Home সংস্কৃতি ও বিনোদনখেলা আশা-আশঙ্কার দোলায় আহমেদাবাদে আর একটা ফাইনালে নামছে টিম ইন্ডিয়া

আশা-আশঙ্কার দোলায় আহমেদাবাদে আর একটা ফাইনালে নামছে টিম ইন্ডিয়া

0 comments 5 views
A+A-
Reset

সোমক রায়চৌধুরী: চোখ ধাঁধানো, কিন্তু ক্রিকেট ইতিহাস বা ক্রীড়া সংস্কৃতির ছিটেফোঁটাও এই দৈত‍্যাকার স্থাপত‍্যের কোনও কোণে খুঁজে বের করতে পারবেন না কেউ! মাত্র আড়াই বছরের মধ‍্যে দু’দুটো বিশ্বকাপ ফাইনালে অনুষ্ঠিত হতে চলেছে আহমেদাবাদের নব নির্মিত নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে। ভারতের মধ‍্যে ইডেন গার্ডেন, ওয়াংখেড়ে, চিদম্বরম ও বিদেশে তাকালে লর্ডস, গদ্দাফি, মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ড সহ বিশ্বের সবথেকে ঐতিহ‍্যশালী ও ঐতিহাসিক ক্রিকেট মাঠগুলোও যে মর্যাদা পায় নি। এই উদাহরণ আর একটিই রয়েছে, বার্বাডোজের কেনসিংটন ওভাল, যেখানে ২০০৭ একদিনের বিশ্বকাপের ফাইনালের তিন বছরের মধ‍্যেই ২০১০ টি-২০ ফাইনালও অনুষ্ঠিত হয়। তবে কেনসিংটন ওভালের সঙ্গে ক্রিকেটীয় ঐতিহ‍্যের নিরিখে নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামের কোনও তুলনাই চলতে পারে না। যে মাঠ গ‍্যারি সোবার্স, ফ্র‍্যাঙ্ক ওরেল, এভার্টন উইকস, ক্লাইড ওয়ালকট, কনরাড হান্ট, ওয়েস হল ম‍্যালকম মার্শাল, গর্ডন গ্রিনিজ, ডেসমন্ড হেইনস, জোয়েল গার্নার, সহ কত বিশ্ব-কাঁপানো ক্রিকেটারদের আঁতুরঘর হিসেবে পরিচিত তার সঙ্গে ভুঁইফোড় কোনও স্টেডিয়ামকে এক পংক্তিতে রাখা যায় কী? এর মধ‍্যে উগ্র জাতীয়তাবাদের সূক্ষ্ম প্রোপাগান্ডা ও ব‍্যক্তির বিশ্বগুরু ভাবমূর্তি তৈরীর প্রয়াস দেখেছিলেন অনেকেই। ২০২৩’ই একমাত্র বিশ্বকাপ ফাইনাল, যেখানে চ‍্যাম্পিয়ন দলকে উঠে দাঁড়িয়ে অভিনন্দিত করে নি স্টেডিয়ামের দর্শকরা। ঘরের মাঠে প‍্যাট কামিন্সের অস্ট্রেলিয়ার নিখুঁত পরিকল্পনা ও তার দুরন্ত রূপায়য়নের কাছে ভারত অসহায় ভাবে হেরে যাওয়ায় দুই আম্পায়ারকে অহেতুক কটাক্ষ ও গালাগালি করা হয় দর্শকাসন থেকে! বহু অধুনা সেলিব্রিটি ভিআইপি বক্সে ঝলমল করলেও আমন্ত্রণই জানানো হয় নি ১৯৮৩’র বিশ্বচ্যাম্পিয়ন অধিনায়ক কপিলদেব সহ ওই দলের কয়েকজন ক্রিকেটারকে। অতীতেও উগ্র দর্শকদের ঝামেলায় আহমেদাবাদে বিপন্ন হয়েছে ক্রিকেট ও ক্রিকেটাররা। ১৯৯৩’এ হিরো কাপের লিগ পর্বে ভারত ওয়েস্টইন্ডিজের কাছে বিশ্রীভাবে হারায় দর্শকদের আচরণে কিছুক্ষণ বন্ধ করে হয়েছিল খেলা। তার ১৯৮৭ তে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সুনীল গাভাস্কার যে টেস্টে দশ হাজার রানের রেকর্ড স্পর্শ করেছিলেন, সেই ম‍্যাচেও ইমরান খানদের মন্থর ব‍্যাটিং-এর কৌশলে ক্ষুব্ধ হয়ে মাঠে দর্শক হামলা হয়েছিল। গাভাস্কারের দশ হাজার পূর্ণ হওয়া ছাড়াও কাকতালীয়ভাবে আরও একটি বিশ্বরেকর্ডের সাক্ষী ন-মো স্টেডিয়ামের পূর্বসূরি মোতেরা। কপিলদেব এই মাঠেই রিচার্ড হ‍্যাডলির ৪৩১ উইকেটের রেকর্ড ভেঙ্গেছিলেন শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে।

এই ট্র‍্যাক রেকর্ড সত্ত্বেও আবার একটি বিশ্বকাপ ফাইনাল পেয়েছে আহমেদাবাদে। জয় অমিত শাহ আইসিসি চেয়ারম্যান হওয়ার জন‍্যই এই দুর্লভ মর্যাদা পাচ্ছে আহমেদাবাদ। নাহলে গুজরাটের রাজধানীর ক্রিকেট শহর হিসেবে সেরকম পরিচিতিই ছিল না। কোনও প্রতিযোগিতার ফাইনাল তো দূর অস্ত, কোনও ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালও এখানে দেওয়ার কথা ভাবতেন না ভারতীয় বোর্ড কর্তারা। তবে রবিবার সূর্যকুমার যাদবদের জয় দেখতে ও ২০২৩’এর আক্ষেপ মেটাতে ন-মো স্টেডিয়ামের এক লক্ষ বত্রিশ হাজার আসনের একটিও যে খালি থাকবে না তা বলাই বাহুল্য। ভারতের জার্সি পরে গ‍্যালারিতে সারা দেশ-বিদেশ থেকে আসা কয়েক হাজার সেলিব্রিটি ও বলিউডের তারাদের মুখ ক‍্যামেরায় ভেসে উঠবে বারবার। থাকছেন রিকি মার্টিনও। টিকিটের কালোবাজার মূল‍্য চড়বে লক্ষ টাকার ওপর।

এই আবহে চ‍্যাম্পিয়নশিপ খেতাব রক্ষা করতে মাঠে নামবেন সূর্যকুমার যাদব-হার্দিক পান্ডিয়ারা। ইডেনে প্রথম সেমিফাইনালে বিস্ফোরণ ঘটিয়ে রাতারাতি তারা বনে যাওয়া ফিন অ্যালেন-টিম সিফার্টদের থেকেও টিম ইন্ডিয়ার কাছে অনেক বড় চ‍্যালেঞ্জ ঘরের মাঠে এভারেস্টের চুড়োর পর্যায়ে পৌঁছে যাওয়া প্রত‍্যাশার চাপ সামলানো। ২০১৩’এর নভেম্বরে এই প্রবল টেনশনের উত্তাপেই হাফবয়েল হয়ে গিয়েছিল রোহিত শর্মা-বিরাট কোহলি সমৃদ্ধ ভারতীয় ব‍্যাটিং।

“২০২৩’এর ভিন্ন পরিস্থিতি”

আর একটা হোয়াইট বল ক্রিকেটের ফাইনাল হলেও, একদিনের বিশ্বকাপের ফাইনালে যে পরিস্থিতিতে থেকে নেমেছিলেন রোহিত শর্মারা, রবিবার সঞ্জু স‍্যামসন-ইশান কিষাণ-শিবম দুবেরা তার থেকে কিঞ্চিত ভিন্ন পরিস্থিতিতে জাতীয় সঙ্গীত গাইবেন। ২৩’এ লিগ পর্বের সবকটি ম‍্যাচ ও সেমিফাইনাল সহ টানা দশটি ম‍্যাচ জিতেছিলেন বুমরারা। ওই টিম ইন্ডিয়ার গায়ে ফাইনালের আগেই “সর্বকালের সেরার” তকমা লাগিয়ে দিয়েছিল মিডিয়ার একাংশ। বিষয়টা মাঠে বুমেরাং হয়ে কোহলি-শুভমনদের চাপে ফেলে তাতিয়ে দেয় কামিন্স-ট্রাভিস হেডদের। কিন্তু সূর্যকুমার যাদবদের এই টিম ইন্ডিয়া আপনার পাশের বাড়ির সেই ছেলেটি, যে সবকটা পরীক্ষা ফাঁকিবাজি করে দিয়েও অঙ্ক পরীক্ষার আগে ভীষণ সিরিয়াস হয়ে যায়। অ্যালজেব্রা, ত্রিকোণমিতি, কো-অর্ডিনেট জিওমেট্রি বা ক‍্যালকুলাসের জটিলতম থিওরেমও বিচ‍্যুতি ঘটাতে পারে না তার ফোকাসের; তাই লেটার মার্কস এর একটু বেশি পেয়ে ফাঁকিবাজির পাপস্খলন করে ফেলে সে। বৃহস্পতিবার যেমন জেকব বেথেলের অতিমানবীয় সেঞ্চুরি সত্ত্বেও গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলোয় নার্ভ করে রেখে শেষ ওভারে ম‍্যাচ বের করে নেন বুমরা-আক্সার-তিলক ভর্মারা। তাই এরকম একটি ছেলেকে নিয়ে আশা করাই যায়, আবার আশঙ্কাও থেকে যায়। কারণ পারফরমেন্সের গ্রাফে ধারাবাহিকতার অভাব রয়েছে। তাই কোনওভাবেই সূর্যকুমাররা হট ফেভারিট নয় এই ম‍্যাচে, ২৩’এ যেমন ছিলেন রোহিতরা।

রসায়ন বদল পিচের

২৩’এর সঙ্গে বিস্তর ফারাক রয়েছে আহমেদাবাদের উইকেটেরও। রোহিতরা যে কালো মাটির পিচে খেলেছিলেন তার রসায়ন সম্পূর্ণ বদলে দেওয়া হয়েছে এই ফাইনালের আগে। কালো মাটির ওই উইকেটের মন্থরতাকে সেদিন দারুণ কাজে লাগিয়েছিলেন প‍্যাট কামিন্স সহ অজি সিমাররা। এমনকি এই বিশ্বকাপের সুপার এইটে এই মাঠে যে উইকেটে দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে ৭৬ রানে হেরেছিল ভারত, সেই উইকেটও ছিল কালো মাটির। কিন্তু আইসিসির হেড-কিউরেটর টবি লামসডেনের সঙ্গে আলোচনা করে এই ফাইনাল জন‍্য যে উইকেটে প্রস্তুত করা হয়েছে, তাতে রয়েছে লাল আর কালো মাটির মিশেলে; যেখানে লাল মাটির অনুপাত অনেক বেশি। বাউন্স যাতে স্বাভাবিক হয়, বল পড়ে যাতে সহজে ব‍্যাটে আসে, টার্ন যাতে বিশেষ না থাকে, তাই এই বন্দোবস্ত। অর্থাৎ, সেমিফাইনালের মতোই আর একটি বড় স্কোরের ম‍্যাচ অপেক্ষা করছে রবিবাসরীয় ফাইনালেও।

“বিস্ফোরক ক্রিকেটই মন্ত্র”

২০-কুড়ি ক্রিকেটকে বিশ্লেষণ করলে দেখা যাবে, কে কোথায় কখন বিস্ফোরণ ঘটাবেন, তা আগাম কোনও অঙ্ক কষে বলা সম্ভব নয়। এই বিশ্বকাপেও ভাগ‍্য নির্ধারণ করে চলেছে ২২গজের নির্দিষ্ট দিনে এক বা দুজনের অবিশ্বাস‍্য প্রদর্শন। কখনও ফিন অ্যালেন, কখনও জেকব বেথেল, কখনও বা সঞ্জু স‍্যামসন। তরুণরা এই বিশ্বকাপকে নিজেদের জাত চেনানোর মঞ্চ করেছেন। একা ফিন অ্যালেন নয়, মিচেল স‍্যান্টনারের এই কিউই দলের সব রহস‍্য এখনও উদ্ঘাটন হওয়া বাকি, ফাইনালে এই বিষয়টা মাথায় রেখে পরিকল্পনা করবে টিম ইন্ডিয়ার থিঙ্ক-ট‍্যাঙ্ক। ইডেনে অ্যলন-সিফার্টদের ঝড়ে ছিটকে যেতে হয়েছে প্রতিযোগিতার সেরা দল দক্ষিণ আফ্রিকাকে। আবার স‍্যান্টনারদেরও ভাবাবে, বৃহস্পতিবার সন্ধ‍্যায় আরব সাগরের তীরে সঞ্জু-বুমরা-আক্সারদের আমূল পরিবর্তিত রূপ।

“ভরসা সেই বুমস-ম‍্যাজিক”

সেমিফাইনালে হ‍্যারি ব্রুকের উইকেটের জন‍্য বুমরার দিকে তাকিয়েছিলেন সূর্যকুমাররা। নিজের প্রথম বলেই ইংরেজ অধিনায়কের দামি উইকেটটা তুলে নিয়েছিলেন বুমরা। বুমরার স্লোয়ারে ঠকে গিয়ে টাইমিং-এ ভুল করেন ইংরেজ অধিনায়ক। কভার থেকে ২৪ মিটার পেছনে ছুটে দুরন্ত ক‍্যাচ নেন আক্সার প‍্যাটেল। এই বিশ্বকাপে টি-২০’ সেরা বোলার হিসেবে শুরু করেছিলেন রহস‍্যময়-স্পিনার বরুণ চক্রবর্তী, যেমন সেরা ব‍্যাটার হিসেবে শুরু করেন ওপেনার অভিষেক শর্মা। কিন্তু সাম্প্রতিক অফ ফর্মের জন‍্য দুজনের খ‍্যাতিই ধুলোয় মিশে গিয়েছে। ক্রিকেট এমনই অনিশ্চয়তার খেলা! লেগস্পিনার বরুণ মার খেলেই নার্ভ হারিয়ে ফেলেন। সুপার এইট থেকে চার ম‍্যাচে দিয়ে ফেলেছেন ১৮৪ রান, শিকার মাত্র চার! যদিও ভারতীয় লেগস্পিনার মোট ১৩ টি উইকেট নিয়েছেন পুরো বিশ্বকাপ ধরলে, তবূ তাকেই টার্গেট করছে সব প্রতিপক্ষ। ওয়াংখেড়েতে বেথেল-জ‍্যাকসরা তার কোটা নিংড়ে ৬৪ রান তোলেন। সেমিফাইনালের পর হঠাৎ ব‍্যস্ততা বেড়ে গিয়েছে বোলিং কোচ মর্নে মর্কেলের। বরুণকে নিয়ে নেটে পড়ে আছেন মর্কেল, চলছে মানসিকভাবে চাঙ্গা করার চেষ্টা। আর্শদীপ সিংও চাপের মুখে পড়লে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে প্রচুর ওয়াইড করছেন। এই পরিস্থিতিতে অভিজ্ঞ মহম্মদ সিরাজ আর কুলদীপ যাদবের কথা মাথায় আসা স্বাভাবিক টিম ম‍্যানেজমেন্টের। কিন্তু গৌতম গাম্ভীর যে উইনিং কম্বিনেশন ভাঙবেন না! সাধে কী বারবার বিতর্কের মুখে পড়ে তার দল নির্বাচন প্রক্রিয়া! অর্থাৎ ভারতীয় বোলিং নিয়ে দুশ্চিন্তা রয়েই যাচ্ছে আহমেদাবাদে।

এই পরিস্থিতিতে একমাত্র ভরসা সেই বুমরাই। মুম্বাই-এর ৪৯৯ রানের ম‍্যাচে যিনি অষ্টাদশ ওভারে নিখুঁত ইয়র্কার আর স্লোয়ারের বল করে দেন মাত্র ছ’রান। এর আগে ষোলতম ওভারেও তার বিরুদ্ধে আট রানের বেশি নিতে পারে নি ইংল্যান্ড। টেম্পরামেন্ট বজায় রেখে ঠিক লেন্থে বল ফেলে যাওয়ার জন‍্যই এই বিশ্বকাপে একমাত্র তার ইকনমি রেট আটের নীচে, ৬.৬২! ফাইনালেও দলের সবথেকে অভিজ্ঞ বোলারের চারটি ওভার কখন কোন পরিস্থিতিতে খরচ করবেন সূর্যকুমার, তার ওপর অনেকটাই নির্ভর করছে টিমের ভাগ‍্য। ভয়ঙ্কর ফিন-সিফার্ট জুটি ভাঙতে শুরুতেই বুমরাকে আক্রমণে আনবেন ভারত অধিনায়ক। বুমরা কিছুটা সহায়তা পেতে পারেন হার্দিক আর সহ অধিনায়ক আক্সারের কাছ থেকে। আক্সারের ঠান্ডা মাথা যে টিম ইন্ডিয়ার বড় ভরসা তা প্রমাণ হয়েছে ওয়াংখেড়েতে। উইল জ‍্যাকসকে ফেরাতে পয়েন্ট বাউন্ডারিতে শিবম দুবের সঙ্গে নেওয়া রিলে ক‍্যাচে, টম ব‍্যান্টন তাকে পরপর দুটো ছক্কা হাঁকানোর পর তৃতীয় বলেই তাকে স্লোয়ারের ফাঁদে ফেলে ক্লিন বোল্ড করার মধ‍্যে। ইংল্যান্ড ম‍্যাচের পর আক্সারের প্রশংসায় পঞ্চমুখ স্বয়ং সুনীল গাভাস্কারও। নিজের রাজ‍্যের চেনা মাঠে আনন্দের আক্সারের কাছে ওয়াংখেড়ের মতোই বিশেষ কিছু প্রত‍্যাশা করবে টিম ইন্ডিয়া। আহমেদাবাদের বাউন্ডারি মুম্বাই’এর তুলনায় অনেকটাই বড়, তাই স্পিনারদের অত ওভারবাউন্ডারি মারা সহজ হবে না। তবে ফিনকে বিশ্বাস নেই, ইডেনের বড় বাউন্ডারিতেও তিনি অবলীলায় মেরেছিলেন আটটি ছয়! এছাড়াও রয়েছেন ফর্মে থাকা সিফার্ট, রাচিন রাবিন্দ্রা, গ্লেন ফিলিপসরা। তাই নিউজিল্যান্ডের টপ অর্ডারকে ঝাঁকুনি দেওয়ার জন‍্য রবিবার বুমরার দিকেই তাকিয়ে থাকবে গোটা দেশ।

সঞ্জু স‍্যামসন দুরন্ত ফর্মে; সেমিফাইনালে সাতটি ওভারবাউন্ডারি আর আটটি বাউন্ডারি মেরে ভারতকে চালকের আসনে বসিয়ে দিয়েছিলেন। অভিষেক শর্মা ছাড়া বাকি ভারতীয় ব‍্যাটাররা ছন্দের মধ‍্যেই রয়েছেন। ইশান- হার্দিক-শিবম-তিলকদের নিয়ে গড়া ব‍্যাটিং লাইনআপ বেশ শক্তিশালী। ব‍্যাটিং ভারসাম‍্যে কিউইদের থেকে সূর্যকুমাররা সামান্য এগিয়ে থাকবেন। লকি ফার্গুসন, ম‍্যাট হেনরি, রাচিন রাবিন্দ্রা ও অধিনায়ক মিচেল স‍্যান্টনারকে নিয়ে গড়া নিউজিল্যান্ডের বোলিং টিম আবার কোনওমতেই পিছিয়ে নয় বুমরা-হার্দিকদের থেকে। ভারতীয় ব‍্যাটিং-এর আগ্রাসন রুখতে স‍্যান্টনারা নিশ্চয় কোনও বিশেষ গেমপ্ল‍্যান নিয়ে নামবেন। একাধিকবার রানার্স হলেও কিউইদের কাছে হোয়াইট বল ক্রিকেটের বিশ্বকাপ এখনও অধরা মাধুরী। আবার ২০১৯ একদিনের বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে ম‍্যানচেস্টারে ভারতীয় টপ অর্ডারকে শুইয়ে দিয়ে ম‍্যাচ বের করেছিলেন কিউই পেসাররা। স‍্যান্টনারের তরুণ অলরাউন্ডার-ব্রিগেড বিশাল স্টেডিয়ামের গর্জনের মুখে প‍্যাট কামিন্সদের মতো নার্ভ ধরে রাখতে পারেন কি না, তার ওপর নির্ভর করছে তাদের প্রথম খেতাব জয়ের সম্ভাবনা।

ভারত জিতলে সারা দেশেই অকাল দ্বীপাবলির রাত নেমে আসবে, গত বুধবারের হোলির রেশও কাটবে না। আহমেদাবাদ সেই বিশ্বজয়কে বিজ্ঞাপন করে ক্রীড়া শহর হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা চালাবে; মাথাচাড়া দেবে শহরে ২০৩০ কমনওয়েলথ গেমস আর ২০৩৬’অলিম্পিক গেমস আয়োজনের উচ্চাকাঙ্ক্ষা!
আর ফিন-সিফার্ট-রবীন্দ্ররা যদি দাবার ছক উলটে দিয়ে ট্রাভিস হেডদের মতোই হার্ট-ব্রেক ঘটান কয়েক কোটি ভারতবাসীর, তাহলে তাদের উঠে দাঁড়িয়ে সম্ভাষণ জানাবে তো ন-মো স্টেডিয়ামের গ‍্যালারি?

Author

You may also like

Leave a Comment

Description. online stores, news, magazine or review sites.

Edtior's Picks

Latest Articles