7
Table of Contents
বাংলাস্ফিয়ার: পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা ভোটের প্রথম দফা শুরু হওয়ার মাত্র তিন দিন বাকি। কিন্তু যাঁরা ভোট পরিচালনার দায়িত্বে থাকবেন, সেই সরকারি কর্মচারীরাই এখন নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারছেন না বলে অভিযোগ উঠছে রাজ্যের একাধিক জেলা থেকে। পোস্টাল ব্যালটে ভোট দিতে গিয়ে হেনস্থার শিকার হচ্ছেন তাঁরা। কোথাও ভোটার তালিকা থেকে নাম মুছে দেওয়া হয়েছে, কোথাও শাসকদলের ছত্রছায়ায় পরিচালিত গুন্ডারা প্রত্যক্ষ চাপ সৃষ্টি করছে বলে সরকারি কর্মীরা অভিযোগ করছেন।
শিলিগুড়িতে প্রতিবাদে ফেটে পড়লেন ভোটকর্মীরা
মাটিগড়া–নকশালবাড়ি কেন্দ্রের পোলিং কর্মীরা প্রশিক্ষণ শিবিরে তৃতীয় দফার অধিবেশন সমাপ্ত করার পরে পোস্টাল ব্যালটে ভোট দিতে বসেন। কিন্তু তখন অনেকে দেখতে পান যে, সমস্ত প্রয়োজনীয় নথি জমা দেওয়া সত্ত্বেও তাঁদের নাম ভোটারদের তালিকায় নেই। ক্ষুব্ধ ভোটকর্মীরা প্রতিবাদে বসে পড়েন এবং সাফ জানিয়ে দেন, ভোটাধিকার না পেলে তাঁরা ভোটের দিন ডিউটিতে যাবেন না।
ভোটকর্মী বিথিকা দত্ত বলেন, “এসআইআর প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পরেও আমার নাম ভোটার তালিকায় ছিল।” তা সত্ত্বেও পোস্টাল ব্যালটের সময় তাঁর নাম উধাও।
এই পরিস্থিতিতে ঘটনাস্থলে আসেন তৃণমূলের প্রার্থী তথা শিলিগুড়ির মেয়র গৌতম দেব এবং বিজেপি প্রার্থী শঙ্কর ঘোষ। গৌতম দেব অভিযোগ করেন যে নাম মুছে দেওয়ার ঘটনা পরিকল্পিত, এবং এর পেছনে বিজেপির হাত রয়েছে। নির্বাচন কমিশন আশ্বাস দেয় যে সমস্যাটি যত তাড়াতাড়ি সম্ভব সমাধান করা হবে।
ভোটকর্মী বিথিকা দত্ত বলেন, “এসআইআর প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পরেও আমার নাম ভোটার তালিকায় ছিল।” তা সত্ত্বেও পোস্টাল ব্যালটের সময় তাঁর নাম উধাও।
এই পরিস্থিতিতে ঘটনাস্থলে আসেন তৃণমূলের প্রার্থী তথা শিলিগুড়ির মেয়র গৌতম দেব এবং বিজেপি প্রার্থী শঙ্কর ঘোষ। গৌতম দেব অভিযোগ করেন যে নাম মুছে দেওয়ার ঘটনা পরিকল্পিত, এবং এর পেছনে বিজেপির হাত রয়েছে। নির্বাচন কমিশন আশ্বাস দেয় যে সমস্যাটি যত তাড়াতাড়ি সম্ভব সমাধান করা হবে।
রানাঘাটে প্রশিক্ষণ কেন্দ্রেই মার
শুধু পোস্টাল ব্যালট নয়, প্রশিক্ষণ কেন্দ্রেও সুরক্ষিত নন ভোটকর্মীরা। নদিয়া জেলার রানাঘাটের দেবনাথ বয়েজ ইনস্টিটিউটে চলছিল ভোটকর্মীদের প্রশিক্ষণ। সেখানে প্রজেক্টরে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারি বিজ্ঞাপন দেখানো হচ্ছিল। শিক্ষক ও ভোটকর্মী সৈকত চট্টোপাধ্যায় এটিকে আদর্শ আচরণবিধি লঙ্ঘন বলে আপত্তি জানান। এর পরেই তাঁকে শারীরিকভাবে আক্রমণ করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।
বিধাননগরে ভোটারদের ভয় দেখানোর অভিযোগে টিএমসি নেতা গ্রেফতার
বিধাননগর পুলিশ তৃণমূলের প্রাক্তন কাউন্সিলর নির্মল দত্তকে গ্রেফতার করে একটি ভাইরাল ভিডিওর ভিত্তিতে। ভিডিওতে তাঁকে দাবি করতে দেখা যায় যে ভোটার পরিচয়পত্র আধার কার্ডের সঙ্গে সংযুক্ত এবং কে কাকে ভোট দিচ্ছেন তা ট্র্যাক করা সম্ভব — একটি বক্তব্য যা ভোটারদের মনে ভয় ঢোকানোর প্রচেষ্টা হিসেবে ব্যাপকভাবে চিহ্নিত হয়।
বিধাননগর দক্ষিণ থানার পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করে এবং স্থানীয় আদালত তাঁকে ২৪ এপ্রিল পর্যন্ত বিচারবিভাগীয় হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেয়। পুলিশ জানায়, নির্বাচনকালীন বিশেষ সংবেদনশীলতার প্রেক্ষিতে নির্বাচন কমিশনের নির্দেশিকা মেনে এই গ্রেফতার করা হয়েছে। তাৎপর্যপূর্ণভাবে, নির্মল দত্তের স্ত্রী আলো দত্ত বর্তমানে বিধাননগরে কাউন্সিলর পদে বহাল।
বিধাননগর দক্ষিণ থানার পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করে এবং স্থানীয় আদালত তাঁকে ২৪ এপ্রিল পর্যন্ত বিচারবিভাগীয় হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেয়। পুলিশ জানায়, নির্বাচনকালীন বিশেষ সংবেদনশীলতার প্রেক্ষিতে নির্বাচন কমিশনের নির্দেশিকা মেনে এই গ্রেফতার করা হয়েছে। তাৎপর্যপূর্ণভাবে, নির্মল দত্তের স্ত্রী আলো দত্ত বর্তমানে বিধাননগরে কাউন্সিলর পদে বহাল।
প্রধান নির্বাচন আধিকারিকের দফতর ঘেরাও
বেলেঘাটার একজন কাউন্সিলরের নেতৃত্বে একদল লোক রাত্রিবেলা প্রধান নির্বাচনী আধিকারিকের অফিস ঘেরাও করে বিক্ষোভকারী ভাষায় স্লোগান দেন। পুলিশ ঘটনার পরে আইনি পদক্ষেপের কথা জানায়।
মালদায় বিচারবিভাগীয় কর্মকর্তাদের আটকে রাখার ঘটনা
শুধু ভোটকর্মী নন, বিচার বিভাগের কর্মকর্তারাও এই আক্রমণ থেকে রেহাই পাননি। মালদা জেলায় এসআইআর কার্যক্রমে নিযুক্ত সাত জন বিচারিক কর্মকর্তাকে স্থানীয় গ্রামবাসীদের একটি দল কয়েক ঘণ্টা জিম্মি করে রাখে।
একটি ধারাবাহিক চিত্র
এই ঘটনাগুলো বিচ্ছিন্ন নয়। ২০১৮ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গে সরকারি আধিকারিক, পুলিশকর্মী এবং বিচারবিভাগীয় কর্মীদের উপর বারংবার আক্রমণের একটি ধারাবাহিক চিত্র উঠে এসেছে। বিশেষত নির্বাচনী প্রক্রিয়া চলাকালীন ভোটকর্মীরা বাধা, উত্যক্ততা এবং সহিংসতার সম্মুখীন হচ্ছেন বলে নথি পাওয়া গেছে।
বিরোধী দলগুলো অভিযোগ করছে যে এটি একটি সুসংগঠিত ভয়ের পরিবেশ তৈরির প্রচেষ্টা, এবং তৃণমূলের তৃণমূল স্তরের নেতারা প্রভাব ও জবরদস্তির অপব্যবহার করছেন।
তৃণমূলের সমর্থনপুষ্ট দুষ্কৃতীরা প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে একাধিক অশান্তি ঘটিয়েছে। বর্ধমানের বিধায়ক খোকন দাসের বিরুদ্ধেই নয়টি ফৌজদারি মামলা রয়েছে।
বিরোধী দলগুলো অভিযোগ করছে যে এটি একটি সুসংগঠিত ভয়ের পরিবেশ তৈরির প্রচেষ্টা, এবং তৃণমূলের তৃণমূল স্তরের নেতারা প্রভাব ও জবরদস্তির অপব্যবহার করছেন।
তৃণমূলের সমর্থনপুষ্ট দুষ্কৃতীরা প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে একাধিক অশান্তি ঘটিয়েছে। বর্ধমানের বিধায়ক খোকন দাসের বিরুদ্ধেই নয়টি ফৌজদারি মামলা রয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা প্রশ্নের মুখে
নির্বাচন কমিশন বলছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তারা সক্রিয়। কিন্তু বাস্তবে ভোটকর্মীরা প্রশ্ন করছেন — যাঁরা ভোট পরিচালনা করবেন, তাঁদেরই যদি ভোট দেওয়ার অধিকার নিশ্চিত করা না যায়, তাহলে বাকি নাগরিকদের ভোট কতটা সুরক্ষিত থাকবে?
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এই প্রশ্নের উত্তরের উপরেই নির্ভর করছে পশ্চিমবঙ্গের গণতন্ত্রের বিশ্বাসযোগ্যতা।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এই প্রশ্নের উত্তরের উপরেই নির্ভর করছে পশ্চিমবঙ্গের গণতন্ত্রের বিশ্বাসযোগ্যতা।