বাংলাস্ফিয়ার: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচনের প্রক্রিয়ায় তাঁরও মতামত থাকা উচিৎ। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট যে তিনি ইরানের ক্ষমতার উত্তরাধিকার নিয়ে সরাসরি অবস্থান নিচ্ছেন। ট্রাম্পের মতে, সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে আলোচিত মোজতবা খামেনেই “গ্রহণযোগ্য” নন।
মোজতবা হলেন নিহত ইরানি সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনেইর ছেলে এবং তেহরানের ক্ষমতার অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরে প্রভাবশালী এক ব্যক্তিত্ব হিসেবে বিবেচিত। তবে ট্রাম্প প্রকাশ্যে বলেছেন, তিনি এমন কাউকে দেখতে চান যিনি “ইরানে শান্তি ও সম্প্রীতি ফিরিয়ে আনতে পারবেন।” এই মন্তব্য কার্যত ইঙ্গিত দিচ্ছে যে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নিয়ে সরাসরি রাজনৈতিক অবস্থান নিতে প্রস্তুত।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের আইনসভায়ও এই ইস্যু নিয়ে বড় বিতর্ক হয়। মার্কিন কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ United States House of Representatives একটি প্রস্তাব খারিজ করে দিয়েছে, যেখানে বলা হয়েছিল প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালানোর আগে কংগ্রেসের অনুমতি নিতে হবে। প্রস্তাবটি প্রত্যাখ্যাত হওয়ার ফলে প্রেসিডেন্টের হাতে কার্যত আরও বিস্তৃত সামরিক ক্ষমতা রয়ে গেল।
ফলে পরিস্থিতি এখন এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে যেখানে দুটি সমান্তরাল প্রক্রিয়া চলছে। একদিকে ইরানের অভ্যন্তরে নতুন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচন নিয়ে ক্ষমতার লড়াই, অন্যদিকে ওয়াশিংটন সেই প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করার ইঙ্গিত দিচ্ছে। এই অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যের—বা আরও নির্দিষ্ট করে বললে পশ্চিম এশিয়ার—রাজনীতিকে আরও অস্থির করে তুলতে পারে, কারণ ইরানের রাজনৈতিক নেতৃত্বের প্রশ্নটি ঐতিহাসিকভাবে দেশটির সার্বভৌমত্ব ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত।