1
বাংলাস্ফিয়ার: কলকাতার এন্টালি অঞ্চলের একটি ছোট্ট ঘরে শামিম আখতার তার কাঠের টেবিলের উপর আধার কার্ড, পাসপোর্ট, বিদ্যুৎ বিলের রশিদ সাজিয়ে রাখেন — প্রতিটি কাগজ যেন তার অস্তিত্বের প্রমাণপত্র। দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি প্রতিটি নির্বাচনে ভোট দিয়েছেন। এবার তার নাম ভোটার তালিকায় নেই। “কেউ বলছে না কেন,” তিনি বলেন। “গত বছর যদি ভোটার ছিলাম, এ বছর কীভাবে নেই? আমার স্ত্রীর নাম আছে, কিন্তু আমার নাম নেই — এটা কীভাবে সম্ভব?” শামিমের এই প্রশ্নটি শুধু একজন মানুষের ব্যক্তিগত অসহায়তার কথা নয়। এটি ২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের সবচেয়ে জ্বলন্ত প্রশ্নের দিকে আঙুল তোলে: ভারতের নির্বাচন কমিশন কি সত্যিই এই রাজ্যে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ ভোট নিশ্চিত করতে পারবে? নাকি পঞ্চাশ বছরের রাজনৈতিক সহিংসতা ও প্রশাসনিক পক্ষপাতের ইতিহাস এত গভীরে প্রোথিত যে একটি নির্বাচনী কাঠামো দিয়ে তা বদলানো সম্ভব নয়?
এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে হলে ১৯৭২ সালে ফিরে যেতে হয়। সেই বিধানসভা নির্বাচনে কংগ্রেস দুটি বিরোধী জোট সরকারের পর আবার ক্ষমতায় ফেরে। কিন্তু সেই জয়ের পেছনে ছিল পেশিশক্তি, বিরোধী কর্মীদের এলাকা থেকে তাড়ানো, পুলিশ ও ভাড়াটে বাহিনী ব্যবহার করে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম এবং ব্যাপক কারচুপি। ১৯৭২ থেকে ১৯৭৭ সাল পর্যন্ত কংগ্রেসের সম্পূর্ণ আধিপত্যে রাজ্যে রাজনৈতিক বিরোধিতার কোনো স্থান ছিল না। সিপিআই(এম) ও তার মিত্ররা নির্বাচনের ফলাফল প্রত্যাখ্যান করে এবং বলে ১৭২টি কেন্দ্রে ভোট অবাধ ও সুষ্ঠু হয়নি। তারা কংগ্রেসের বিরুদ্ধে “আধা-ফ্যাসিস্ট সন্ত্রাস” চালানোর অভিযোগ আনে। ১৯৭৭ সালে সিপিআই(এম) নেতৃত্বাধীন বামফ্রন্ট ক্ষমতায় এলে ছবিটা বদলায়নি, শুধু অভিনেতারা বদলেছে। গ্রামীণ সংস্কারের পাশাপাশি বিরোধীদের দমনে সংগঠিত পন্থায় সহিংসতার নতুন ধারা তৈরি হয়। বামফ্রন্টের ৩৪ বছরের শাসনে বুথ দখল, প্রক্সি ভোট, বিরোধী ভোটারদের ভয় দেখিয়ে ঘরে রাখা — এই সংস্কৃতি রাজ্যের নির্বাচনী রাজনীতির অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ হয়ে যায়। পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক সহিংসতা দেশের অন্যান্য রাজ্য থেকে আলাদা — এখানে সামাজিক-সাংস্কৃতিক বা অর্থনৈতিক কারণ অনেকটাই গৌণ, রাজনৈতিক আধিপত্য এবং মেরুকরণই মূল চালিকাশক্তি। ২০১১ সালে তৃণমূল কংগ্রেস বামফ্রন্টকে সরিয়ে ক্ষমতায় আসে। কিন্তু সহিংসতার চরিত্র বদলায়নি। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচন, ২০২৩ সালের পঞ্চায়েত ভোট এবং ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচন — প্রতিটিতেই ভোটের আগে, ভোটের দিন এবং ভোটের পরে রাজনৈতিক সংঘর্ষ ঘটেছে।
এই পটভূমিতে ২০২৬ সালের ভোটের আয়োজন দেখলে বোঝা যায় নির্বাচন কমিশন অন্তত কাগজে-কলমে একটি অভূতপূর্ব কাঠামো তৈরি করেছে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক এবং নির্বাচন কমিশনের সমন্বয়ে দুটি পর্যায়ে ২৪০ করে মোট ৪৮০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় আধাসামরিক বাহিনী মোতায়েন করা হচ্ছে। ভোটের ফলাফলের পরেও উদ্বেগের কথা মাথায় রেখে কমিশন সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে ৫০০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী গণনা শেষ হওয়ার পরেও রাজ্যে থাকবে। গত বিধানসভা নির্বাচনের পর যে ভোট-পরবর্তী সহিংসতা হয়েছিল, সেটাকেই এই সিদ্ধান্তের কারণ হিসেবে জানানো হয়েছে। ইভিএম ও স্ট্রং রুম পাহারায় অতিরিক্ত ২০০ কোম্পানি মোতায়েন থাকবে। প্রযুক্তির দিক থেকেও এবার একটি বড় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এই প্রথমবারের মতো রাজ্যের সব বুথ থেকে ১০০ শতাংশ লাইভ ওয়েবকাস্টিংয়ের ঘোষণা করা হয়েছে, যার মাধ্যমে প্রতিটি বুথের ভেতরের পরিস্থিতি সরাসরি পর্যবেক্ষণ সম্ভব হবে। প্রতিটি বিধানসভা কেন্দ্রের জন্য একজন করে সাধারণ পর্যবেক্ষক নিয়োগ করা হয়েছে। ECI নির্দেশ দিয়েছে প্রতিটি বুথে মোবাইল, স্যাটেলাইট ও ওয়্যারলেস যোগাযোগব্যবস্থা স্থাপন করতে। মক পোল বাধ্যতামূলক করা হয়েছে এবং ভোটের আগে ইভিএম ও VVPAT পরীক্ষা করতে হবে।
প্রশাসনিক স্তরে কমিশনের হস্তক্ষেপ আরও গভীরে গেছে। ভোটের তারিখ ঘোষণার পরপরই নির্বাচন কমিশন রাজ্যের মুখ্যসচিব পদে রদবদল করে নন্দিনী চক্রবর্তীর বদলে দুষ্যন্ত নারায়ালাকে বসানোর নির্দেশ দিয়েছে এবং স্বরাষ্ট্র বিভাগের মুখ্যসচিব পদেও নতুন কর্মকর্তা নিয়োগ হয়েছে। সারা রাজ্যে ১৭৩ জন পুলিশ অফিসার বদলি করা হয়েছে। ভবানীপুর ও নন্দীগ্রামের মতো গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রের দায়িত্বরত অফিসারদেরও সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তারপরও কমিশন থামেনি। কলকাতা পুলিশসহ একাধিক সংবেদনশীল জেলার আরও ১২ জন উচ্চপদস্থ IPS অফিসারকে বদলির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কমিশন রাজ্য সরকারকে প্রতিটি শূন্যপদের বিপরীতে তিনটি করে নাম পাঠাতে বলেছে এবং কমিশন নিজেই প্রতিস্থাপনকারী বেছে নেবে। এই গণহার বদলির বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করা হয়েছিল। আবেদনকারীর বক্তব্য ছিল যে কমিশন মুখ্যসচিব, পুলিশের ডিজি, স্বরাষ্ট্রসচিব, জেলাশাসক ও পুলিশ সুপারসহ রাজ্যের প্রশাসনিক কাঠামো সম্পূর্ণভাবে ভেঙে ফেলেছে। কিন্তু প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বে বেঞ্চ হস্তক্ষেপ করতে অস্বীকার করে বলেছে: “সব জায়গায় এটা হয়। এই প্রথম নয়।” তবে আদালত এই প্রশ্নটি খোলা রেখেছে যে এই ধরনের বদলির আগে কমিশনকে রাজ্য সরকারের সঙ্গে পরামর্শ করতে হবে কিনা।
নির্বাচন কমিশন রাজ্যের ২০০টিরও বেশি এলাকাকে সহিংসতাপ্রবণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে এবং জেলাশাসক, পুলিশ সুপার ও পুলিশ কমিশনারদের এই এলাকা পরিদর্শন করে আস্থা তৈরির ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছে। কোচবিহার, মালদা, উত্তর দিনাজপুর এবং দার্জিলিংয়ে বারবার সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে এবং দার্জিলিংয়ে ২০২৪ সালে প্রায় ২০ শতাংশ বুথকে সংবেদনশীল হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল। ECI একটি ২৪/৭ টোল-ফ্রি হেল্পলাইন ও একটি ই-মেইল চালু করেছে এবং মুখ্য নির্বাচন আধিকারিক জানিয়েছেন যে সমস্ত অভিযোগ সরাসরি CEC অফিসে যাবে এবং দ্রুততার সাথে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ভোটের পর্যায় সংখ্যার বিষয়েও একটি বড় পরিবর্তন এসেছে। ২০২১ সালে করোনার আবহে আটটি পর্যায়ে ভোট হয়েছিল। এবার কমিশন সেটাকে কমিয়ে দুটি পর্যায়ে এনেছে — ২৩ এবং ২৯ এপ্রিল। কমিশন বলেছে এতে সহিংসতার প্রবণতা কমবে এবং ভোটারদের সুবিধা হবে। ভোটের ফলাফল ঘোষণা হবে ৪ মে।
কিন্তু এত ব্যবস্থার পরেও ২০২৬ সালের নির্বাচনের সবচেয়ে বড় প্রশ্ন চিহ্নটা রয়ে গেছে ভোটার তালিকার উপর। এবং এই বিতর্কই বুঝিয়ে দেয় যে অবাধ ও সুষ্ঠু ভোট শুধু বুথের দিনের ঘটনার উপর নির্ভর করে না — ভোটের অনেক আগেই তার ভিত্তি তৈরি হয় বা ধ্বংস হয়। Special Intensive Revision বা এসআইআর-এর মাধ্যমে রাজ্যের ৭.৬৬ কোটি ভোটারের তালিকা থেকে প্রায় ৯১ লক্ষ নাম মুছে ফেলা হয়েছে — ভোটার ভিত্তি প্রায় ১২ শতাংশ কমে ৬.৭৫ কোটিতে নেমেছে। প্রথম পর্যায়ে “অনুপস্থিত, স্থানান্তরিত, মৃত বা ডুপ্লিকেট” শ্রেণিতে প্রায় ৫৮ লক্ষ নাম কাটা হয় এবং বিচারিক “লজিক্যাল ডিসক্রেপান্সি” প্রক্রিয়ায় আরও ২৭ লক্ষ নাম মুছে ফেলা হয়।
এই ঘটনার মাত্রা বুঝতে গেলে তুলনামূলক প্রেক্ষাপট দরকার। রাজনৈতিক বিশ্লেষক যোগেন্দ্র যাদব বলেছেন, বাংলায় যেটা অনন্য সেটা হলো যারা তালিকায় থাকার জন্য আবেদন করেছিলেন, তাদেরও ব্যাপক মাত্রায় কেটে ফেলা হয়েছে। অন্যত্র যেমন গুজরাটে ১.২ কোটি বা মধ্যপ্রদেশে ৩ কোটি “লজিক্যাল ডিসক্রেপান্সি” ছিল, কিন্তু সেখানে খুব কম ক্ষেত্রে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বাংলায় ১.২ কোটি ডিসক্রেপান্সির মধ্যে ৬০ লক্ষ ক্ষেত্রে বিশেষ তদন্ত শুরু হয়েছে। ভৌগোলিক বিন্যাসটিও উদ্বেগজনক। মুর্শিদাবাদে ৪.৬ লক্ষ, উত্তর ২৪ পরগনায় ৩.৩ লক্ষ এবং মালদায় ২.৪ লক্ষ নাম মোছা গেছে। বিশ্লেষকরা দেখিয়েছেন মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ এলাকায় মুছে যাওয়া নামের হার অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে বেশি। কিন্তু তথ্য এত সহজে একদিকে পড়ে না। পরবর্তী তদন্তের ঢেউয়ে সংখ্যালঘু ও হিন্দু উভয় সম্প্রদায়ই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। মতুয়া-অধ্যুষিত উত্তর ২৪ পরগনা ও নদীয়াতেও ব্যাপক মুছে ফেলার ঘটনা ঘটেছে। বাংলাদেশ থেকে হিন্দু অভিবাসী যারা শিল্পাঞ্চলে কাজের জন্য এসেছিলেন, তারাও “স্থানান্তরিত” শ্রেণিতে পড়ে গেছেন।
এই বিতর্কে দুটি প্রধান দলের দুটি সম্পূর্ণ বিপরীত বয়ান। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বারবার অভিযোগ করেছেন যে নির্বাচন কমিশন বিজেপি-র পক্ষে কাজ করছে এবং এসআইআর প্রক্রিয়াটি তৃণমূলের ভোটারদের লক্ষ্য করে চালানো হয়েছে। বিজেপি পাল্টা বলেছে যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শাসনে সহিংসতামুক্ত ও ভয়মুক্ত নির্বাচন আদৌ সম্ভব নয়। বিজেপির এক সংগঠনিক নেতা বলেছেন বর্তমান তৃণমূল সরকারের অবস্থা তার শেষ পর্যায়ের বাম সরকারের মতো — পার্থক্য হলো বামেদের সাংগঠনিক কাঠামো ছিল, আর তৃণমূল নির্ভর করছে স্থানীয় দাপটি মাস্তানদের নেটওয়ার্কের উপর। স্বাধীন পর্যবেক্ষকরাও নিশ্চুপ নন। কলকাতার SABAR Institute জানিয়েছে যে ভোটার তালিকা পুনর্বিবেচনার প্রক্রিয়া সাধারণত এক-দু বছর ধরে চলে, কিন্তু এবার বাংলায় তাড়াহুড়া করা হয়েছে এবং রাতের মধ্যে তালিকা প্রকাশিত হয়েছে। সুপ্রিম কোর্ট এই প্রক্রিয়ায় আর্টিকেল ১৪২ ব্যবহার করে একটি বিশেষ ব্যবস্থা তৈরি করেছে, কিন্তু পরে আপিলের সুযোগ দেওয়া হলেও ততক্ষণে তালিকা চূড়ান্ত হয়ে গিয়েছিল।
কলকাতার সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী গৌরব ঘোষ, যিনি ২০০৯ থেকে ভোট দিয়ে আসছেন, তাঁর নামও চূড়ান্ত তালিকায় নেই। “শুধু একটি তালিকায় নাম না থাকার বিষয় নয়,” তিনি বলেছেন, “মনে হচ্ছে নীরবে মুছে দেওয়া হচ্ছে। যদি আমার মতো নথিপত্রসম্পন্ন একজনের ক্ষেত্রে এটা হতে পারে, তাহলে যারা আরও দুর্বল তাদের কী অবস্থা?” এই ব্যক্তিগত ক্ষতির রাজনৈতিক ফলাফল সুদূরপ্রসারী হতে পারে। ২০২১ সালে তৃণমূল কংগ্রেস বিজেপিকে প্রায় ৬০ লক্ষ ভোটে পরাজিত করেছিল, ২০২৪ লোকসভায় সেই ব্যবধান কমে দাঁড়িয়েছে ৪২ লক্ষে। ২০২১ সালেই সাতটি কেন্দ্রে জয়ের ব্যবধান ছিল ১,০০০-এর নিচে, আরও ৩৬টি কেন্দ্রে ৫,০০০-এর নিচে। এই সামান্য ব্যবধানের রাজনীতিতে কয়েক লক্ষ ভোটারের নাম তালিকায় থাকা না থাকার প্রশ্নটা শুধু প্রশাসনিক নয় — অস্তিত্বগত।
পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনী ইতিহাস পাঠ করলে একটা প্যাটার্ন বারবার দেখা যায়: প্রতিটি নির্বাচনের আগে ঢাকঢোল পিটিয়ে বলা হয় এবার ব্যতিক্রম হবে। এবং প্রতিবারই বুথের ভেতরে ও বাইরে কোনো না কোনো রূপে কারচুপি ও সহিংসতার অভিযোগ ওঠে। একদিকে, কমিশনের প্রযুক্তিগত সরঞ্জাম, কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিশাল উপস্থিতি এবং প্রশাসনিক রদবদল — এগুলো নিঃসন্দেহে আগের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী ব্যবস্থা। কিন্তু এমন একটি রাজ্যে যেখানে রাজনৈতিক আধিপত্যই সব ধরনের সহিংসতার মূল কারণ , বুথের সামনে কেন্দ্রীয় বাহিনী থাকলেও পাড়ার গলিতে বা রাতের অন্ধকারে যা ঘটে তা নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা কমিশনের সীমাবদ্ধ। আর SIR-এর মাধ্যমে যদি আগেই নির্দিষ্ট কিছু ভোটারের নাম মুছে ফেলা হয়ে থাকে, তাহলে বুথে কেন্দ্রীয় বাহিনী দিয়ে কী লাভ?
মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার বলেছেন: “নির্বাচন কমিশনের একমাত্র অগ্রাধিকার হলো অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করা।” এই কথাটা ভালো। কিন্তু ইতিহাস শেখায়, প্রতিষ্ঠানের নিরপেক্ষতা শুধু ঘোষণায় প্রমাণ হয় না।
শামিম আখতার তার কাঠের টেবিল গুছিয়ে ট্রাইব্যুনালের দিকে হাঁটা দেন। তার কাগজগুলো এখনও তার হাতে। “আমরা আর কিছু চাই না,” তিনি বলেন। “শুধু ভোট দিতে চাই।” তারপর একটু থেমে যোগ করেন: “ভোট দেওয়া মানে নিজের অস্তিত্ব প্রমাণ করা।” পশ্চিমবঙ্গের ভোটের ইতিহাসে ১৯৭২ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত যে ক্ষতগুলো জমে উঠেছে, সেগুলো সহজে শুকাবে না। ২০২৬-এর বাংলার ভোট কি সত্যিই আলাদা হবে? উত্তরটা লেখা হবে ২৩ এবং ২৯ এপ্রিলের সেই নির্ধারক মুহূর্তগুলোয় — যখন কোটি মানুষ নিজের অস্তিত্বের প্রমাণ নিয়ে বুথের দিকে হাঁটবেন।
এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে হলে ১৯৭২ সালে ফিরে যেতে হয়। সেই বিধানসভা নির্বাচনে কংগ্রেস দুটি বিরোধী জোট সরকারের পর আবার ক্ষমতায় ফেরে। কিন্তু সেই জয়ের পেছনে ছিল পেশিশক্তি, বিরোধী কর্মীদের এলাকা থেকে তাড়ানো, পুলিশ ও ভাড়াটে বাহিনী ব্যবহার করে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম এবং ব্যাপক কারচুপি। ১৯৭২ থেকে ১৯৭৭ সাল পর্যন্ত কংগ্রেসের সম্পূর্ণ আধিপত্যে রাজ্যে রাজনৈতিক বিরোধিতার কোনো স্থান ছিল না। সিপিআই(এম) ও তার মিত্ররা নির্বাচনের ফলাফল প্রত্যাখ্যান করে এবং বলে ১৭২টি কেন্দ্রে ভোট অবাধ ও সুষ্ঠু হয়নি। তারা কংগ্রেসের বিরুদ্ধে “আধা-ফ্যাসিস্ট সন্ত্রাস” চালানোর অভিযোগ আনে। ১৯৭৭ সালে সিপিআই(এম) নেতৃত্বাধীন বামফ্রন্ট ক্ষমতায় এলে ছবিটা বদলায়নি, শুধু অভিনেতারা বদলেছে। গ্রামীণ সংস্কারের পাশাপাশি বিরোধীদের দমনে সংগঠিত পন্থায় সহিংসতার নতুন ধারা তৈরি হয়। বামফ্রন্টের ৩৪ বছরের শাসনে বুথ দখল, প্রক্সি ভোট, বিরোধী ভোটারদের ভয় দেখিয়ে ঘরে রাখা — এই সংস্কৃতি রাজ্যের নির্বাচনী রাজনীতির অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ হয়ে যায়। পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক সহিংসতা দেশের অন্যান্য রাজ্য থেকে আলাদা — এখানে সামাজিক-সাংস্কৃতিক বা অর্থনৈতিক কারণ অনেকটাই গৌণ, রাজনৈতিক আধিপত্য এবং মেরুকরণই মূল চালিকাশক্তি। ২০১১ সালে তৃণমূল কংগ্রেস বামফ্রন্টকে সরিয়ে ক্ষমতায় আসে। কিন্তু সহিংসতার চরিত্র বদলায়নি। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচন, ২০২৩ সালের পঞ্চায়েত ভোট এবং ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচন — প্রতিটিতেই ভোটের আগে, ভোটের দিন এবং ভোটের পরে রাজনৈতিক সংঘর্ষ ঘটেছে।
এই পটভূমিতে ২০২৬ সালের ভোটের আয়োজন দেখলে বোঝা যায় নির্বাচন কমিশন অন্তত কাগজে-কলমে একটি অভূতপূর্ব কাঠামো তৈরি করেছে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক এবং নির্বাচন কমিশনের সমন্বয়ে দুটি পর্যায়ে ২৪০ করে মোট ৪৮০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় আধাসামরিক বাহিনী মোতায়েন করা হচ্ছে। ভোটের ফলাফলের পরেও উদ্বেগের কথা মাথায় রেখে কমিশন সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে ৫০০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী গণনা শেষ হওয়ার পরেও রাজ্যে থাকবে। গত বিধানসভা নির্বাচনের পর যে ভোট-পরবর্তী সহিংসতা হয়েছিল, সেটাকেই এই সিদ্ধান্তের কারণ হিসেবে জানানো হয়েছে। ইভিএম ও স্ট্রং রুম পাহারায় অতিরিক্ত ২০০ কোম্পানি মোতায়েন থাকবে। প্রযুক্তির দিক থেকেও এবার একটি বড় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এই প্রথমবারের মতো রাজ্যের সব বুথ থেকে ১০০ শতাংশ লাইভ ওয়েবকাস্টিংয়ের ঘোষণা করা হয়েছে, যার মাধ্যমে প্রতিটি বুথের ভেতরের পরিস্থিতি সরাসরি পর্যবেক্ষণ সম্ভব হবে। প্রতিটি বিধানসভা কেন্দ্রের জন্য একজন করে সাধারণ পর্যবেক্ষক নিয়োগ করা হয়েছে। ECI নির্দেশ দিয়েছে প্রতিটি বুথে মোবাইল, স্যাটেলাইট ও ওয়্যারলেস যোগাযোগব্যবস্থা স্থাপন করতে। মক পোল বাধ্যতামূলক করা হয়েছে এবং ভোটের আগে ইভিএম ও VVPAT পরীক্ষা করতে হবে।
প্রশাসনিক স্তরে কমিশনের হস্তক্ষেপ আরও গভীরে গেছে। ভোটের তারিখ ঘোষণার পরপরই নির্বাচন কমিশন রাজ্যের মুখ্যসচিব পদে রদবদল করে নন্দিনী চক্রবর্তীর বদলে দুষ্যন্ত নারায়ালাকে বসানোর নির্দেশ দিয়েছে এবং স্বরাষ্ট্র বিভাগের মুখ্যসচিব পদেও নতুন কর্মকর্তা নিয়োগ হয়েছে। সারা রাজ্যে ১৭৩ জন পুলিশ অফিসার বদলি করা হয়েছে। ভবানীপুর ও নন্দীগ্রামের মতো গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রের দায়িত্বরত অফিসারদেরও সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তারপরও কমিশন থামেনি। কলকাতা পুলিশসহ একাধিক সংবেদনশীল জেলার আরও ১২ জন উচ্চপদস্থ IPS অফিসারকে বদলির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কমিশন রাজ্য সরকারকে প্রতিটি শূন্যপদের বিপরীতে তিনটি করে নাম পাঠাতে বলেছে এবং কমিশন নিজেই প্রতিস্থাপনকারী বেছে নেবে। এই গণহার বদলির বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করা হয়েছিল। আবেদনকারীর বক্তব্য ছিল যে কমিশন মুখ্যসচিব, পুলিশের ডিজি, স্বরাষ্ট্রসচিব, জেলাশাসক ও পুলিশ সুপারসহ রাজ্যের প্রশাসনিক কাঠামো সম্পূর্ণভাবে ভেঙে ফেলেছে। কিন্তু প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বে বেঞ্চ হস্তক্ষেপ করতে অস্বীকার করে বলেছে: “সব জায়গায় এটা হয়। এই প্রথম নয়।” তবে আদালত এই প্রশ্নটি খোলা রেখেছে যে এই ধরনের বদলির আগে কমিশনকে রাজ্য সরকারের সঙ্গে পরামর্শ করতে হবে কিনা।
নির্বাচন কমিশন রাজ্যের ২০০টিরও বেশি এলাকাকে সহিংসতাপ্রবণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে এবং জেলাশাসক, পুলিশ সুপার ও পুলিশ কমিশনারদের এই এলাকা পরিদর্শন করে আস্থা তৈরির ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছে। কোচবিহার, মালদা, উত্তর দিনাজপুর এবং দার্জিলিংয়ে বারবার সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে এবং দার্জিলিংয়ে ২০২৪ সালে প্রায় ২০ শতাংশ বুথকে সংবেদনশীল হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল। ECI একটি ২৪/৭ টোল-ফ্রি হেল্পলাইন ও একটি ই-মেইল চালু করেছে এবং মুখ্য নির্বাচন আধিকারিক জানিয়েছেন যে সমস্ত অভিযোগ সরাসরি CEC অফিসে যাবে এবং দ্রুততার সাথে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ভোটের পর্যায় সংখ্যার বিষয়েও একটি বড় পরিবর্তন এসেছে। ২০২১ সালে করোনার আবহে আটটি পর্যায়ে ভোট হয়েছিল। এবার কমিশন সেটাকে কমিয়ে দুটি পর্যায়ে এনেছে — ২৩ এবং ২৯ এপ্রিল। কমিশন বলেছে এতে সহিংসতার প্রবণতা কমবে এবং ভোটারদের সুবিধা হবে। ভোটের ফলাফল ঘোষণা হবে ৪ মে।
কিন্তু এত ব্যবস্থার পরেও ২০২৬ সালের নির্বাচনের সবচেয়ে বড় প্রশ্ন চিহ্নটা রয়ে গেছে ভোটার তালিকার উপর। এবং এই বিতর্কই বুঝিয়ে দেয় যে অবাধ ও সুষ্ঠু ভোট শুধু বুথের দিনের ঘটনার উপর নির্ভর করে না — ভোটের অনেক আগেই তার ভিত্তি তৈরি হয় বা ধ্বংস হয়। Special Intensive Revision বা এসআইআর-এর মাধ্যমে রাজ্যের ৭.৬৬ কোটি ভোটারের তালিকা থেকে প্রায় ৯১ লক্ষ নাম মুছে ফেলা হয়েছে — ভোটার ভিত্তি প্রায় ১২ শতাংশ কমে ৬.৭৫ কোটিতে নেমেছে। প্রথম পর্যায়ে “অনুপস্থিত, স্থানান্তরিত, মৃত বা ডুপ্লিকেট” শ্রেণিতে প্রায় ৫৮ লক্ষ নাম কাটা হয় এবং বিচারিক “লজিক্যাল ডিসক্রেপান্সি” প্রক্রিয়ায় আরও ২৭ লক্ষ নাম মুছে ফেলা হয়।
এই ঘটনার মাত্রা বুঝতে গেলে তুলনামূলক প্রেক্ষাপট দরকার। রাজনৈতিক বিশ্লেষক যোগেন্দ্র যাদব বলেছেন, বাংলায় যেটা অনন্য সেটা হলো যারা তালিকায় থাকার জন্য আবেদন করেছিলেন, তাদেরও ব্যাপক মাত্রায় কেটে ফেলা হয়েছে। অন্যত্র যেমন গুজরাটে ১.২ কোটি বা মধ্যপ্রদেশে ৩ কোটি “লজিক্যাল ডিসক্রেপান্সি” ছিল, কিন্তু সেখানে খুব কম ক্ষেত্রে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বাংলায় ১.২ কোটি ডিসক্রেপান্সির মধ্যে ৬০ লক্ষ ক্ষেত্রে বিশেষ তদন্ত শুরু হয়েছে। ভৌগোলিক বিন্যাসটিও উদ্বেগজনক। মুর্শিদাবাদে ৪.৬ লক্ষ, উত্তর ২৪ পরগনায় ৩.৩ লক্ষ এবং মালদায় ২.৪ লক্ষ নাম মোছা গেছে। বিশ্লেষকরা দেখিয়েছেন মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ এলাকায় মুছে যাওয়া নামের হার অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে বেশি। কিন্তু তথ্য এত সহজে একদিকে পড়ে না। পরবর্তী তদন্তের ঢেউয়ে সংখ্যালঘু ও হিন্দু উভয় সম্প্রদায়ই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। মতুয়া-অধ্যুষিত উত্তর ২৪ পরগনা ও নদীয়াতেও ব্যাপক মুছে ফেলার ঘটনা ঘটেছে। বাংলাদেশ থেকে হিন্দু অভিবাসী যারা শিল্পাঞ্চলে কাজের জন্য এসেছিলেন, তারাও “স্থানান্তরিত” শ্রেণিতে পড়ে গেছেন।
এই বিতর্কে দুটি প্রধান দলের দুটি সম্পূর্ণ বিপরীত বয়ান। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বারবার অভিযোগ করেছেন যে নির্বাচন কমিশন বিজেপি-র পক্ষে কাজ করছে এবং এসআইআর প্রক্রিয়াটি তৃণমূলের ভোটারদের লক্ষ্য করে চালানো হয়েছে। বিজেপি পাল্টা বলেছে যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শাসনে সহিংসতামুক্ত ও ভয়মুক্ত নির্বাচন আদৌ সম্ভব নয়। বিজেপির এক সংগঠনিক নেতা বলেছেন বর্তমান তৃণমূল সরকারের অবস্থা তার শেষ পর্যায়ের বাম সরকারের মতো — পার্থক্য হলো বামেদের সাংগঠনিক কাঠামো ছিল, আর তৃণমূল নির্ভর করছে স্থানীয় দাপটি মাস্তানদের নেটওয়ার্কের উপর। স্বাধীন পর্যবেক্ষকরাও নিশ্চুপ নন। কলকাতার SABAR Institute জানিয়েছে যে ভোটার তালিকা পুনর্বিবেচনার প্রক্রিয়া সাধারণত এক-দু বছর ধরে চলে, কিন্তু এবার বাংলায় তাড়াহুড়া করা হয়েছে এবং রাতের মধ্যে তালিকা প্রকাশিত হয়েছে। সুপ্রিম কোর্ট এই প্রক্রিয়ায় আর্টিকেল ১৪২ ব্যবহার করে একটি বিশেষ ব্যবস্থা তৈরি করেছে, কিন্তু পরে আপিলের সুযোগ দেওয়া হলেও ততক্ষণে তালিকা চূড়ান্ত হয়ে গিয়েছিল।
কলকাতার সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী গৌরব ঘোষ, যিনি ২০০৯ থেকে ভোট দিয়ে আসছেন, তাঁর নামও চূড়ান্ত তালিকায় নেই। “শুধু একটি তালিকায় নাম না থাকার বিষয় নয়,” তিনি বলেছেন, “মনে হচ্ছে নীরবে মুছে দেওয়া হচ্ছে। যদি আমার মতো নথিপত্রসম্পন্ন একজনের ক্ষেত্রে এটা হতে পারে, তাহলে যারা আরও দুর্বল তাদের কী অবস্থা?” এই ব্যক্তিগত ক্ষতির রাজনৈতিক ফলাফল সুদূরপ্রসারী হতে পারে। ২০২১ সালে তৃণমূল কংগ্রেস বিজেপিকে প্রায় ৬০ লক্ষ ভোটে পরাজিত করেছিল, ২০২৪ লোকসভায় সেই ব্যবধান কমে দাঁড়িয়েছে ৪২ লক্ষে। ২০২১ সালেই সাতটি কেন্দ্রে জয়ের ব্যবধান ছিল ১,০০০-এর নিচে, আরও ৩৬টি কেন্দ্রে ৫,০০০-এর নিচে। এই সামান্য ব্যবধানের রাজনীতিতে কয়েক লক্ষ ভোটারের নাম তালিকায় থাকা না থাকার প্রশ্নটা শুধু প্রশাসনিক নয় — অস্তিত্বগত।
পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনী ইতিহাস পাঠ করলে একটা প্যাটার্ন বারবার দেখা যায়: প্রতিটি নির্বাচনের আগে ঢাকঢোল পিটিয়ে বলা হয় এবার ব্যতিক্রম হবে। এবং প্রতিবারই বুথের ভেতরে ও বাইরে কোনো না কোনো রূপে কারচুপি ও সহিংসতার অভিযোগ ওঠে। একদিকে, কমিশনের প্রযুক্তিগত সরঞ্জাম, কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিশাল উপস্থিতি এবং প্রশাসনিক রদবদল — এগুলো নিঃসন্দেহে আগের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী ব্যবস্থা। কিন্তু এমন একটি রাজ্যে যেখানে রাজনৈতিক আধিপত্যই সব ধরনের সহিংসতার মূল কারণ , বুথের সামনে কেন্দ্রীয় বাহিনী থাকলেও পাড়ার গলিতে বা রাতের অন্ধকারে যা ঘটে তা নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা কমিশনের সীমাবদ্ধ। আর SIR-এর মাধ্যমে যদি আগেই নির্দিষ্ট কিছু ভোটারের নাম মুছে ফেলা হয়ে থাকে, তাহলে বুথে কেন্দ্রীয় বাহিনী দিয়ে কী লাভ?
মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার বলেছেন: “নির্বাচন কমিশনের একমাত্র অগ্রাধিকার হলো অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করা।” এই কথাটা ভালো। কিন্তু ইতিহাস শেখায়, প্রতিষ্ঠানের নিরপেক্ষতা শুধু ঘোষণায় প্রমাণ হয় না।
শামিম আখতার তার কাঠের টেবিল গুছিয়ে ট্রাইব্যুনালের দিকে হাঁটা দেন। তার কাগজগুলো এখনও তার হাতে। “আমরা আর কিছু চাই না,” তিনি বলেন। “শুধু ভোট দিতে চাই।” তারপর একটু থেমে যোগ করেন: “ভোট দেওয়া মানে নিজের অস্তিত্ব প্রমাণ করা।” পশ্চিমবঙ্গের ভোটের ইতিহাসে ১৯৭২ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত যে ক্ষতগুলো জমে উঠেছে, সেগুলো সহজে শুকাবে না। ২০২৬-এর বাংলার ভোট কি সত্যিই আলাদা হবে? উত্তরটা লেখা হবে ২৩ এবং ২৯ এপ্রিলের সেই নির্ধারক মুহূর্তগুলোয় — যখন কোটি মানুষ নিজের অস্তিত্বের প্রমাণ নিয়ে বুথের দিকে হাঁটবেন।