বাংলাস্ফিয়ার: মার্কিন কংগ্রেসের হাউস ওভারসাইট কমিটি সোমবার সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন এবং সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটনের জবানবন্দির ভিডিও প্রকাশ করেছে। গত সপ্তাহে বন্ধ দরজার আড়ালে নেওয়া এই জবানবন্দিগুলি কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফ্রি এপস্টাইন এবং দোষী সাব্যস্ত মানবপাচারকারী ঘিসলেইন ম্যাক্সওয়েলের বিরুদ্ধে তদন্তের অংশ হিসেবে রেকর্ড করা হয়। প্রতিটি ভিডিওর দৈর্ঘ্য প্রায় সাড়ে চার ঘণ্টা। হিলারি ক্লিনটন বৃহস্পতিবার এবং বিল ক্লিনটন শুক্রবার কমিটির সামনে হাজির হন। এনবিসি নিউজ জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলির পর্যালোচনার পর জবানবন্দির লিখিত প্রতিলিপিও প্রকাশ করা হবে।
রিপাবলিকানদের নিয়ন্ত্রণাধীন এই কমিটি এপস্টাইনের যোগাযোগ নেটওয়ার্ক এবং তাঁর বিচার ও মৃত্যুকে ঘিরে সম্ভাব্য প্রাতিষ্ঠানিক ব্যর্থতা খতিয়ে দেখছে। এপস্টাইনের সঙ্গে সম্পর্কিত কোনও অপরাধে ক্লিনটন দম্পতির বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়নি। বিল ক্লিনটন পূর্বে স্বীকার করেছেন, ২০০০-এর শুরুর দিকে ক্লিনটন ফাউন্ডেশনের ভ্রমণের কাজে তিনি এপস্টাইনের ব্যক্তিগত বিমানে চড়েছিলেন তবে সেই সময় এপস্টাইনের বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি মামলা ছিল না। হিলারি ক্লিনটন বলেছেন, তিনি এপস্টাইনের সঙ্গে সাক্ষাতের কথা মনে করতে পারেন না, তবে ম্যাক্সওয়েলকে তিনি পরিচিত হিসেবে উল্লেখ করেছেন। বর্তমানে ম্যাক্সওয়েল যৌন পাচারের অপরাধে ২০ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করছেন।
জবানবন্দির পর বিল ক্লিনটন এক্স-এ (সাবেক টুইটার) দেওয়া বিবৃতিতে জানান, এপস্টাইনের সঙ্গে তাঁর “স্বল্প পরিচয়” বহু বছর আগেই শেষ হয়েছিল, এবং তিনি কখনও এমন কিছু প্রত্যক্ষ করেননি যা থেকে এপস্টাইনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের ইঙ্গিত মিলত। তিনি বলেন, ভবিষ্যতে এই ধরণের জঘন্য অপরাধ রুখতেই তিনি “যতটুকু জানেন” তা কমিটির সামনে তুলে ধরেছেন। তাঁর বক্তব্য, যদি তিনি এপস্টাইনের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে সামান্যতম আঁচও পেতেন, তবে নিজেই তাঁকে কর্তৃপক্ষের হাতে তুলে দিতেন।
জবানবন্দির সময় একটি প্রশ্ন ছিল, তিনি কি ম্যাক্সওয়েলকে কখনও ইমেল পাঠিয়েছিলেন? বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, তাঁর জবাব ছিল – না। প্রসঙ্গত, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও একবার বলেছিলেন, “আমি ইমেলের মানুষ নই। আমি এতে বিশ্বাস করি না।” ক্লিনটনের জবাবেও যেন সেই একই অনাগ্রহের সুর ফুটে উঠেছে।