বাংলাস্ফিয়ার: ভারতীয় টাকা আজ ডলারের বিপরীতে সর্বকালের সর্বনিম্ন স্তরে নেমে গেছে। লেনদেনের শুরুতেই রুপি ৩৩ পয়সা পড়ে দাঁড়িয়েছে ৯৪.২৯ টাকায় প্রতি ডলার। আগের দিন বাজার বন্ধ হয়েছিল ৯৩.৯৬ টাকায় — অর্থাৎ মাত্র একদিনের ব্যবধানে এই পতন, যা অর্থনীতিবিদদের কপালে ভাঁজ ফেলেছে।
এই পতন হঠাৎ করে হয়নি। একাধিক অর্থনৈতিক চাপ একসঙ্গে কাজ করছে। প্রথমত, শেয়ারবাজারে বড় ধাক্কা লেগেছে — সেনসেক্স প্রায় ৯২৬ পয়েন্ট পড়ে ৭৪,৩৪৬-এ নেমে এসেছে। শেয়ারবাজার দুর্বল হলে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা দ্রুত টাকা তুলে নেন, আর সেটাই এখন হচ্ছে। বিদেশি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা ধারাবাহিকভাবে ভারতীয় বাজার থেকে অর্থ সরিয়ে নিচ্ছেন, ফলে ডলারের চাহিদা বাড়ছে এবং রুপির ওপর চাপ তীব্র হচ্ছে।
দ্বিতীয় বড় কারণ আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বৃদ্ধি। ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেল প্রতি ১০৫.৭৫ ডলার ছাড়িয়ে গেছে। ভারত বিপুল পরিমাণ তেল আমদানি করে, ফলে তেলের দাম বাড়লেই ডলারে খরচ বাড়ে এবং রুপির দাম আরও নামে।
এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ডলারের নিজস্ব শক্তি বৃদ্ধি। ডলার ইনডেক্স এখন প্রায় ৯৯.৬৭-এ রয়েছে, যা বোঝাচ্ছে বিশ্বের অন্যান্য মুদ্রার তুলনায় ডলার ক্রমশ শক্তিশালী হচ্ছে। ফলে শুধু ভারত নয়, বহু দেশের মুদ্রাই ডলারের বিপরীতে দুর্বল হচ্ছে। তবে ভারতের ক্ষেত্রে সমস্যা বেশি প্রকট, কারণ একাধিক চাপ একসঙ্গে কাজ করছে।
এই পরিস্থিতির প্রভাব সাধারণ মানুষের ওপরও পড়তে বাধ্য। রুপি দুর্বল হলে আমদানিকৃত পণ্যের দাম বাড়ে, বিশেষ করে জ্বালানি, রান্নার গ্যাস, ইলেকট্রনিকস, এমনকি কিছু খাদ্যপণ্যের ক্ষেত্রেও এর প্রভাব দেখা দেয়। এর ফলে মুদ্রাস্ফীতির চাপ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অর্থনীতিবিদরা।
পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া সুদের হার পরিবর্তন, ডলার বিক্রি বা অন্যান্য আর্থিক নীতি ব্যবহার করে বাজারে হস্তক্ষেপ করতে পারে বলে জানা গেছে। তবে এই পদক্ষেপ কতটা কার্যকর হবে, তা নির্ভর করছে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির ওপর — বিশেষ করে তেলের দাম এবং বিদেশি বিনিয়োগের প্রবাহের ওপর।
সব মিলিয়ে রুপির এই পতন শুধু একটি সংখ্যার পরিবর্তন নয়, এটি ভারতের অর্থনীতির ওপর বহুমুখী চাপের স্পষ্ট লক্ষণ। এই প্রবণতা না থামলে আগামী দিনে তার প্রভাব আরও গভীরভাবে সাধারণ মানুষের জীবন এবং দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতে অনুভূত হবে বলে সতর্ক করছেন বিশেষজ্ঞরা।