রাশিয়ার সম্মানজনক স্পিরিট অফ ফায়ার ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে এই ছবিটি জিতে নিয়েছে দুটি গুরুত্বপূর্ণ সম্মান—সিলভার টাইগা অ্যাওয়ার্ড (সেরা আন্তর্জাতিক প্রথম চলচ্চিত্র) এবং সোল অফ রাশিয়া – ওয়ার্ল্ড সিনেমা স্পেশাল প্রাইজ। ২০২৬ সালের ১৬ মার্চ ঘোষিত এই পুরস্কার যেন শুধু একটি ছবির সাফল্য নয়, বরং সিকিমের সংস্কৃতি, মানুষের জীবনযাপন এবং তাদের গল্প বলার ঐতিহ্যের এক আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি।

সিকিমের মাটির সঙ্গে গভীরভাবে সম্পৃক্ত পরিচালক ত্রিবেণী রাই এই পুরস্কার উৎসর্গ করেছেন নিজের রাজ্যকে। তাঁর কথায়, “এটি কোনও ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, এটি সিকিমের মানুষের, তাদের স্মৃতি, তাদের ভাষা এবং তাদের জীবনসংগ্রামের প্রতিফলন।” ‘শেপ অফ মোমো’-র গল্পে যেমন রয়েছে স্থানীয় সংস্কৃতির উজ্জ্বল উপস্থিতি, তেমনই রয়েছে এক সার্বজনীন মানবিক সুর, যা বিশ্বজুড়ে দর্শকদের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করতে সক্ষম হয়েছে।

ভারতের মূলধারার চলচ্চিত্রের বাইরে দাঁড়িয়ে তৈরি এই ছবিটি দেখিয়ে দিল—বড় বাজেট বা তারকাখচিত কাস্ট নয়, বরং শক্তিশালী গল্প এবং সাংস্কৃতিক সততাই আন্তর্জাতিক মঞ্চে আসল পরিচয় তৈরি করে। সিকিমের পাহাড়ি সমাজ, তাদের খাদ্যসংস্কৃতি (যার প্রতীক ‘মোমো’), এবং জীবনের সূক্ষ্ম আবেগ—সব মিলিয়ে ছবিটি এক অনন্য নান্দনিক অভিজ্ঞতা তৈরি করেছে।

এই আন্তর্জাতিক সাফল্যের পর ‘শেপ অফ মোমো’ আগামী এপ্রিল মাসে নেদারল্যান্ডসের সিনেমা এশিয়া ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল-এ প্রদর্শিত হতে চলেছে। ফলে স্পষ্টই বোঝা যাচ্ছে, ছবিটির যাত্রা এখনও শেষ নয় বরং এটি আরও বড় দর্শকগোষ্ঠীর সামনে পৌঁছতে চলেছে।

ভারতের আঞ্চলিক সিনেমার জন্য এই সাফল্য নিঃসন্দেহে এক নতুন দিগন্ত খুলে দিল। এতদিন যেসব গল্প পাহাড়ের আড়ালে, ছোট ভাষার গণ্ডিতে আটকে ছিল, সেগুলিই এখন বিশ্বমঞ্চে আলো কুড়োচ্ছে। ‘শেপ অফ মোমো’ সেই পরিবর্তনেরই প্রতীক যেখানে ছোট জায়গার বড় গল্প বিশ্বকে নাড়িয়ে দিতে পারে।