Home খবরবঙ্গের ভোট রঙ্গ অভিন্ন দেওয়ানি বিধি: বিজেপির তুরুপের তাস, নাকি মমতার রাজনৈতিক অক্সিজেন?

অভিন্ন দেওয়ানি বিধি: বিজেপির তুরুপের তাস, নাকি মমতার রাজনৈতিক অক্সিজেন?

0 comments 11 views
A+A-
Reset

ভূমিকা: একটি প্রশ্নের দুটি উত্তর

২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির ইশতেহারে সবচেয়ে বেশি আলোচনার জন্ম দিয়েছে একটিই প্রতিশ্রুতি — অভিন্ন দেওয়ানি বিধি, যা ইউনিফর্ম সিভিল কোড বা সংক্ষেপে UCC নামে পরিচিত। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ‘সংকল্প পত্র’ প্রকাশ করে ঘোষণা করেছেন, বিজেপি ক্ষমতায় এলে মাত্র ছয় মাসের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গে UCC কার্যকর করা হবে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও মুর্শিদাবাদের জনসভায় একই প্রতিশ্রুতি দিয়ে জানিয়েছেন, UCC চালু করে ‘তোষণের রাজনীতি’র অবসান ঘটানো হবে।

কিন্তু রাজনৈতিক বাস্তবতা এখানে একটি জটিল প্রশ্ন সামনে নিয়ে আসে: এই প্রতিশ্রুতি কি বিজেপির হিন্দু ভোট একত্রিত করার সুচিন্তিত কৌশল, নাকি এটি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতেই তুলে দিচ্ছে আরও বড় এক রাজনৈতিক অস্ত্র?

UCC কী এবং তার বিতর্কিত ইতিহাস

অভিন্ন দেওয়ানি বিধির মূল কথা হল — বিবাহ, বিবাহবিচ্ছেদ, উত্তরাধিকার এবং দত্তক গ্রহণের মতো বিষয়গুলিতে সব ধর্মের নাগরিকের জন্য একটিমাত্র অভিন্ন সংহিতা প্রণয়ন করা। বর্তমানে ভারতে এই বিষয়গুলিতে প্রতিটি ধর্মের আলাদা ব্যক্তিগত আইন প্রযোজ্য। হিন্দু, মুসলিম, খ্রিস্টান, পারসি — প্রতিটি সম্প্রদায়ের জন্য পৃথক পারিবারিক আইন বিদ্যমান।

উত্তরাখণ্ড ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে দেশের প্রথম রাজ্য হিসেবে UCC চালু করে। এরপর ২০২৬ সালের মার্চে গুজরাটও কঠোর UCC আইন পাস করেছে। বিজেপির পরিকল্পনাটি তাই স্বচ্ছ: কেন্দ্রীয় স্তরে জোটের জটিলতায় যে UCC আনা সম্ভব হয়নি, তা রাজ্যের পর রাজ্যে ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা। পশ্চিমবঙ্গ এই কৌশলের পরবর্তী লক্ষ্যবস্তু।

পশ্চিমবঙ্গের ভোট-ভূগোল: সংখ্যার রাজনীতি

পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনী গণিত বুঝতে হলে আগে রাজ্যের জনতাত্ত্বিক বাস্তবতাটি ভালো করে বুঝতে হবে। রাজ্যের মোট জনসংখ্যার ২৭ থেকে ২৮ শতাংশ মুসলিম সম্প্রদায়ের। এ বছরের বিধানসভা নির্বাচনে প্রায় ৩০ শতাংশ ভোটার মুসলমান। পর্যবেক্ষকদের অনুমান, এবারের লড়াইয়ে ব্যবধান অল্পই হবে। ফলে এই ২৭ থেকে ৩০ শতাংশ মুসলিম ভোটই হতে পারে নির্বাচনের ফলাফল নির্ধারক শক্তি।

নির্বাচন কমিশনের হিসাব বলছে, রাজ্যের ২৯৪টি আসনের মধ্যে ১২৫টিতে মুসলিম জনসংখ্যা উল্লেখযোগ্য। অন্তত ৭০টি বিধানসভা কেন্দ্রে প্রার্থীর জয়-পরাজয় সরাসরি নির্ভর করতে পারে মুসলিম ভোটারদের সিদ্ধান্তের ওপর। মুর্শিদাবাদ ও মালদা জেলায় মুসলিম জনসংখ্যা যথাক্রমে প্রায় ৬৬.৩ শতাংশ ও ৫১.৩ শতাংশ। উত্তর দিনাজপুরে এই অনুপাত ৪৯.৯ শতাংশ, বীরভূমে ৩৭.১ শতাংশ এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনায় ৩৫.৬ শতাংশ।

এই পরিসংখ্যান মাথায় রাখলেই স্পষ্ট হয়, UCC প্রতিশ্রুতি কেন এত বিস্ফোরক। সংখ্যালঘু ভোটারদের একটি বড় অংশ যদি তীব্রভাবে বিজেপি-বিরোধী অবস্থানে চলে যায়, তাহলে ১৫০টিরও বেশি আসনে তার গভীর প্রভাব পড়তে পারে।

বিজেপির কৌশল: মেরুকরণের গণিত

UCC ইস্যু সামনে আনার পেছনে বিজেপির মূলত কয়েকটি স্পষ্ট রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে।

প্রথমত, হিন্দু ভোটের একত্রীকরণ। পশ্চিমবঙ্গের জনসংখ্যার ৭০ শতাংশেরও বেশি হিন্দু। কিন্তু ঐতিহাসিকভাবে এই ভোট জাত, শ্রেণি ও অঞ্চলভেদে বিভক্ত। বিজেপির ধারণা, UCC-র মতো মতাদর্শগত ইস্যু তুলে হিন্দু পরিচয়বাদের একটি সাধারণ মঞ্চ তৈরি করা সম্ভব। অযোধ্যা কিংবা ৩৭০ ধারা বিলোপের মতো ইস্যু যেভাবে হিন্দু ভোট একজোট করতে সহায়তা করেছে, UCC সেই তালিকায় পরবর্তী সংযোজন।

দ্বিতীয়ত, নারী ভোটারদের আকর্ষণ। বিজেপি UCC-কে সাম্য ও লিঙ্গ ন্যায়বিচারের প্রতীক হিসেবে তুলে ধরছে। মুসলিম ব্যক্তিগত আইনে তিন তালাক ও বহু বিবাহের মতো বিতর্কিত বিধানগুলিকে সামনে এনে বিজেপির বক্তব্য — সব নারীর সমান অধিকার নিশ্চিত করতে হলে UCC অপরিহার্য।

তৃতীয়ত, মমতার ‘তোষণ’ আখ্যানকে প্রতিষ্ঠিত করা। বিজেপি দীর্ঘদিন ধরেই দাবি করে আসছে যে তৃণমূল সংখ্যালঘু তোষণ করে এবং হিন্দুদের স্বার্থ উপেক্ষা করে। UCC নিয়ে মমতার প্রতিরোধী অবস্থান বিজেপির এই আখ্যানকে আরও শক্তিশালী করে তোলে।

মমতার পাল্টা কৌশল: প্রতিরোধ থেকে পুনর্গঠন

বিজেপির এই রাজনৈতিক চালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দ্রুত এবং দৃঢ়ভাবে সাড়া দিয়েছেন। তিনি ঘোষণা করেছেন, UCC-র তীব্র বিরোধিতা করবেন এবং তৃণমূল সংখ্যাগরিষ্ঠতায় ফিরলে এই বিল বাতিল করা হবে।

মমতার রাজনৈতিক লাভের হিসাবটি তিনটি স্তরে কাজ করছে।

প্রথম স্তরে মুসলিম ভোটের একচেটিয়া দখল। UCC নিয়ে বিজেপির আগ্রাসী অবস্থান মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে গভীর উদ্বেগ তৈরি করছে। ব্যক্তিগত আইনের সুরক্ষা নিয়ে এই আশঙ্কা মমতার পক্ষে মুসলিম ভোটকে আরও মজবুতভাবে জমাট বাঁধাচ্ছে। ২০১১ সাল থেকেই তৃণমূলের এই ভোটব্যাঙ্কে কার্যত একচেটিয়া আধিপত্য রয়েছে। UCC বিতর্ক সেই দখলকে আরও পোক্ত করে তুলতে পারে।

দ্বিতীয় স্তরে ধর্মনিরপেক্ষ হিন্দু ভোটের সম্ভাবনা। পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক সংস্কৃতি ঐতিহ্যগতভাবে ধর্মনিরপেক্ষতার দিকে ঝুঁকে থেকেছে। বামপন্থী রাজনীতির দীর্ঘ উত্তরাধিকার এখানকার একটি বড় অংশের মানুষকে সাম্প্রদায়িক রাজনীতির বিষয়ে সন্দিহান করে রেখেছে। শিক্ষিত মধ্যবিত্ত হিন্দু ভোটারদের একটি অংশ উন্নয়ন ও সুশাসন চান, কিন্তু ধর্মীয় মেরুকরণকে সন্দেহের চোখে দেখেন। মমতা এই মানুষদের কাছে বার্তা দিতে চাইছেন যে বিজেপির UCC প্রকল্প আসলে প্রকৃত সংস্কারের উদ্যোগ নয়, নির্বাচনী মেরুকরণের হাতিয়ার মাত্র।

তৃতীয় স্তরে বাঙালি সংস্কৃতির আবেগ। মমতার সবচেয়ে কার্যকর অস্ত্র হল বাঙালি পরিচয়বাদ। পশ্চিমবঙ্গের মানুষ প্রায়ই ‘বাঙালি’ পরিচয়কে হিন্দু বা মুসলিম পরিচয়ের চেয়েও বেশি গুরুত্ব দেন। মমতা UCC-কে কেন্দ্রের ‘হিন্দি-বলয়ের রাজনীতি’র অনুপ্রবেশ হিসেবে উপস্থাপন করে বাঙালি জাতীয়তাবাদী আবেগকে সফলভাবে কাজে লাগাচ্ছেন।

বিজেপির দুর্বল জায়গা: যেখানে UCC উল্টে যেতে পারে

UCC প্রতিশ্রুতি বিজেপির জন্য আসলে একটি দ্বিমুখী তলোয়ার।

প্রথম সমস্যা: সংখ্যার বিপরীতে বাজি। মুর্শিদাবাদ এবং মালদার মতো সংখ্যালঘু-ঘন অঞ্চলে UCC ইস্যু আরও শক্তিশালী বিজেপি-বিরোধী একজোট তৈরি করতে পারে — যেখানে দল এমনিতেই দুর্বল। মেরুকরণে হিন্দু ভোট কিছুটা বাড়লেও সংখ্যালঘু ভোট যদি আরও ঐক্যবদ্ধভাবে তৃণমূলের পাশে দাঁড়ায়, সেই ভারসাম্যে শেষ পর্যন্ত বিজেপির ক্ষতিই বেশি হওয়ার সম্ভাবনা।

দ্বিতীয় সমস্যা: বিশ্বাসযোগ্যতার সংকট। উত্তরাখণ্ডে UCC চালু হওয়ার পর সাধারণ মানুষের জীবনে বাস্তব পরিবর্তন কতটা এসেছে, তা নিয়ে ব্যাপক সংশয় রয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের ভোটাররা যদি বুঝতে পারেন যে UCC মূলত একটি নির্বাচনী প্রচারের হাতিয়ার — প্রকৃত সংস্কারের বাহন নয় — তাহলে এই ইস্যুর আবেদন উল্লেখযোগ্যভাবে দুর্বল হয়ে পড়বে।

তৃতীয় সমস্যা: আদিবাসী ও উপজাতি সমাজের উদ্বেগ। উত্তরবঙ্গের আদিবাসী সম্প্রদায়গুলির নিজস্ব প্রথাগত আইন রয়েছে। UCC তাদের সেই প্রথাগত অধিকারকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে বলে আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিজেপির গুরুত্বপূর্ণ ভোটভিত্তি এই জনজাতি সমাজের মধ্যেও UCC নিয়ে অস্বস্তি তৈরি হতে পারে।

চতুর্থ সমস্যা: বাস্তবায়নের জটিলতা। ছয় মাসের মধ্যে পুরো পশ্চিমবঙ্গে UCC কার্যকর করার প্রতিশ্রুতি নির্বাচনী বক্তৃতায় চমৎকার শোনায়, কিন্তু আইনি ও প্রশাসনিক বাস্তবতা সম্পূর্ণ ভিন্ন কথা বলে। এই প্রতিশ্রুতি পূরণ না হলে বিজেপির বিশ্বাসযোগ্যতায় গুরুতর আঘাত আসবে।

মেরুকরণের তত্ত্ব এবং তার সীমাবদ্ধতা

বিজেপির কেন্দ্রীয় নির্বাচনী কৌশলের মূল ভাবনা হল সর্বোচ্চ ধর্মীয় মেরুকরণ ঘটানো। তত্ত্বটি সহজ: নির্বাচন যদি ‘হিন্দু বনাম মুসলিম’ রেখায় লড়া হয়, এবং সংখ্যাগরিষ্ঠ হিন্দু ভোট যদি বিজেপির দিকে আসে, তাহলে জয় নিশ্চিত। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গে এই তত্ত্বের গায়ে একটি বড় ফাটল রয়েছে। হিন্দু ভোট এখানে কখনই শুধুমাত্র পরিচয়বাদী কারণে একজোট হয়নি। শ্রেণি, জাত, অঞ্চল, অর্থনৈতিক স্বার্থ — এই বহু বিভাজক শক্তি বাঙালি হিন্দু ভোটারের রাজনৈতিক আচরণ নির্ধারণ করে। ২০২১ সালের নির্বাচনে বিজেপি ৭৭টি আসন পেয়েছিল বটে, কিন্তু সংখ্যাগরিষ্ঠতা থেকে থেকে গিয়েছিল অনেক দূরে — কারণ হিন্দু ভোটের বড় অংশ তখনও তৃণমূলের পাশেই রইল।

এখানে মমতার সবচেয়ে বড় সুবিধাটি হল ব্যক্তিগত পরিচয়। তিনি নিজে একজন হিন্দু মহিলা, মন্দিরে যান, কালীপুজো করেন। তাঁকে ‘মুসলিম তোষণকারী’ হিসেবে চিত্রিত করা বিজেপির পক্ষে যতটা সহজ শোনায়, বাস্তবে ততটা নয়।

সমীকরণ পাল্টাতে পারে যা

UCC ছাড়াও আরও কিছু বিষয় নির্বাচনী সমীকরণকে প্রভাবিত করবে।

বিজেপির ইশতেহারে UCC-র পাশাপাশি মহিলাদের জন্য মাসিক ৩,০০০ টাকার সরাসরি আর্থিক সুবিধার প্রতিশ্রুতিও রয়েছে। মমতার ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্পের বিপরীতে এই প্রতিশ্রুতি একটি বাস্তব অর্থনৈতিক লড়াইয়ের রূপ নিচ্ছে। গরিব পরিবারের মহিলারা অনেক সময় মতাদর্শগত ইস্যুর চেয়ে জীবিকার প্রতিশ্রুতিকে বেশি গুরুত্ব দেন।

পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক হিংসার দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। সাধারণ মানুষের মধ্যে এ নিয়ে ক্লান্তি এবং ক্ষোভ জমে আছে। বিজেপি এই ইস্যুতেও রাজনৈতিক ফায়দা তুলতে চাইছে।

এর পাশাপাশি, ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ায় মুসলিম ভোটারদের নাম মুছে ফেলার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ভবানীপুরে মুছে যাওয়া ভোটারদের ৪০ শতাংশেরও বেশি মুসলিম — অথচ সম্প্রদায়টি ওই নির্বাচনক্ষেত্রের মাত্র ২০ শতাংশ। এই বিতর্ক সংখ্যালঘু সমাজে বিজেপি-বিরোধী মনোভাবকে আরও তীব্র করে তুলবে।

তুলনামূলক দৃষ্টিভঙ্গি: অন্য রাজ্যের অভিজ্ঞতা

অন্য রাজ্যের অভিজ্ঞতা এখানে প্রাসঙ্গিক। উত্তরাখণ্ডে UCC বাস্তবায়নের পরে রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিজেপির পক্ষে স্থিতিশীলই রয়েছে। কিন্তু উত্তরাখণ্ডে সংখ্যালঘু জনসংখ্যা মাত্র ১৩ থেকে ১৪ শতাংশ — পশ্চিমবঙ্গের তুলনায় প্রায় অর্ধেক। এই পার্থক্যটি মৌলিক এবং গভীরভাবে তাৎপর্যপূর্ণ।

বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী পশ্চিমবঙ্গে হিন্দু-মুসলিম সম্পর্কের একটি জটিল ও বহুস্তরীয় ঐতিহাসিক পটভূমি রয়েছে। এখানে UCC-র মতো বিষয় কেবল আইনি পরিবর্তনের প্রশ্ন নয়, বরং তা স্পর্শ করে পরিচয়, আস্থা এবং সহাবস্থানের গভীর সংবেদনশীল প্রশ্নগুলিকে।

উপসংহার: জটিল সত্যের মুখোমুখি

পশ্চিমবঙ্গে UCC-র প্রতিশ্রুতি এক জটিল রাজনৈতিক পরীক্ষা, যার কোনো সরল উত্তর নেই।

একদিকের সত্য হল, UCC হিন্দু ভোটের একটি অংশকে বিজেপির দিকে টানতে পারে। নারী সাম্য এবং আইনের অভিন্নতার যুক্তি নিঃসন্দেহে শক্তিশালী। অন্যদিকের সত্য এই যে, পশ্চিমবঙ্গের জনতাত্ত্বিক বাস্তবতায় সংখ্যালঘু ভোট একজোট হওয়া তৃণমূলকে এমন একটি শক্ত ভিত্তি দেয়, যা ভাঙা অত্যন্ত কঠিন।

UCC প্রতিশ্রুতি তাই বিজেপির জন্য যতটা তুরুপের তাস, মমতার জন্য ততটাই রাজনৈতিক অক্সিজেন। UCC-বিরোধী অবস্থান নিয়ে মমতা কেবল মুসলিম ভোটারদের কাছে নয়, সেই সব মানুষের কাছেও বার্তা পৌঁছে দিচ্ছেন যাঁরা মনে করেন ধর্মীয় বৈচিত্র্য ও সহাবস্থানই পশ্চিমবঙ্গের আসল ঐতিহ্য।

পরিশেষে এই প্রশ্নের উত্তর লুকিয়ে থাকবে ২৩ ও ২৯ এপ্রিলের ভোট বাক্সে — সেই বাক্সে যেখানে কোটি মানুষের নীরব রায় নির্ধারণ করবে কোন গণিত সত্যিকারের, আর কোনটি কেবলই রাজনৈতিক হিসেবের খেলা।

Author

You may also like

Leave a Comment

Description. online stores, news, magazine or review sites.

Edtior's Picks

Latest Articles