বাংলাস্ফিয়ার: ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো ইঙ্গিত দিয়েছেন, মাঠে প্রতিপক্ষের সঙ্গে মুখোমুখি তর্কের সময় কোনও ফুটবলার যদি নিজের মুখ ঢেকে কথা বলেন এবং পরে তা বর্ণবাদী মন্তব্য হিসেবে প্রমাণিত হয়, তবে সরাসরি লাল কার্ড দেখানো হতে পারে। তাঁর মতে, বর্ণবাদের বিরুদ্ধে লড়াইকে কার্যকর করতে হলে কঠোর বার্তা দেওয়া জরুরি।
সাম্প্রতিক এক চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ম্যাচকে কেন্দ্র করে বিষয়টি সামনে আসে। Vinícius Júnior অভিযোগ করেন, বেনফিকার তরুণ খেলোয়াড় Gianluca Prestianni তাঁকে বর্ণবাদী মন্তব্য করেন। ম্যাচ চলাকালীন প্রেস্টিয়ান্নি নিজের জার্সি দিয়ে মুখ ঢেকে ভিনিসিয়ুসের সঙ্গে কথা বলছিলেন যা সন্দেহের জন্ম দেয়। প্রেস্টিয়ান্নি অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তদন্ত চলাকালীন তাঁকে প্লে-অফের দ্বিতীয় লেগ থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়।
এই প্রেক্ষাপটে শনিবার আন্তর্জাতিক ফুটবল নিয়ন্ত্রক সংস্থা International Football Association Board (আইএফএবি)-এর বৈঠকে বিষয়টি আলোচনা হয়। সম্ভাব্য নিয়ম পরিবর্তন এ বছরের গ্রীষ্মে অনুষ্ঠিতব্য বিশ্বকাপ থেকেই কার্যকর হতে পারে।
স্কাই নিউজকে ইনফান্তিনো বলেন, “কোনও খেলোয়াড় যদি মুখ ঢেকে কিছু বলে এবং তার বর্ণবাদী পরিণতি থাকে, তবে তাকে অবশ্যই মাঠ থেকে বের করে দিতে হবে। স্পষ্টতই ধরে নিতে হবে, সে এমন কিছু বলেছে যা বলা উচিত ছিল না, নইলে মুখ ঢাকার প্রয়োজন পড়ত না।” ইনফান্তিনোর মতে, ফুটবলে বর্ণবাদের বিরুদ্ধে লড়াইকে কার্যকর ও বিশ্বাসযোগ্য করতে হলে কঠোর এবং স্পষ্ট বার্তা দেওয়া জরুরি। কেবল নীতিগত অবস্থান নয়, প্রয়োগের ক্ষেত্রেও দৃশ্যমান কঠোরতা থাকতে হবে বলেই তিনি মনে করেন।
ফুটবলে দীর্ঘদিন ধরেই বর্ণবাদবিরোধী নীতিমালা জোরদার করার দাবি উঠছে। মুখ ঢেকে কথা বলার প্রবণতা যা টেলিভিশন ক্যামেরা ও ঠোঁট পড়ার বিশ্লেষণ এড়ানোর একটি উপায় হিসেবে দেখা হয়, এখন নিয়মতান্ত্রিকভাবে শাস্তিযোগ্য আচরণ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। বিষয়টি কার্যকর হলে ম্যাচ পরিচালনা ও প্রমাণ সংগ্রহের পদ্ধতিতেও নতুন দৃষ্টান্ত তৈরি হতে পারে।