ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশত্যাগের ভিডিও ধারণ ও প্রকাশের জেরে বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা তাহসিফ সাউরিকে হত্যা করা হতে পারে বলে আগেই সন্দেহ প্রকাশ করেছিল রাষ্ট্রপক্ষ। এবার এই হত্যার পেছনে দেশি ও বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার হাত থাকতে পারে বলে নতুন সন্দেহ প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী।
মঙ্গলবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট হাসান শাহাদাতের আদালতে তাহসিফ সাউরির 'বন্ধুস্থানীয় ছোটভাই' আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপের রিমান্ড শুনানিতে এই সন্দেহের কথা জানান রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মুহাম্মদ শামছুদ্দোহা সুমন।
এর আগে, গত ৩১ অক্টোবর দীপের প্রথম দফার রিমান্ড শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আজিজুল হক দিদার আদালতে সন্দেহ প্রকাশ করেছিলেন যে, ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার পলায়নের ভিডিও ধারণ ও তা সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দেওয়ার কারণেই ভিকটিমকে খুন করা হতে পারে।
প্রথম দফার চার দিনের রিমান্ড শেষে মঙ্গলবার দীপকে আদালতে হাজির করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা, গাজীপুরের টঙ্গী নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক ফিরোজ উদ্দিন। তিনি আটটি কারণ উল্লেখ করে আরও সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন।
রিমান্ডের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী সুমন বলেন, "ঘটনাটি গত ২৭ অক্টোবরের। সেদিন সন্ধ্যা ৬টার দিকে আসামি ভিকটিমকে বাসা থেকে ডেকে নেয়। এরপর তারা নেস্ট বার অ্যান্ড রেস্টুরেন্টে যায় এবং পরে টঙ্গীর মাজার বস্তি হয়ে তুরাগ নদীর পাড়ে পৌঁছায়। সেখান থেকেই তারা আলাদা হয়ে পড়ে। একজন নদীতে পড়ে যায় এবং আসামি বাসায় ফিরে আসে।"
আইনজীবী আরও বলেন, "একজন সহকর্মী বা বন্ধু নদীতে পড়ে যাওয়ার পরও আসামির মধ্যে কোনো উৎকণ্ঠা দেখা যায়নি, বা সে বিষয়টি কাউকে জানায়নি। পরে তাকে হেফাজতে নিয়ে চার দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়। রিমান্ডে সে অস্পষ্ট তথ্য দেওয়ায় পূর্ণাঙ্গ তথ্য জানতে তাকে আরও সাত দিনের রিমান্ডে নেওয়া প্রয়োজন।"
তাহসিফের মৃত্যুর সাথে বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার সম্পৃক্ততা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে আইনজীবী সুমন বলেন, "আমরা এনায়েত করিম চৌধুরী এবং ভারতীয় নাগরিক রবিউল ইসলামকে গ্রেপ্তার করেছি। তাদের মোটিভ এবং এই আসামির দেওয়া তথ্য একই রকম মনে হচ্ছে। আমরা সন্দেহ করছি, দেশি-বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থা পরিকল্পিতভাবে এই হত্যা ঘটিয়ে থাকতে পারে।"
উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত দীপের আরও তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
উল্লেখ্য, গত ২৮ অক্টোবর বিকেলে তুরাগ নদীর রাজাবাড়ী ঘাট এলাকা থেকে তাহসিফ সাউরির ভাসমান লাশ উদ্ধার করে নৌ-পুলিশ। শেখ হাসিনার দেশত্যাগের 'ভিডিও ধারণকারী' হিসেবে তিনি পরিচিত ছিলেন।
এই ঘটনায় ওই রাতেই দীপকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গত শনিবার তার প্রথম দফার রিমান্ড মঞ্জুর হয়। পুলিশ জানিয়েছে, ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যায় দীপের ডাকে সাড়া দিয়েই তাহসিফ নিজের বাইক নিয়ে বাসা থেকে বের হন।
দীপ ২৯ অক্টোবর পুলিশকে জানিয়েছিল, রেস্তোরাঁয় একসঙ্গে খাওয়ার পর তারা উত্তরা হাউজবিল্ডিং এলাকায় আলাদা হয়ে যায়। তবে দীপের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই ৩০ অক্টোবর সকালে টঙ্গীর মাজার বস্তি এলাকা থেকে তাহসিফের বাইক উদ্ধার করা হয়। 'মাদক স্পট' হিসেবে পরিচিত ওই এলাকায় যাওয়ার কথা দীপ স্বীকার করেছে। গত শুক্রবার তাকে নিয়ে টঙ্গীর ওই এলাকা পরিদর্শন করেন পিবিআই কর্মকর্তারা।
এই মামলায় গত রোববার তাহসিফের 'বান্ধবী' জেরিকা তাসনিম দিশাকেও চার দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত। ঘটনার রাতে তাহসিফের সঙ্গে তাকে উত্তরার একটি বারে দেখা গিয়েছিল।
পাঠকের মন্তব্য ০
শালীন ও বিষয়ভিত্তিক আলোচনা করুন। মন্তব্য অনুমোদনের পর প্রকাশ হবে।
এই প্রতিবেদনে নতুন মন্তব্য গ্রহণ বন্ধ রয়েছে।
এখনও কোনো অনুমোদিত মন্তব্য নেই।