Home সংস্কৃতি ও বিনোদনখেলা লিটল মাস্টারের ভুল জাজমেন্ট: বিদ্বেষ-বিষে আক্রান্ত স্বয়ং সানিও?

লিটল মাস্টারের ভুল জাজমেন্ট: বিদ্বেষ-বিষে আক্রান্ত স্বয়ং সানিও?

0 comments 4 views
A+A-
Reset

সোমক রায়চৌধুরী: ভারত-পাকিস্তান উত্তপ্ত ভূ-রাজনৈতিক সম্পর্কের যে আঁচ ক্রিকেট মাঠে দীর্ঘদিন ধরে পড়ে আসছে, এবার তাতে ঘি ঢাললেন স্বয়ং সুনীল মনোহর গাভাস্কার। এবং তা কোনও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের ক্রিকেট প্রতিযোগিতাকে কেন্দ্র করে নয়, ইংল‍্যান্ড ক্রিকেট বোর্ড (ইসিবি) পরিচালিত হান্ড্রেড লিগে, এক ভারতীয় মালিকানাধীন দলের পাক ক্রিকেটার আব্রার আহমেদকে নিলামে কেনা নিয়ে নিজ কলামে প্রশ্ন তুলে ক্রিকেট ও জাতীয়তাবাদ সম্পর্কিত বিতর্ক উস্কে দিলেন সানি।

উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হয় আট দলীয় হান্ড্রেড-লিগের উদ্বোধনী নিলাম পর্ব। ২১’ থেকে একশো বল ফরম্যাটের এই প্রতিযোগিতা চালু করেছে ইংল্যান্ড ক্রিকেট বোর্ড(ইসিবি)। ২০০৮’এর ২৬/১১ মুম্বাই সন্ত্রাসবাদী হানার জেরে ২০০৯ থেকে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড পরিচালিত আইপিএলের পাক ক্রিকেটারদের উপেক্ষা করে গিয়েছে ফ্র‍্যাঞ্চাইজিগুলো। তাই জল্পনা ছিল, হান্ড্রেড-লিগের নিলামে মোট সাতজন পাক ক্রিকেটারকে রাখা হলেও, ভারতীয় মালিকানাধীন চারটি ফ্র‍্যাঞ্চাইজির প্লেয়ার কেনার ক্ষেত্রে সেই পাক ক্রিকেটার-ব‍্যানের ছায়া পড়বে। কিন্তু বাস্তবে সব জল্পনা উলটে দিয়ে সানরাইজার্স-লিডস পাক লেগস্পিনার আব্রার আহমেদকে এক লক্ষ নব্বই হাজার পাউন্ড বা দু’কোটি চৌত্রিশ হাজার টাকার বিনিময় দলে নেয়। এই সানরাইজার্স দলের পেছনে রয়েছে দক্ষিণ ভারতীয় সংবাদ সংস্থা সান গোষ্ঠী। আইপিএলে এই গোষ্ঠীর দল হায়দ্রাবাদ সানরাইজার্স। সেদিন নিলাম টেবিলে উপস্থিত ছিলেন দলের কর্ণধার কালানিথি মারানের কন‍্যা কাব‍্য মারান, ও টিমের হেডকোচ ড‍্যানিয়েল ভেত্তোরি। সানরাইজার্স ছাড়াও এই লিগে আরও যে তিনটি ফ্র‍্যাঞ্চাইজির পূর্ণ বা আংশিক মালিকানা ভারতীয় গোষ্ঠীর হাতে— এমআই লন্ডন(মুম্বাই ইন্ডিয়ান), ম‍্যানচেস্টারে সুপারজায়ান্ট(লখনও সুপারজায়ান্ট) ও সাউদার্ন ব্রেভস(দিল্লি ক‍্যাপিটালস); এই তিন দল কোনও পাক ক্রিকেটারকে নেয় নি। আব্রার ছাড়া আর একজন পাক ক্রিকেটারই বিক্রি হয়েছেন নিলামে–উসমান তারিখকে দলে নিয়েছে মার্কিন সংস্থার মালিকানাধীন দল বার্মিংহ‍্যাম ফোনিক্স। দুই মহিলা ক্রিকেটার ফাতিমা সানা ও সাদিয়া ইকবালও অবিক্রিত রয়ে যান। এর আগে ইংল‍্যান্ড ও ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ডের তরফ থেকে নির্দেশিকা জারি করে অবশ‍্য দলগুলোকে জানানো হয়েছিল যে, নিলামে ক্রিকেটারদের দক্ষতাকেই যেন অগ্রাধিকার দেওয়া হয়, নাগরিকত্বের ভিত্তিতে কোনও বৈষম‍্য যেন না করা হয়।

ঠিক কী প্রশ্ন তুলেছিলেন সানি?

মিড-ডে পত্রিকায় নিজের কলামে গাভস্কার প্রশ্ন তোলেন যে, পাক স্পিনার আব্রারকে সানরাইজার্স ম‍্যানেজমেন্টের দলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত তাকে রীতিমতো অবাক করে দিয়েছে! দেশজুড়ে বা সমাজমাধ‍্যমে এর জন‍্য যে প্রতিক্রিয়া হচ্ছে, তা খুবই স্বাভাবিক। গাভাস্কারের যুক্তি, যে টাকায় একজন পাক ক্রিকেটারকে ক্রয় করা হয়, তার একাংশ আয়কর হিসেবে যাবে পাক সরকারের ভান্ডারে। আর সেই অর্থ দিয়ে পাক-সরকার বন্দুক ও মারণাস্ত্র কিনবে, যা ব‍্যবহৃত হবে ভারতীয় সেনা ও নাগরিকদের হত‍্যা করতে। অর্থাৎ, কোনও ভারতীয় মালিক যদি কোনও পাক ক্রিকেটারকে ক্রয় করেন বিশ্বের যে কোনও লিগে, তাহলে তিনি পরোক্ষভাবে নিজের দেশের সেনা ও নাগরিক হত‍্যাকে মদত দিয়ে ফেলবেন! তাই বর্তমান পরিস্থিতিতে, পাক ক্রীড়াবিদ ও শিল্পীদের ভারতে উপেক্ষা করা হয়। তাই নিউজিল্যান্ডের ভেত্তোরি দলের প্রয়োজনে পাক লেগস্পিনারকে নিতে চাইলেও, কাব‍্য মারানের উচিত ছিল এর জাতীয় রাজনীতির নিরিখে এর কী প্রভাব পড়বে, তা তাকে বোঝানো।

 

“অবাক” তিনি হয়েছেন যেমন, তেমনই উলটোদিকে ৭৬-বছর-বয়সী কিংবদন্তী ক্রিকেটারের এই ব‍্যাখ‍্যায় রীতিমতো হতবাক হয়ে গিয়েছে ক্রিকেটবিশ্বের বহু মহল। এক মাস আগেই রাওয়ালপিন্ডির জেলে বন্দী প্রাক্তন পাক অধিনায়ক ও প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের গুরুতর অসুস্থতার কথা আশঙ্কা করে তার প্রতি মানবিক আচরণ করার অনুরোধ জানিয়ে পাক সরকারকে যে বার্তা দিয়েছিলেন ইমরানের সমসাময়িক ১৪ জন আন্তর্জাতিক অধিনায়ক, তাদের মধ‍্যে ভারত থেকে কপিলদেবের সঙ্গে ছিলেন গাভাস্কারও। আগে গাভাস্কারের কলামে বা গলায় ইংলিশ ক্রিকেটের বিরোধিতার সুর শোনা গেলেও, সেভাবে কখনও পাক ক্রিকেট ও ক্রিকেটারদের বিরোধিতা শোনা যায় নি! গাভাস্কারের যুগে বিশ্ব ক্রিকেট ও আন্তর্জাতিক নিয়ামক সংস্থায় ইংরেজদের প্রাধান্য ও প্রতিপত্তি ছিল প্রশ্নাতীত, তাই তিনি বারবার ক্রিকেট পরিসরের ব্রিটিশদের নানা অপযুক্তি ও ঔদ্ধত্যকে প্রশ্ন করেছেন নিজের কলাম বা বিতর্ক সভায়। তার পরবর্তী যুগের ক্রিকেটার বীরেন্দ্র সেহবাগ বা গৌতম গাম্ভীররা উগ্র জাতীয়তাবাদী সুর চড়ালেও, সানির ধারাভাষ্যে ছিল না এহেন “দেশপ্রেমের” বোঁটকা গন্ধ। যদিও টি-২০ বিশ্বকাপের আগে পাক বোর্ডের তরফ থেকে ভারত ম‍্যাচ না খেলার যে প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, সেই সংক্রান্ত বিতর্কে এক বেসরকারি চ‍্যানেলে রাজদীপ সারদেশাইকে গাভাস্কার বলেন, ভারতীয়রা পাক ক্রিকেটারদের মোটা টাকার অঙ্কে নিয়েছেন এরকম হয়েছে, কিন্তু গত কয়েক দশকে এর উলটোটা ঘটেছে এমন কোনও উদাহরণ নেই। সাম্প্রতিক সানরাইজার্স-বিতর্কেও প্রাক্তন ভারতীয় ওপেনার একই কথার পুনরাবৃত্তি করেছেন নিজের কলামে।

এ প্রসঙ্গে উল্লেখযোগ্য, গত বছর এশিয়া কাপে ও আইসিসি চ‍্যাম্পিয়নস ট্রফিতে আইসিসি ও এসিসির ধারাভাষ‍্যকর প‍্যানেলে ছিলেন গাভাস্কার। এশিয়া কাপের সময় পাকিস্তানের একটি টিভি অনুষ্ঠানেও উপস্থিত ছিলেন তিনি। দুবাই’এ আইসিসি ট্রফি চলাকালীন একটি ইউটিউব চ‍্যানেলে ওয়াসিম আক্রম ও ওয়াকার ইউনিসের সঙ্গে এক আলোচনসভাতেও দেখা গিয়েছিল তাকে। পাক টিভি ও ইউটিউব চ্যানেলে যোগদান নিয়ে গাভাস্কারকে আবার “দ্বিচারিতার” অভিযোগে অহেতুক আক্রমণ করা হচ্ছে কয়েকটি মহল থেকে। যা নস‍্যাৎ করে দিয়ে ভারতের সর্বকালের সেরা ওপেনার বলেছেন, “আইসিসি প‍্যানেলে থাকায় ওরা যেখানে যেতে বলেছে আমি সেখানে যাওয়ার জন‍্য দায়বদ্ধ ছিলাম। আমি ওই অনুষ্ঠানের জন‍্য কোনও সাম্মানিক নিই নি। এইসব টুর্নামেন্টের লাভাংশ সব দেশ পায়। আমি কাউকে বেতন দিইনা!” একদম ঠিক। এহেন সানি সানরাইজার্সে করাচির ২৭-বছর বয়সী আব্রারের সংযুক্তি নিয়ে এরকম মন্তব‍্য করে বসবেন, তা ভাবতেই পারেন নি ক্রিকেটকে যারা দু’দেশের মধ‍্যে মৈত্রীর সেতু হিসেবে ব‍্যবহার করতে চান, সেই কূটনীতিবিদরা। অতীতে ভারত-পাক সম্পর্কের টানাপড়েনের সময়েও দ্বিপাক্ষিক সিরিজের মাধ্যমে এই কূটনীতি দেখা গিয়েছে। যেমন পোখরান বিস্ফোরণ আর কার্গিল আবহেও ভারতের মাটিতে টেস্ট খেলতে এসে উষ্ণ অভ‍্যর্ত্থনা পেয়েছিল ওয়াসিম আক্রমের পাকিস্তান। গাভাস্কারের তা অজানা নয়; সেই সিরিজেও তিনি ধারাভাষ্য দিয়েছিলেন। তাতে ছিল না কোনও ভূ-রাজনৈতিক টানাপোড়েন ও উগ্র-জাতীয়তাবাদের প্রভাব।

সানির এই “জাজমেন্ট” কি নিখুঁত?

লিটল মাস্টারের এই “জাজমেন্ট” ইতিমধ‍্যেই বহু বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। একদিকে যে ঘৃণার আবহ ক্রিকেট মাঠের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে গিয়েছে ইদানিং জয় অমিত শাহ পরিচালিত আইসিসি’র ক্ষমতার রাজনীতির দৌরাত্ম্যে, তাকে উস্কে দিয়ে সমাজমাধ‍্যমে তোলপাড় ফেলে দিয়েছে; অন‍্যদিকে উঠছে নানা ন‍্যায‍্য প্রশ্ন। ক্রিকেটার ও শিল্পীরা যে আয়কর দেন, সেই টাকা তো সংশ্লিষ্ট দেশের শিক্ষা-স্বাস্থ্য-পানীয় জল পরিষেবা হয়ে যুব পরিকাঠামোতেও খরচ হতে পারে, শুধুমাত্র বন্দুক আর মারণাস্ত্র কেনাতেই খরচ হয় এই সিদ্ধান্তে গাভাস্কার কী করে উপনীত হলেন? আর সীমান্তে ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা, টানাপোড়েন ও সংঘর্ষের কারণ মূলত আন্তর্জাতিক রাজনীতির পাশায় নিহিত, ক্রিকেট মাঠ ও ক্রিকেটাররা তার জন‍্য দায়ী হবেন কেন? সরকারি বাজেটের নকশা তো আর ক্রিকেটাররা করেন না! সেই সংশ্লিষ্ট ক্রিকেটার ভারতীয় নাগরিক হোন বা পাকিস্তানের, আন্তর্জাতিক রাজনীতির এই পাশাখেলায় কেন বলি হবেন আব্রার আহমেদরা? কিছুদিন আগে বিসিসিআই’এর নির্দেশে কলকাতা নাইটরাইডার্স বাংলাদেশের মুস্তাফিজুর রহমানকে নিলামে চড়া দামে কিনেও ছেড়ে দিতে বাধ‍্য হয়েছিল। যুক্তিটা ছিল একইরকম, বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দুদের ওপর আক্রমণ, যার জেরে ভারতে অনুষ্ঠিত টি-২০ বিশ্বকাপ বয়কট করে বাংলাদেশ!

সমসাময়িক ও বন্ধু ইমরান খানের প্রতি মানবিক আচরণ করার আর্জি যেমন সংবেদনশীল ও ক্রিকেটীয়, ভারতীয় মালিকানাধীন সানরাইজার্সের আব্রার আহমেদকে দলভুক্ত করার বিরোধিতা ততটাই নির্মম ও ক্রিকেটের আত্মার পরিপন্থী। সাম্প্রতিক যে ঘৃণার আবহের নাগপাশে জড়িয়ে গিয়েছে ক্রিকেট, যার প্রভাবে ২০১২-১৩ থেকে ভারত-পাক দ্বিপাক্ষিক সিরিজ বন্ধ! ২৫’এর মে মাসের পহেলগাঁও সন্ত্রাসী হানা ও পরবর্তী চারদিনের সীমান্ত সংঘর্ষের পর সেই বিদ্বেষের বাতাবরণ সুচারুভাবে আরও তীব্র করা হয়েছে। একমাত্র কোনও আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় ভারত-পাক মুখোমুখি হয়, কিন্তু বিসিসিআই’এর হুইপে খেলার শেষে দেখা যায় না দু’দলের ক্রিকেটারদের হাত মেলানোর দৃশ‍্য, টসের পরেও দেখা যায় না দুই অধিনায়কের ন‍্যূনতম ক্রিকেটীয় সৌজন‍্যতাটুকুও। পাক ক্রিকেট কর্তার হাত থেকে পুরস্কার নিতে অস্বীকার করেন ভারত অধিনায়ক। ক্রিকেটের মাধ‍্যমে শুধু পাকিস্তান নয়, সবকটা প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক আরও বিষময় হয়ে ওঠে! আক্রমণের হাত থেকে রেহাই পান না ভারতীয় ক্রিকেটাররাও; নাহলে পাকিস্তানের কাছে একটি টি-২০ ম‍্যাচ হারলে কেনই বা ভয়াবহ ট্রোলের শিকার হতে হয় বহু যুদ্ধের নায়ক মহম্মদ শামিকে? ভারতের মাটিতে একদিনের বিশ্বকাপ খেলতে এসে প্রবল বিদ্রুপ আর কটুক্তির মুখে পড়েন বাবর আজমরা। আহমেদাবাদে বিশ্বকাপ ফাইনালে স্টেডিয়াম জুড়ে তৈরী হয়ে যায় “দেশপ্রেমের” আবহ। কারণ অনুসন্ধান করলে দেখা যাবে, ক্রিকেট স্টেডিয়ামকে এই দেশপ্রেম আর উগ্র জাতীয়তাবাদ প্রকাশের আঙ্গিনায় পর্যবসিত করাই, বাবর-আব্রার-শামি-মুস্তাফিজদের প্রবল ঘৃণার মুখে ঠেলে দিয়েছে; হারিয়ে গিয়েছে বাইশ গজে ভারত-পাক সিরিজের তীব্র লড়াই আর উত্তেজনার আমেজ। আহমেদাবাদে সূর্যকুমার যাদবরা বিশ্বচ‍্যাম্পিয়ন হওয়ার পর মাইক হাতে উৎসবের আবহে নাচতেও দেখা গিয়েছিল গাভাস্কারকেও। ঠিক যেমন দু’বছর আগে ভারত চ‍্যাম্পিয়ন হওয়ার পর পুরস্কার বিতরণী মঞ্চে নাচতে দেখা গিয়েছিল আইসিসি চেয়ারম্যান জয় শাহকে!

জয় শাহ আর বিশ্বক্রিকেটের আইকন সুনীল গাভাস্কার এক নন। যে নিখুঁত টেকনিক টেস্টে দশ-হাজার ক্লাবের প্রথম সদস‍্যর কাছে কাছে প্রত‍্যাশা করে থাকেন ভারত-পাক সহ সমগ্র ক্রিকেটদুনিয়ার ক্রীড়াপ্রেমীরা, তা তিনি এই হান্ড্রেড-বল ক্রিকেটের কায়দায় ক্রস ব‍্যাট চালিয়ে পূরণ করলেন না!
সানি, আপনিও কি এই বিদ্বেষের ভাইরাসে সাময়িক আক্রান্ত হয়ে পড়েছেন?

Author

You may also like

Leave a Comment

Description. online stores, news, magazine or review sites.

Edtior's Picks

Latest Articles