কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের ৩২তম আসরে একগুচ্ছ পরিবর্তন। বদলাচ্ছে উৎসবের লোগো, উদ্বোধনের ঠিকানা এবং আয়োজনের ধরন। আগামী ১৬ ডিসেম্বর ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়ালে উদ্বোধন হবে উৎসবের। চলবে ২৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত। রাজ্যে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পরে প্রথম এই চলচ্চিত্র উৎসবকে নতুন চেহারায় তুলে ধরতে চাইছেন আয়োজকেরা। রবিবার, ১ নভেম্বর নন্দনে সাংবাদিক বৈঠকে উৎসবের নতুন লোগো প্রকাশ করা হয়েছে।
সত্যজিৎ রায়ের পুত্র, পরিচালক সন্দীপ রায়ের নকশায় তৈরি নতুন লোগোয় কালোর সঙ্গে জায়গা পেয়েছে গেরুয়া। ২০১৫ সালে চালু হওয়া আগের লোগোয় ছিল কালো ও নীলের ব্যবহার। সেখানে ‘কে’ অক্ষরের উপরে ক্যামেরার প্রতীক এবং প্রথম ‘এফ’-এর উপরে ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়ালের পরির ছোট অবয়ব দেখা যেত। নতুন নকশায় চলচ্চিত্রের ফিতের ধার বরাবর থাকা ছিদ্রের আদল ব্যবহার করা হয়েছে। উৎসবের পরিচিত দৃশ্যগত পরিচয়েও তাই এ বার স্পষ্ট বদল।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের স্থান নির্বাচনও এ বারের অন্যতম আকর্ষণ। অতীতে নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে উৎসবের উদ্বোধন হয়েছে বহুবার। গত বছর অনুষ্ঠান হয়েছিল আলিপুরের ধনধান্য প্রেক্ষাগৃহে। এ বার সেই আয়োজন হবে ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়ালের বিস্তীর্ণ প্রাঙ্গণে। শহরের অন্যতম পরিচিত ঐতিহাসিক স্থাপনাকে চলচ্চিত্র উৎসবের উদ্বোধনের মঞ্চ হিসেবে বেছে নিয়েছে নতুন কমিটি। উদ্বোধনী ছবিটিও ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়ালে দেখানো হবে বলে জানানো হয়েছে। ফলে শুধু আনুষ্ঠানিক বক্তৃতা বা অতিথিদের উপস্থিতি নয়, উৎসবের প্রথম চলচ্চিত্র প্রদর্শনের সঙ্গেও যুক্ত হবে এই ঐতিহাসিক প্রাঙ্গণ। উদ্বোধনের আয়োজনেও তাই থাকছে নতুনত্বের ছাপ।
সাংগঠনিক স্তরেও এসেছে পরিবর্তন। উৎসবের চেয়ারম্যান হয়েছেন অভিনেতা প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়। প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্বে রয়েছেন মিঠুন চক্রবর্তী। রবিবারের অনুষ্ঠানে প্রসেনজিৎ ও মিঠুনের পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন জিৎ, রুদ্রনীল ঘোষ, হিরণ চট্টোপাধ্যায় এবং প্রশাসনের প্রতিনিধিরা। আয়োজকদের বক্তব্যে এ বার জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্তরের চলচ্চিত্র ব্যক্তিত্বদের উপস্থিতি বাড়ানোর উদ্যোগের কথাও উঠে এসেছে।
মিঠুন জানিয়েছেন, উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে রজনীকান্ত ও প্রভাসের মতো দক্ষিণী তারকাদের আসার কথা রয়েছে। সম্ভাব্য অতিথিদের তালিকায় আছেন অক্ষয়কুমার, সঞ্জয় দত্ত, পরেশ রাওয়াল, অনুপম খের, জনি লিভার এবং কঙ্গনা রানাউতও। পরিচালক অনুরাগ বসু ও মধুর ভান্ডারকরের উপস্থিতির কথাও জানানো হয়েছে। কোনও বিদেশি তারকাকে আনার চেষ্টাও চলছে। ফলে উদ্বোধনকে ঘিরে বড় তারকা সমাবেশের প্রস্তুতি স্পষ্ট।
এ বছরের ‘ফোকাস কান্ট্রি’ আয়ারল্যান্ড। অভিনেতা জিৎ এই সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন। উৎসবে আইরিশ চলচ্চিত্রের একটি নির্বাচিত সম্ভার দেখানো হবে। পাশাপাশি উৎসবের নিজস্ব পরিচিতিমূলক ছোট ছবিও তৈরি করছেন সন্দীপ রায়। প্রতিটি চলচ্চিত্র প্রদর্শনের আগে সেটি দেখানোর পরিকল্পনা রয়েছে। ওই ছবির সংগীতের দায়িত্বে রয়েছেন তালবাদ্যশিল্পী রাতুল শঙ্কর।
দর্শক ও প্রতিনিধিদের জন্যও থাকছে নতুন ব্যবস্থা। ডেলিগেট কার্ডের আবেদন অনলাইনে করার সুযোগ রাখা হচ্ছে। উৎসবের উপদেষ্টা রুদ্রনীল ঘোষ জানিয়েছেন, কারা আবেদন করতে পারবেন এবং কবে থেকে কার্ড দেওয়া হবে, তার বিস্তারিত তথ্য ৫ নভেম্বর থেকে উৎসবের সরকারি ওয়েবসাইটে পাওয়া যাবে। ফলে কার্ড সংগ্রহ করতে আগ্রহীদের ওই ঘোষণার দিকে নজর রাখতে হবে।
চলচ্চিত্র প্রদর্শনের পাশাপাশি শিল্পের বাণিজ্যিক যোগাযোগ বাড়াতেও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মিঠুন জানিয়েছেন, একটি পৃথক ‘ফিল্ম বাজার’ আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। চলচ্চিত্রের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে সহযোগিতা এবং বাজারের সুযোগ তৈরি করাই তার উদ্দেশ্য। এই আয়োজন বাস্তবায়িত হলে উৎসবের সঙ্গে চলচ্চিত্র ব্যবসার যোগাযোগের একটি বাড়তি পরিসর যুক্ত হবে।
ভবিষ্যতে উৎসবের সময়সূচি পরিবর্তনের বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে। প্রসেনজিৎ জানিয়েছেন, এ বার অল্প সময়ের মধ্যে প্রস্তুতি নিতে হচ্ছে। আসন্ন উৎসব চলাকালীনই পরবর্তী আসরের নতুন সময়সূচি ঘোষণা করা সম্ভব হবে বলে আশা করছেন তিনি। তবে এ বছরের ঘোষিত দিনক্ষণ ১৬ থেকে ২৩ ডিসেম্বরই। লোগো থেকে উদ্বোধনস্থল, অতিথিতালিকা থেকে দর্শকদের আবেদনপদ্ধতি—সব মিলিয়ে ৩২তম আসরে একাধিক পরিবর্তনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন আয়োজকেরা।
পাঠকের মন্তব্য ০
শালীন ও বিষয়ভিত্তিক আলোচনা করুন। মন্তব্য অনুমোদনের পর প্রকাশ হবে।
মন্তব্য করতে আপনার বাংলাস্ফিয়ার অ্যাকাউন্টে লগইন করুন। সদস্যতা কেনার প্রয়োজন নেই।
এখনও কোনো অনুমোদিত মন্তব্য নেই।