অতুলনীয় আলোকসজ্জা, দানবীয় প্রতিমা এবং ফরাসডাঙার সুবিশাল ঐতিহ্য—চন্দননগরের জগদ্ধাত্রী পুজোকে কেন্দ্র করে প্রতি বছর পঞ্চমী থেকে দশমী পর্যন্ত হুগলি জেলা কার্যত এক আলোকোজ্জ্বল জনসমুদ্রে পরিণত হয়। তবে সম্প্রতি কলকাতার চোরবাগান সর্বজনীন দুর্গাপুজোয় ঘটে যাওয়া মর্মান্তিক দুর্ঘটনার শিক্ষা নিয়ে এবার জগদ্ধাত্রী পুজো ঘিরে নিরাপত্তার চাদর বহুগুণ ভারী করতে চলেছে জেলা প্রশাসন ও রাজ্য সরকার। শুধু নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই নয়, পাশাপাশি বিদেশি ও দূরদূরান্তের পর্যটকদের আকর্ষণ করতে এবং প্রবীণ নাগরিকদের সুবিধার্থে একাধিক উদ্ভাবনী পদক্ষেপের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

চন্দননগরের বিধায়ক দীপাঞ্জন গুহ জানিয়েছেন, এবার জগদ্ধাত্রী পুজোকে কেন্দ্র করে রাজ্যের পর্যটন বিভাগ একটি বিশেষ ব্লু-প্রিন্ট তৈরি করেছে। দূরদূরান্ত থেকে আসা পর্যটকদের জন্য চালু করা হচ্ছে বিলাসবহুল ‘রিভার ক্রুজ’ পরিষেবা। বিশেষ পর্যটন প্যাকেজের মাধ্যমে পর্যটকেরা কলকাতার বাবুঘাট থেকে গঙ্গার হাওয়া খেয়ে সরাসরি চন্দননগর ঘাটে এসে পৌঁছবেন, প্রতিমা দর্শন শেষে পুনরায় নদীপথেই ফিরবেন। স্থানীয় যাতায়াত সুগম করতে চন্দননগর থেকে ভদ্রেশ্বর পর্যন্ত অতিরিক্ত ফেরি সার্ভিস চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে, চরম ভিড়ের কারণে যে প্রবীণ নাগরিকেরা এতদিন ইচ্ছে থাকা সত্ত্বেও মণ্ডপে পৌঁছাতে পারতেন না, তাঁদের জন্য থাকছে বিশেষ ব্যবস্থা। নির্দিষ্ট পিক-আপ পয়েন্ট থেকে বয়স্কদের সুসজ্জিত গাড়িতে করে বিভিন্ন নামী মণ্ডপে নিয়ে গিয়ে দর্শন করানোর পর আবার নিরাপদে পৌঁছে দেওয়া হবে।

বিপুল জনসমুদ্র সামলাতে এবং জরুরি স্বাস্থ্য পরিষেবা নিশ্চিত করতেও থাকছে অভাবনীয় প্রযুক্তিগত সংযোগ। চন্দননগরের সরু অলিগলিতে ভিড়ের মধ্যে সাধারণ অ্যাম্বুল্যান্স ঢোকা অত্যন্ত কঠিন হয়। সেই সমস্যা সমাধানে প্রথমবারের মতো নামানো হচ্ছে ‘বাইক অ্যাম্বুল্যান্স’। মণ্ডপপ্রাঙ্গণে কেউ অসুস্থ হয়ে পড়লে এই বাইক অ্যাম্বুল্যান্সের মাধ্যমে দ্রুত প্রাথমিক চিকিৎসা ও হাসপাতালে স্থানান্তরের ব্যবস্থা করা হবে। দর্শনার্থীদের সুবিধার জন্য একটি ডেডিকেটেড মোবাইল অ্যাপ প্রকাশ করা হচ্ছে, যেখানে পুজো মণ্ডপের অবস্থান, ট্র্যাফিক আপডেট, রুট ম্যাপ ও জরুরি হেল্পলাইন সরাসরি পাওয়া যাবে। চুঁচুড়া ও চন্দননগর হাসপাতালকে হাই-অ্যালার্টে রাখার পাশাপাশি ঐতিহ্যবাহী বিসর্জন শোভাযাত্রাতেও ড্রোন ও পুলিশ বাহিনীর কড়া নজরদারি বজায় থাকবে।