লগইনসদস্যতালেখক
হোম›আন্তর্জাতিক›দক্ষিণ এশিয়া›বন্দি ইমরানের পাশে কপিল, পাক ক্রিকেটারদের নীরবতা নিয়েও দিলেন বার্তা
দক্ষিণ এশিয়া

বন্দি ইমরানের পাশে কপিল, পাক ক্রিকেটারদের নীরবতা নিয়েও দিলেন বার্তা

পাকিস্তানের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী তথা বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক ইমরান খানের সঙ্গে মানবিক আচরণের আবেদন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফকে চিঠি লিখেছেন ২১ জন প্রাক্তন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার। সেই আবেদনপত্রে স্বাক্ষরকারীদের অন্যতম ভারতের বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক…

বন্দি ইমরানের পাশে কপিল, পাক ক্রিকেটারদের নীরবতা নিয়েও দিলেন বার্তা

পাকিস্তানের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী তথা বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক ইমরান খানের সঙ্গে মানবিক আচরণের আবেদন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফকে চিঠি লিখেছেন ২১ জন প্রাক্তন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার। সেই আবেদনপত্রে স্বাক্ষরকারীদের অন্যতম ভারতের বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক কপিল দেব। এবার নিজের পুরনো বন্ধু ও একসময়ের প্রতিদ্বন্দ্বীর পাশে দাঁড়ানোর কারণও ব্যাখ্যা করলেন তিনি। একই সঙ্গে ইমরানকে নিয়ে পাকিস্তানের অধিকাংশ প্রাক্তন ক্রিকেটারের নীরবতার জন্য তাঁদের দোষারোপ করতে রাজি হননি কপিল।

আশির দশক থেকে নব্বইয়ের দশকের গোড়া পর্যন্ত বিশ্ব ক্রিকেটের চার কিংবদন্তি সর্বাঙ্গীণ খেলোয়াড় হিসেবে কপিল, ইমরান, নিউজিল্যান্ডের রিচার্ড হ্যাডলি এবং ইংল্যান্ডের ইয়ান বোথামের নাম একসঙ্গে উচ্চারিত হত। ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কের অবনতি হওয়ার আগে দু’দেশের ক্রিকেটারদের মধ্যে মাঠের প্রতিদ্বন্দ্বিতার পাশাপাশি মাঠের বাইরে বন্ধুত্ব, খুনসুটি ও আড্ডাও ছিল। কপিল ও ইমরানের সম্পর্ক ছিল সেই সৌহার্দ্যেরই উজ্জ্বল উদাহরণ। কয়েক দশক পরেও সেই বন্ধন অটুট রয়েছে।

ইমরানের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে পাকিস্তানের ক্রিকেটমহলের নীরবতা অবশ্য চোখে পড়ার মতো। ওয়াসিম আক্রম এবং তাঁর সময়ের হাতে গোনা কয়েক জন ক্রিকেটার ছাড়া অধিকাংশই প্রকাশ্যে মুখ খোলেননি। তবে কপিল তাঁদের অবস্থানকে কঠোরভাবে বিচার করতে চান না। তাঁর বক্তব্য, পাকিস্তানের প্রাক্তন ক্রিকেটারদের সেই দেশেই থাকতে হয়। ফলে তাঁদের নানা বাস্তবতা ও সীমাবদ্ধতার কথা মাথায় রাখা প্রয়োজন। কিন্তু তিনি নিজে সেই বন্ধুর পাশে দাঁড়াতে চান, যাঁকে তাঁরা একসময় শ্রদ্ধা করতেন এবং যাঁর সঙ্গে দীর্ঘদিন খেলেছেন।

গত ছ’মাসে এই নিয়ে দ্বিতীয়বার আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের প্রাক্তন তারকারা ইমরানের জন্য সম্মিলিত আবেদন জানালেন। এর আগে ফেব্রুয়ারিতে ১৪ জন প্রাক্তন অধিনায়ক তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। ইমরানের পরিবারের অভিযোগ ছিল, চিকিৎসায় অবহেলার কারণে তাঁর একটি চোখের দৃষ্টিশক্তি প্রায় সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গিয়েছে। তাঁরা যথাযথ চিকিৎসার পাশাপাশি পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ দেওয়ারও আবেদন জানিয়েছিলেন।

কপিল বলেছেন, পাকিস্তানের আইন সম্পর্কে তাঁদের পূর্ণ ধারণা নেই এবং তাঁরা বিচারব্যবস্থার বিষয়ে কোনও মন্তব্যও করছেন না। তাঁদের দাবি শুধু এটুকুই—যে কোনও বন্দিকে ন্যূনতম মানবিক সুযোগ-সুবিধা দেওয়া উচিত। ইমরান শুধু একজন বন্দি নন; তিনি পাকিস্তানের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী এবং বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ক্রিকেটার। তাই তাঁর সর্বোত্তম চিকিৎসা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। কপিল স্পষ্ট করেছেন, তাঁরা সরকারের কাছে কোনও জবাবদিহি চাইছেন না; কেবল মানবিকতার ভিত্তিতে অনুরোধ জানাচ্ছেন।

এদিকে কলম্বোয় ভারত-শ্রীলঙ্কা দ্বিতীয় টেস্টে যশস্বী জয়সওয়াল ও অসিথা ফার্নান্ডোর উত্তপ্ত সংঘাত নিয়েও মুখ খুলেছেন কপিল। আউট হওয়ার পরে ফার্নান্ডোর মন্তব্যে ক্ষুব্ধ হয়ে তাঁকে মাথা দিয়ে ধাক্কা দিয়েছিলেন যশস্বী। পরে দু’জনেরই ম্যাচ পারিশ্রমিকের ২৫ শতাংশ জরিমানা হয়। কপিলের সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়া—প্রত্যেক খেলোয়াড়ের নিজস্ব চরিত্র ও খেলার ধরন থাকে; যশস্বী যদি এভাবেই খেলতে চান, তবে তাঁর জন্য শুভকামনা।

বাংলাস্ফিয়ার ডেস্ক