বাংলাস্ফিয়ার: সোমবার হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘাড়ের ডান পাশে দেখা যাওয়া বড় লালচে দাগটি একটি ত্বক-চিকিৎসার ক্রিম ব্যবহারের ফল। তবে সেই ক্রিমটি ঠিক কোন রোগের জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে, তা নিয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
সোমবার হোয়াইট হাউসের ইস্ট রুমে এক মেডাল অফ অনার প্রদান অনুষ্ঠানে সংবাদচিত্রগ্রাহকদের তোলা ঘনিষ্ঠ ছবিতে প্রেসিডেন্টের ঘাড়ের ওই লালচে অংশ স্পষ্টভাবে ধরা পড়ে। এর পরেই বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। প্রেসিডেন্টের চিকিৎসক শন বারবাবেলা এক বিবৃতিতে বলেন, “প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তাঁর ঘাড়ের ডান পাশে একটি অত্যন্ত সাধারণ ক্রিম ব্যবহার করছেন, যা প্রতিরোধমূলক ত্বক-চিকিৎসা হিসেবে হোয়াইট হাউসের চিকিৎসক দ্বারা নির্ধারিত।” তিনি আরও জানান, প্রেসিডেন্ট এক সপ্তাহ ধরে এই চিকিৎসা নিচ্ছেন এবং লালচে ভাব কয়েক সপ্তাহ পর্যন্ত থাকতে পারে।
তবে হোয়াইট হাউস পরবর্তী প্রশ্নগুলির জবাব দেয়নি—যেমন, ক্রিমটির নাম কী, ঠিক কবে থেকে চিকিৎসা শুরু হয়েছে, কিংবা এটি কোন সমস্যার প্রতিরোধে ব্যবহৃত হচ্ছে। ১৯ ফেব্রুয়ারি জর্জিয়ার রোম সফরের সময় তোলা ছবিতেও প্রেসিডেন্টের ঘাড়ে লালচে দাগ দেখা গিয়েছিল, যা থেকে অনুমান করা হচ্ছে, বিষয়টি অন্তত কয়েক সপ্তাহ আগের।
২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে তাঁর বার্ষিক স্বাস্থ্য পরীক্ষার প্রতিবেদনে উল্লেখ ছিল, তিনি একটি অনির্দিষ্ট ত্বক সমস্যার জন্য প্রয়োজনে মোমেটাসোন ক্রিম ব্যবহার করেন। গত জানুয়ারিতে শপথ নেওয়ার সময় ৭৯ বছর বয়সী ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে শপথগ্রহণকারী সবচেয়ে বয়স্ক প্রেসিডেন্ট হন। বিশেষত তাঁর বয়সের কারণে তাঁর স্বাস্থ্য নিয়ে জনমাধ্যম ও রাজনৈতিক মহলে কৌতূহল ও নজরদারি স্বাভাবিকভাবেই বেশি।
বারবাবেলা ডিসেম্বর মাসে জানিয়েছিলেন, অক্টোবর মাসে বয়সজনিত নিয়মিত পরীক্ষার অংশ হিসেবে ট্রাম্পের হৃদ্যন্ত্র ও উদরদেশের এমআরআই স্ক্যান করা হয়েছিল, যার ফলাফল ছিল “সম্পূর্ণ স্বাভাবিক।” ওয়াল্টার রিড ন্যাশনাল মিলিটারি মেডিক্যাল সেন্টারে হওয়া সেই পরীক্ষায় তাঁকে সামগ্রিকভাবে “ব্যতিক্রমী সুস্বাস্থ্যের অধিকারী” বলে উল্লেখ করা হয়।
এদিকে, সিএনএন জানিয়েছে, প্রেসিডেন্টের দুই হাতের পিঠে প্রায়শই দেখা যাওয়া কালশিটে দাগ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। ট্রাম্পের বক্তব্য, অতিরিক্ত করমর্দন এবং প্রতিদিনের সুপারিশকৃত মাত্রার চেয়ে বেশি অ্যাসপিরিন গ্রহণের ফলেই ওই দাগগুলি হচ্ছে। সব মিলিয়ে, প্রেসিডেন্টের স্বাস্থ্য পরিস্থিতি নিয়ে জনপরিসরে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।