Table of Contents
বাংলাস্ফিয়ার: ব্যায়ামের উপকারিতা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই, কিন্তু দিনের কোন সময়ে ব্যায়াম করলে সবচেয়ে বেশি ফল পাওয়া যায় — এই প্রশ্নটি দীর্ঘদিন ধরেই স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মধ্যে আলোচনার বিষয়। সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক গবেষণাগুলি এই বিষয়ে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে এনেছে।
শরীরের জৈবিক ঘড়িই নির্ধারণ করে সেরা সময়
বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, মানবদেহের সার্কেডিয়ান রিদম বা জৈবিক ছন্দ ব্যায়ামের কার্যকারিতার উপর সরাসরি প্রভাব ফেলে। শরীরের হরমোন, পেশির কার্যক্ষমতা এবং স্নায়ুতন্ত্র — সবই দিনের নির্দিষ্ট সময়ে ভিন্নভাবে কাজ করে।
সকালের ব্যায়াম: রক্তচাপ ও ঘুমে বিশেষ সুফল
গবেষণায় দেখা গেছে, সকাল ৮টার দিকে কর্টিসল হরমোন সর্বোচ্চ মাত্রায় থাকে। এই সময়ে ব্যায়াম করলে শরীর স্বাভাবিকভাবেই বেশি প্রস্তুত থাকে।
উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকিতে থাকা ২০ জন প্রাপ্তবয়স্কের উপর পরিচালিত একটি গবেষণায় দেখা গেছে, সকাল ৭টায় ব্যায়াম করলে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সবচেয়ে ভালো ফল পাওয়া যায়। এ ছাড়া, সকালে নিয়মিত ব্যায়ামকারীরা রাতে গভীর ঘুমে বেশি সময় কাটান এবং ঘুম ভাঙার প্রবণতাও কম দেখা যায়।
খালি পেটে সকালের ব্যায়াম ফ্যাট বার্নের ক্ষেত্রেও বিশেষভাবে কার্যকর বলে জানিয়েছেন গবেষকরা।
সন্ধ্যার ব্যায়াম: পেশি গঠন ও ডায়াবিটিস নিয়ন্ত্রণে এগিয়ে
অন্যদিকে, সন্ধ্যায় শরীরের কোর তাপমাত্রা বেশি থাকায় পেশির শক্তি ও নমনীয়তা তখন সর্বোচ্চ পর্যায়ে থাকে। ২৪ সপ্তাহব্যাপী একটি গবেষণায় দেখা গেছে, সন্ধ্যায় স্ট্রেংথ ও এন্ডুরেন্স ট্রেনিং করলে পেশির আকার বেশি বৃদ্ধি পায়।
সন্ধ্যায় ব্যায়ামকারীরা ক্লান্তিতে পৌঁছাতে ২০ শতাংশ বেশি সময় নেন — অর্থাৎ তারা দীর্ঘক্ষণ ব্যায়াম করতে সক্ষম হন।
ওজন কমানোর ক্ষেত্রেও সন্ধ্যার ব্যায়াম এগিয়ে। ১২ সপ্তাহের একটি গবেষণায় দেখা যায়, সন্ধ্যায় ব্যায়ামকারীদের মধ্যে ৩৩ শতাংশ উল্লেখযোগ্য ওজন হ্রাস পেয়েছেন, যেখানে সকালে ব্যায়ামকারীদের ক্ষেত্রে এই হার ছিল মাত্র ১৯ শতাংশ। টাইপ-২ ডায়াবিটিস নিয়ন্ত্রণেও সন্ধ্যার ব্যায়াম বেশি কার্যকর বলে গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে।
পর্যালোচনায় কী উঠে এলো?
৩৫টি গবেষণা ও ১৭,২৫৯ জন অংশগ্রহণকারীর তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে — ১১টি গবেষণা সকালের ব্যায়ামকে এগিয়ে রেখেছে, ১২টি সন্ধ্যাকে, এবং বাকি ১২টি দুই সময়ের মধ্যে কোনো উল্লেখযোগ্য পার্থক্য খুঁজে পায়নি। মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে উভয় সময়ের ব্যায়ামই সমানভাবে কার্যকর বলে জানিয়েছেন গবেষকরা।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ
লক্ষ্য অনুযায়ী সময় বেছে নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা —
- রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ ও ঘুমের মান উন্নয়নে — সকালের ব্যায়াম
- পেশি গঠন ও স্ট্রেংথ ট্রেনিংয়ে — সন্ধ্যার ব্যায়াম
- ডায়াবিটিস নিয়ন্ত্রণে — সন্ধ্যার ব্যায়াম
- মানসিক চাপ কমাতে — দুই সময়ই সমান কার্যকর
তবে সব বিশেষজ্ঞ একটি বিষয়ে একমত — সেরা সময় হলো সেটাই, যে সময়ে আপনি নিয়মিত ও ধারাবাহিকভাবে ব্যায়াম করতে পারবেন।