Home খবর পেট্রোল-ডিজেলে শুল্ক কমাল কেন্দ্র

পেট্রোল-ডিজেলে শুল্ক কমাল কেন্দ্র

0 comments 0 views
A+A-
Reset

বাংলাস্ফিয়ার: আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দামের অস্থিরতার মধ্যে পেট্রোল ও ডিজেলের ওপর আবগারি শুল্ক কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। পেট্রোলের ওপর বিশেষ অতিরিক্ত আবগারি শুল্ক লিটার প্রতি ₹৩ কমানো হয়েছে এবং ডিজেলের ক্ষেত্রে এই শুল্ক পুরোপুরি তুলে নেওয়া হয়েছে। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, এটি নিছক একটি প্রশাসনিক পদক্ষেপ নয়, বরং একটি বৃহত্তর সামষ্টিক অর্থনৈতিক কৌশলের অংশ।

ভারতের মতো আমদানি-নির্ভর জ্বালানি অর্থনীতিতে অপরিশোধিত তেলের দাম বৃদ্ধি মানেই মুদ্রাস্ফীতির চাপ বাড়া। পেট্রোল ও ডিজেল শুধু পরিবহণের জ্বালানি নয়, সমগ্র সরবরাহ শৃঙ্খলের কেন্দ্রবিন্দু। ট্রাক, বাস, রেল এমনকি কৃষিক্ষেত্রেও ডিজেলের ব্যাপক ব্যবহার রয়েছে। ফলে জ্বালানির দাম বাড়লে খাদ্যপণ্য, নির্মাণসামগ্রী থেকে শুরু করে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য — সবকিছুর দামই ঊর্ধ্বমুখী হয়।

বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, শুল্ক কমানোর ফলে তেলের বিপণনকারী সংস্থাগুলি খুচরো দাম কমাতে বা অন্তত মূল্যবৃদ্ধির গতি থামাতে সক্ষম হবে। এর ফলে পরিবহণ খরচ কমবে এবং সামগ্রিক মূল্যস্তরে একটি স্বস্তির প্রভাব তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

তবে এই সিদ্ধান্তের আরেকটি দিক নিয়েও প্রশ্ন উঠছে — রাজস্ব (revenue) ক্ষতি। আবগারি শুল্ক কেন্দ্রীয় সরকারের অন্যতম প্রধান আয়ের উৎস। শুল্ক কমানোর ফলে সৃষ্ট এই ঘাটতি পূরণে সরকারকে হয় অন্য খাতে কর বাড়াতে হবে, নয়তো ব্যয়সংকোচন করতে হবে অথবা ঋণ নিতে হবে। অর্থাৎ স্বল্পমেয়াদে সাধারণ মানুষ স্বস্তি পেলেও দীর্ঘমেয়াদে এর আর্থিক প্রভাব জটিল হতে পারে বলে সতর্ক করছেন অর্থনীতিবিদরা।

রাজনৈতিক অর্থনীতির দিক থেকেও এই সিদ্ধান্তের তাৎপর্য রয়েছে। জ্বালানির দাম সাধারণ মানুষের কাছে অত্যন্ত সংবেদনশীল বিষয় এবং মূল্যবৃদ্ধি সরাসরি জনমনে অসন্তোষ তৈরি করে। বিশেষত উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি বা নির্বাচন-পূর্ব পরিস্থিতিতে এই ধরনের পদক্ষেপ নেওয়ার নজির রয়েছে।

আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে বর্তমানে ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা, সরবরাহ শৃঙ্খলের বিঘ্ন এবং ওপেক প্লাসের উৎপাদন নীতির কারণে বিশ্ববাজারে তেলের দাম দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। এই অস্থিরতার মধ্যে সরকার একটি ‘বাফার’ হিসেবে কাজ করতে চাইছে, যাতে আন্তর্জাতিক দামের ধাক্কা সরাসরি সাধারণ মানুষের ওপর না পড়ে।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, এই শুল্ক হ্রাস মূলত একটি ‘ক্ষতি নিয়ন্ত্রণ’ পদক্ষেপ, যার লক্ষ্য মুদ্রাস্ফীতির চাপ কমানো এবং অর্থনীতির গতি স্থিতিশীল রাখা। তবে এর সাফল্য নির্ভর করবে আন্তর্জাতিক বাজারের ভবিষ্যৎ গতিপ্রকৃতি এবং সরকারের সামগ্রিক আর্থিক ব্যবস্থাপনার ওপর।

Author

You may also like

Leave a Comment

Description. online stores, news, magazine or review sites.

Edtior's Picks

Latest Articles