অনেকের মতে, ছবির কারিগরি জৌলুসের ভিড়ে রামায়ণের মূল যে আধ্যাত্মিক ও মানসিক আবেগ—তা মাঝে মাঝে ফিকে হয়ে পড়েছে। তিন ঘণ্টারও বেশি দীর্ঘ এই ছবির প্রথমার্ধের গতি কিছুটা শ্লথ এবং কিছু ক্ষেত্রে পৌরাণিক চরিত্রগুলির মনস্তাত্ত্বিক দ্বন্দ্ব আরও স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন ছিল বলে মত প্রকাশ করেছেন সমালোচকরা। অনেকেই মনে করছেন, আন্তর্জাতিক মানের প্রযুক্তিগত সাফল্যের সঙ্গে আখ্যানভাগের গতিশীলতা পুরোপুরি তাল মেলাতে পারেনি; ফলে এটি একটি দেখার মতো মহাযজ্ঞ হলেও নিখুঁত রূপ নিতে আরও কিছুটা দৃঢ় চিত্রনাট্যের প্রয়োজন ছিল।

সব বিতর্ক সত্ত্বেও ছবির ক্লাইম্যাক্স দর্শকদের রীতিমতো চমকে দিয়েছে। কাহিনীকে এমন এক নাটকীয় ক্লিফহ্যাংগারে এনে শেষ করা হয়েছে, যা ২০২৭ সালের দীপাবলিতে আসতে চলা দ্বিতীয় পর্বের জন্য তীব্র আগ্রহ তৈরি করেছে। সামগ্রিকভাবে, চিত্রনাট্যের কিছু খামতি সত্ত্বেও ভারতীয় সংস্কৃতি ও রূপকথাকে বৈশ্বিক স্তরে তুলে ধরার এই বিশাল প্রয়াস বিশ্বমঞ্চে ইতিবাচক সাড়া জাগিয়েছে।