বাংলাস্ফিয়ার: ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন সামরিক হামলার সিদ্ধান্ত ঘিরে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নিজস্ব রাজনৈতিক ঘাঁটি—যা সাধারণত “MAGA” আন্দোলন নামে পরিচিত—তার মধ্যেই তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরে প্রতিশ্রুতি দিয়ে এসেছিলেন যে তিনি আমেরিকার তথাকথিত “forever wars” বা অন্তহীন বিদেশি যুদ্ধের অবসান ঘটাবেন এবং দেশের ভেতরের অর্থনীতি ও রাজনীতির ওপর মনোযোগ দেবেন। ফলে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক আঘাত অনেক সমর্থকের কাছে সেই প্রতিশ্রুতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে মনে হচ্ছে।
এই সমালোচনার অন্যতম মুখ হয়ে উঠেছেন দুই প্রভাবশালী রক্ষণশীল মিডিয়া ব্যক্তিত্ব—টাকার কার্লসন এবং মেগেন কেলি। তাঁরা প্রকাশ্যে প্রশ্ন তুলেছেন, এই যুদ্ধে যাওয়ার সিদ্ধান্তে যুক্তরাষ্ট্র কি নিজের কৌশলগত স্বার্থে কাজ করছে, নাকি ইসরায়েলের চাপ এতে ভূমিকা রেখেছে। বিশেষ করে কার্লসন ও কেলি ইঙ্গিত করেছেন যে ইসরায়েলের নিরাপত্তা উদ্বেগই ট্রাম্পকে এই পথে ঠেলে দিয়েছে। তবে ট্রাম্প এই অভিযোগ দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করেছেন।
প্রেসিডেন্ট একই সঙ্গে এই ধারণাও খারিজ করে দিয়েছেন যে কয়েকজন জনপ্রিয় MAGA-ঘনিষ্ঠ ভাষ্যকার তাঁর রাজনৈতিক আন্দোলনের প্রকৃত প্রতিনিধিত্ব করেন। তাঁর বক্তব্য ছিল সংক্ষিপ্ত কিন্তু স্পষ্ট: “MAGA is Trump”—অর্থাৎ আন্দোলনের মূল পরিচয়ই তাঁর নেতৃত্ব।
সাম্প্রতিক একটি জরিপও দেখাচ্ছে যে বাস্তবে ট্রাম্পের রাজনৈতিক ভিত্তি এখনো বড় মাত্রায় তাঁর পাশে রয়েছে। YouGov এবং The Economist-এর যৌথ জরিপ অনুযায়ী, যারা নিজেদের “MAGA Republicans” হিসেবে পরিচয় দেন তাদের প্রায় ৮৫ শতাংশ ইরানের বিরুদ্ধে হামলাকে সমর্থন করেছেন। এমনকি যারা MAGA পরিচয়ের বাইরে থাকা রিপাবলিকান ভোটার, তাদের মধ্যেও প্রায় ৬৩ শতাংশ এই সামরিক পদক্ষেপকে সমর্থন করেছেন।
ফলে আপাতত দেখা যাচ্ছে, মিডিয়ায় কিছু উচ্চকণ্ঠ সমালোচনা থাকলেও ট্রাম্পের মূল রাজনৈতিক ঘাঁটি এখনো তাঁর নেতৃত্ব অনুসরণ করছে। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে যুদ্ধ যদি বিস্তৃত হয় বা মার্কিন হতাহতের সংখ্যা বাড়ে, তাহলে এই অভ্যন্তরীণ মতভেদ আরও বড় রাজনৈতিক সংকটে রূপ নিতে পারে।